বাংলাদেশ একটি নদী মাতৃক দেশ । এদেশে রয়েছে সহস্রাদিক নদ-নদী।এছাড়াও নদীসম খাল বিল তো রয়েছেই।তাই বন্যা এদেশের একটি নৈমীত্যিক ঘটনা  । প্রতি বছরই কম বেশি আমাদেরকে বন্যার মুখোমুখি হতেই হয় । তাই আমাদের সকলেরই উচিৎ বন্যা মোকাবেলায় করণীয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সমূহ সম্পর্কে সাধারণ কিছু জ্ঞান রাখা । যেন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয় ।

 

বলা হয়ে থাকে প্রতিশেধক এর চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম । বন্যার ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা প্রোযোজ্য । বন্যা একটী প্রাকৃতিক

দূর্যোগ। এটি চাই বা নাই চাই প্রাকৃতিক ভাবে আসবেই । তবে আমরা যেন ভয়াল গ্রাসে পরিণত না হই তাই প্রয়োজন সচেতন

থাকা ।

 

বন্যা মোকাবেলায় করণীয় এবং পূর্ববর্তী পদক্ষেপ সমূহ

প্রথমত,আপনার থাকার যায়গা অর্থাৎ বসত ভিটা শুষ্ক মৌসুমে যথা সম্ভব উচু করার চেষ্টা করুন । আর আপনার বাড়ি যদি

অধিক বন্যার অধিক ঝুকিতে থাকে তাহলে থাকার ঘরটি মাচার উপর তৈরী করে নিন । কৃষি শস্য ও বীজ সংরক্ষণের জন্য

নিরাপদ স্থানে মাচা তেরি করতে হবে। যেন বন্যার পানি ঢুকে পড়লেও সেগুলো নিরাপদ থাকে এবং পরবর্তীতে ফসল চাষ করার

জন্য কোনো বেগ না পেতে হয়। বন্যার পানি ঢুকে পড়ার আগেই  গৃহপালিত পশু পাখি নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে ।

এসবের ঘর অবশ্যই উচু মাচার উপর স্থাপন করতে হবে। বিশুদ্ধ খাবার পানি সংরক্ষণের জন্য চৌবাচ্চার ব্যবস্থা করতে হবে ।

সহজে বহনযোগ্য চুলা ও রান্না করার জন্য শুকনো জ্বালানির ব্যবস্থা করতে হবে । যেন আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে রান্না করতে খুব বেশি

ঝামেলা পোহাতে না হয়। এছাড়া কিছু শুকনো খাবার যেমন চিড়া মুড়ি গুড় ইত্যদি সংগ্রক্ষন করতে হবে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

বিষয়টি হচ্ছে,পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ যেমন ডায়রিয়া,কলেরা ইত্যাদির জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।অর্থাৎ কিছু

ওষুধ আগে থেকেই সংরক্ষন করা ।

 

এরপর বন্যা মোকাবেলায় করণীয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সমূহ

বন্যা চলে আসলে তখন প্রথমেই সবাইকেই সবার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে । বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধদের আগে

নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে আসতে হবে । প্রয়োজনীয় কাগজপত্র টাকা পয়সা খুব সাবধানে রাখতে হবে যেন সেগুলো পানিতে নষ্ট না

হয়ে যায় । কোনোমতেই বন্যার পানি পান,থালা বাসন ধোয়া বা গোসল করা যাবে না । এতে করে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ থেকে

শুরু করে  অনেক বড় বড় রোগ ঘটিয়ে দিতে পারে। নিরাপদ পানি না পাওয়া গেলে অপেক্ষাকৃত পরিষ্কার পানি সংগ্রহ করে তা

পানি বিষুদ্ধ করণ ট্যাব্লেট বা ফিটকেরি দিয়ে বিশুদ্ধ করে তবেই পান করতে হবে । আরেকটি বিষয় খুব বেশি খেয়াল রাখতে হবে

যেন পানির কাছাকাছি কোথাও কেও মল মূত্র ত্যাগ না করে।কারণ তাহলে সেগুলো পানির সাথে মিশে বিভিন্ন রোগ ছড়াবে ।

যাদের ছোট বাচ্চা আছে তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখুন যেন তারা পানিতে না চলে যায়।প্রয়োজনে জলাশয়ের চারপাশে বাশের

বেরা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন । বাড়িতে যদি কোনো গর্ভবতী মহিলা থেকে থকে তাহলে তার প্রতি বিশেষ ঞ্জর রাখুন।আর অবশ্যই

খারাপ সময়ের জন্য একটি দ্রুত যান প্রস্তুত রাখুন ।

 

বন্যা পরবর্তী পদক্ষেপ সমূহ

বন্যার পানি নেমে গেলেই বাড়ি গিয়ে উঠবেন না । বানের পানিতে ভেসে আসা বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা পরিষ্কার করুন ।থাকার

ঘরের ক্ষতি হয়ে থাকলে সেটা মেরামত করুন । প্রথমে নিচু জায়গায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন এরপর জীবানু

নাশক রাশয়নিক প্রয়োগ সারা বাড়িতে।  শাপ, পোকামাকড়  হতে সাবধান হতে হব ।  শাপ, পোকামাকড় এর ওষুধ বাড়ির

চারপাশে ছিটিয়ে দিতে হবে । নলকূপ বা নিরাপদ পানির স্থাপনা গুলি মেরামত করতে হবে । এরপর দ্রুত কর্মসংস্থানে বেড়িয়ে

পড়তে হবে যেন অসহায়ত্বের মাঝে না পড়তে হয় । এ সময়ে জমিতে পানি এম্নিতেই থাকে তাই চাষ বাশ করাও তেমন কঠিন

হয়ে পড়ে না ।

 

আরেকটি বিষয়, বন্যার সময় প্রাকৃতিক ভাবেই অনেক রকমের শাক যেমন কলমি বা শেঞ্চি ইত্যাদি শাক লতা জন্মায় ভুলেও

এগুলো খাবেন না। এতে প্রচুর রোগ জীবানু লেগে থাকে যেগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। এসময়ে অসুখের প্রোকোপ বেড়ে

যায় তাই সচেতন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধদের অবশ্যই একবার

হলেও নিয়ে যেতে হবে ।

 

এখন যেহেতু বন্যার সময় তাই আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে আপনাদের উপকার হয় এমন কিছু কথা শেয়ার করলাম আশা করি

অনেকেই উপকৃত হবেন । সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।