আজ আমি আপনাদের এমন একটি গাছের কথা জানাব। যে গাছের শুধু ফল নয় সব কিছুই আমাদের উপকারে আসে। চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই সেই গুণে গুনান্বিত গাছটির কথা । সেই গাছটির নাম হচ্ছে ”বেল গাছ” । এই বেল গাছের ফল,ফুল,গাছের পাতা,গাছের ছাল এমন কি গাছের শিকর ও অনেক উপকারে আসে । বেলের অসাধারন সব গুনাবলী,যেগুলো জানলে চমকে যাবেন । বেল একটি পুষ্টিকর আর উপকারী ফল। কাচা পাকা দুটোই সমান উপকারী। কাচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশায় রোগে ধন্বন্তরী। পাকা বেলের শরবত সুস্বাদু। বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, এ এবং ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাসিয়ামের মত মূল্যবান পুষ্টি উপাদান।

 

বেলের অসাধারন সব গুনাবলী,যেগুলো জানলে চমকে যাবেন অবশ্যই ।

 

বেলের পুষ্টি গুণাগুন

প্রতি ১০০ গ্রাম বেলের শাঁসে পাওয়া যায়: পানি ৫৪.৯৬-৬১.৫ গ্রাম প্রোটিন ১.৮-২.৬২ গ্রাম স্নেহ পদার্থ ০.২-০.৩৯ গ্রাম শর্করা২৮.১১- ৩১.৮ গ্রাম ক্যারোটিন ৫৫ মিলি গ্রাম থায়ামিন ০.১৩ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেবিন ১.১৯ মিলিগ্রাম এসকরবিক এসিড ৮-৬০মিলিগ্রাম নিয়াসিন ১.১ মিলিগ্রাম টারটারিক এসিড ২.১১ মিলিগ্রাম ।

 

বেলের উপকারিতা

(১) পাকস্থলীর আলসার, পাইলস রোগে উপকারী। এটি শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে।

(২) অন্ত্রের কৃমিসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করে ডায়রিয়া এবং আমাশয় প্রতিরোধ করে।

(৩) বেলের ল্যাক্সিটেভ গুণ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং আমাশয় রোগে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। হজমেও উপকারী।

(৪) বেলে ন্যাচারাল ডাই ইউরেটিক আছে, যা শরীরে পানি জমা প্রতিরোধ করে।

(৫) বেলপাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি কমে যায়। এ ছাড়া ভিটামিন-এ মিউকাস মেমব্রেনের গঠন এবং

চামড়ার ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।

(৬) ত্বককে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে বেলের শাঁস এবং ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখে

(৭) বেলের থায়ামিন ও রিবোফ্লোবিন হার্ট এবং লিভার ভালো রাখে।

(৮) বেল থেকে পাওয়া বেটাক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহের টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। বিশেষ করে মহিলারা নিয়মিত বেল

বা বেলের শরবত খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।

(৯) প্রস্টোজেন হরমোন লেভেল বাড়িয়ে মহিলাদের ইনফার্টিলিটির ঝুঁকি কমায়। তা ছাড়া প্রসব-পরবর্তী ডিপ্রেশন কমাতেও খুবই

কার্যকরী।

(১০) বেলের ভিটামিন-সি স্কার্ভি প্রতিরোধ করে। ভিটামিন-সি হলো শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মানবদেহের বিভিন্ন

সংক্রমণ রোধ করে।

(১১) জন্ডিস এর সমস্যাই পাকা বেল গোলমরিচের সঙ্গে শরবত করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

(১২) সর্দি হলে বেলপাতার রস এক চামচ খেলে সর্দি ও জ্বরভাব কেটে যায়। বেলপাতার রস ঠাণ্ডা ও ক্রনিক কফে উপকারী।

জয়েন্টের ব্যথা ও উপশম করে। পাতার রস মধু, গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খেলে জন্ডিস নিরাময় হয়।

(১৩) বেল বেটাক্যারোটিনের ভালো উৎস, যা থেকে ভিটামিন-এ তৈরি হয়। ভিটামিন-এ চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ

অঙ্গগুলোকে পুষ্টি জোগায়। যারা নিয়মিত বেল খায়, তাদের চোখের বিভিন্ন অসুখ হওয়ার প্রবণতা থাকে তুলনামূলকভাবে কম।

 

এছাড়াও  গ্রীষ্মকালে বেলের শরবত এর উপকারিতা সম্পর্কে একটি ভিডিও লিঙ্ক আপ্লোড করা হল । চাইলে দেখে আসতে পারেন।

 

বেলের পাতার  উপকারিতা

বেলে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল, অ্যান্টি-প্যারাসাইট গুণ রয়েছে যা হজমের জন্য লাভজনক। বেলে ল্যাকসেটিভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটে ব্যথা বা হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বেলের শরবৎ শরীর ঠাণ্ডা করে। প্রচণ্ড গরমে নাক থেকে রক্তপাত হলে এই ফলের শরবৎ ওষুধ হিসেবে খাওয়ানো হয়। বেল পেট ব্যাথা, গ্যাস, ডায়রিয়া এবং পেট খারাপের সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়। যদি আপনার এই ধরনের সমস্যা হয় তাহলে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বেল পাতা অবশ্যই খাবেন। বেলের পাতা খেলে গর্ভপাত বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে বলে মনে করা হয়। এছাড়াও মৃগী রোগের জন্য বেলের ফুল কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে ।

 

উপরের বর্ননা থেকে খুব সহজেই অনুমেয় যে বেল নামক ফলটি আমাদের জন্য কতটা উপকারি । তাই খুব সহজল্ভ্য এই ফলটিকে অবহেলার চোখে না দেখে,এখন থেকে এটার সঠিক ব্যবহার করবেন,এটাই আমাদের কাম্য ।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।