এইডস কি?কিভাবে ছড়ায় এবং মোকাবেলার উপায় ই বা কি সে সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশেরই ধারনা খুবই কম বা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের নিম্ন বিত্ত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এক গবেষনা চালিয়ে দেখা গেছে,প্রায় ৯০% মানুষেরই নেই এইচ আই ভি এইডস সম্পর্কে পক্ক ধারনা। যে রোগ প্রতিরোধের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে জানা,সেই রোগের ক্ষেত্রেই যদি এমন অবস্থা থাকে তাহলে তা কতটা ভয়ঙ্কর সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই চলুন আজ আমরা এইডস সম্পর্কে বিস্তারিত জানি এবং অন্যকে জানাই-

 

এইডস কি?কিভাবে ছড়ায় এবং মোকাবেলার উপায়

 

এইডস কি?

এইডস হচ্ছে একটি প্রাণ ঘাতি রোগের নাম। যা এইচ আই ভি বা হিউমেন ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস দ্বারা

সৃষ্টি হয়। এইচ আই ভি ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করলেই রোগ হয়ে যায় না।সংক্রমন হয়ে রোগ হতে অনেক

লম্বা সময় লাগে। যা অন্তত ৬মাস থেকে ১০ বছর বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগে।

তাই অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় যদিও তারা এইচ আই ভি পজেটিভ কিন্তু তাদের কোনো রোগ নেই।

 

এইডস এর লক্ষন সমূহ

কোনো ব্যক্তি এইচ আই ভি ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই তার মাঝে লক্ষন প্রকাশ পাবে এমন নয়।

যখন সেটি পূর্ণাঙ্গ রূপ নিবে অর্থাৎ এইডস হবে তখন তাদের মাঝে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, ডায়রিয়া হওয়া, টিবি রোগ হওয়া

ইত্যাদি লক্ষন সমূহ দেখা দিতে থাকবে।যদিও রোগ গুলি খুবই সাধারণ কিন্তু সেগুলো সাধারন চিকিৎসায়

ভাল হবে না। বা হলেও তা খুবই কম সময়ের জন্য।তাই এমন কিছু দেখলেই আপনাকে তখন এইচ আই ভি পরীক্ষা করাতে হবে ।

 

এইডস যেভাবে ছড়ায়

এইচ আই ভি ভাইরাস ছড়ানোর প্রধান মাধ্যম হচ্ছে অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক  ।পৃথিবীর প্রায় ৯০% এইডসই ছড়িয়েছে

শুধু মাত্র অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মধ্য দিয়ে।যদি কোনো এইচ আই ভি পজেটিভ ব্যাক্তি নারী/ পুরুষ এর সাথে

কোনো সুস্থ মানুষ দৈহীক মিলনে আবদ্ধ হয় তখন তার মাঝে এইচ আই ভি ভাইরাসটি সংক্রমিত হয় ।

 

এছাড়াও রক্ত আদান-প্রদান বা সুই-সিরিঞ্জ এর মাধ্যমেও ছড়াতে পারে।কোনো এইচ আই ভি পজেটিভ ব্যাক্তির ব্যবহ্রিত

সুই সিরিঞ্জ বা তার কাছ থেকে রক্ত নিলে অপর ব্যাক্তি অবশ্যম্ভাবি ভাবে এইচ আই ভি ভাইরাসে আক্রান্ত হবে।

আরেকটি কারণও আছে যার মাধ্যমে এই ভারাসটি ছড়াতে পারে তবে সেখানে সম্ভাবনা (১% এরও নিচে) খুবই কম থাকে ।

তা হচ্ছে মায়ের দুধের মাধ্যমে।কোনো গর্ভবতী মহীলার যদি এইডস থেকে থাকে আর তিনি যদি জন্মের পর

তার সন্তানকে তার বুকের দুধ পান করান তাহলে তার সন্তান আক্রান্ত হতেও পারে আবার নাও পারে ।

তবে মনে রাখবেন,এই কারণ গুলি বাদে আর কোনো ভাবে এইডস ছড়ায় না।

 

এইডস সম্পর্কে ভুল ধারনা সমূহ

আমাদের মাঝে অনেক বড় একটি ভুল ধারণা হচ্ছে যদি আমরা কোনো এইডস রোগীকে স্পর্শ করি বা সাধারন ভাবে

মিশি তাহলে আমাদেরও এইডস হবে।আর তাই আমরা তাদের এড়িয়ে চলি।যা একদমই ভিত্তিহীন এবং অনুচিত।

চিকিৎসা বিজ্ঞান এটা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে,কোনো এইচ আই ভি পজেটিভ ব্যাক্তিকে যদি কেউ স্পর্শ করে,

তার সাথে খাবার শেয়ার করে এমনকি তাকে যদি চুমুও খায় তবুও অপর ব্যাক্তির মাঝে এইডস ছড়ানোর কোনো সঙ্কা

নেই। কারণ মুখের লালার মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়ায় না।

চিকিৎসকরা বরং সবাইকে এইডস আক্রান্ত ব্যাক্তির সাহায্যে এগিয়ে আসতে বলেন,তাদের সাথে মিশতে বলেন।

যেন তারা তাদের রোগটিকে লুকিয়ে না রাখে এবং হীনমন্যতায় না ভোগে।

কারন কোনো ব্যাক্তি যদি লজ্জা বা হীনমন্যতায় পরে তার রোগটি লুকিয়ে রাখে এবং এটি যেহেতু দীর্ঘ সময়ের

একটি প্রসেস তাই সম্ভাবনা থাকে আশেপাশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার। তাই আমাদের উচিৎ এই রোগে

আক্রান্ত কোনো ব্যাক্তিকে পরিবার,সমাজ থেকে আলাদা না করা বা তাড়িয়ে না দেওয়া বরং তাদের সাহায্য করা।

 

এইডস এর চিকিৎসা

এইচ আই ভি-এইডস এই রোগটির কোনো পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা আজ অবধি আবিষ্কৃত হয়নি।

অল্প কিছু ঔষধ আছে যা ভাইরাস থেকে রোগ হতে বা মানুষের মৃত্যু বিলম্বিত করতে পারে মাত্র। তবে এই চিকিৎসা

খুবই ব্যয় বহুল। তাই একে প্রাণ ঘাতী রোগ বলা হয়।অর্থাৎ এই রোগ হলে আপনার মৃত্যু নিশ্চিত।

 

তবে এখানে কিছু ভুল ধারনাও মানুষের রয়েছে যেমন,কোনো কুমারী মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করলে

এইচ আই ভি ভাইরাস দূর হয়ে যায় এবং আক্রান্ত ব্যাক্তি ভাল হয়ে যায়। যা সম্পূর্ণ রূপে কাল্পনিক এবং শাস্তিযোগ্য

অপরাধও বটে। তাই এই ধরনের কর্মকান্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

 

যেহেতু পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এই রোগের  কোনো পরিপূর্ণ চিকিৎসা বের হয়নি তাই একে প্রতিশেধক নয় প্রতিরোধই

এর থেকে প্রতিকারের উপায়। এইচ আই ভি ভাইরাস,এইডস কি বা এটি কিভাবে ছড়ায় সে সম্পর্কে পরিপক্ক ধারনা

রাখুন। নিজে মানুন এবং অন্যকে জানান এবং মানতে উৎসাহিত করুন তাহলেই হয়ত একদিন এই

অভিসাপ থেকে আমরা মুক্তি পাব।

 

সব শেষ কথা,

“বাচতে হলে,জানতে হবে”।

 

 

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।