Twelve Simple Herbal Remedies-১২টি সহজলভ্য ভেষজ চিকিৎসা-এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না যে বর্তমানে মাত্র এক সপ্তাহ ঔষধ ছাড়া চলতে পারছে অর্থ্যাৎ সে অসুখ বিসু্খে পড়েনি।এর সাথে খুব সাধারণ কিছু দূর্ঘটনা যেমন কেটে- ছিলে যাওয়া, পুড়ে যাওয়ার মতন নানান রকম দুর্ঘটনা । সব অসুখ নিয়ে কি আর ডাক্তারের কাছে যাওয়া যায়,না এটা সম্ভব? অনেক অসুখ বিসুখ আছে,যেসবের চিকিৎসা শতভাগ ঘরোয়া ভাবেই করা সম্ভব। একটা কথা ভাবুন তো, আগের দিনে তো চিকিৎসা ব্যবস্থা এত উন্নত ছিল না । তখন মানুষ কি দিয়ে চিকিৎসা করত? হ্যাঁ, তখন চিকিৎসা হতো ভেষজ বা হারবাল উপায়ে। এই ভেষজ চিকিৎসা একদিকে যেমন নিরাপদ, তেমনই সহজলভ্য আর নিরাময় ক্ষমতা সম্পন্ন।

তাই আসুন,য়াজ জেনে নেই তেমনই কয়েকটি সহজ ভেষজ চিকিৎসা সম্পর্কে-

 

Twelve Simple Herbal Remedies-১২টি সহজলভ্য ভেষজ চিকিৎসা

 

দাঁত ব্যথায় পেয়ারা পাতা

১) একদিন সকালে উঠে হয়ত খেয়াল করলেন খুব দাঁত ব্যথা করছে। দেড়ি না করে একটি পেয়ারার পাতা নিয়ে ভালো করে

চিবাতে থাকুন। চিবিয়ে রস বের করে নিন। দাঁতের ব্যথায় পেয়ারা পাতা চিবালে ব্যথা উপশম হয়।

 

শ্বাসকষ্ট কমাতে বাসক গাছের পাতা ও ছাল

২)আমাদের অনেকেরই বিশেষ করে শিশুদের শ্বাসকষ্ট অসুখটি খুবই কমন।এই শ্বাসকষ্ট কমাতে বাসক গাছের পাতা ও ছাল

একসঙ্গে সেদ্ধ করে বেটে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।রোজ কমপক্ষে একবার করে খেতে হবে। নিয়মিত সেবনে কষ্ট নিরাময়

হবে।

 

পেট ফাঁপা অসুখ

৩) পেট ফাঁপা অসুখটি কেবল বাচ্চাদের নয়, বড়দেরও সমান ভাবে হয়ে থাকে । এর প্রতিকার পেতে চাইলে,ডালসহ পুদিনা পাতা

৭/৮ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন । তারপর সেই পানি ছেঁকে খেলে পেট ফাঁপা ভালো হয়ে যাবে।

 

ঘামের দুর্গন্ধএ বেল পাতার রস

৪)আমাদের  অনেকের গায়েই প্রচণ্ড ঘামের দুর্গন্ধ হয়। গা না হলেও পায়ে এবং বগল তলে তো হয়য়ই । বেল পাতার রস পানির

সঙ্গে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থান মুছুন কয়েকদিন প্রতিকার পেয়ে যাবেন।

 

মুখের ঘা সারাতে গাব ফল

৫) কিছু কিছু মানুষের  ঠোঁটের দু’পাশে এবং মুখের ভেতরে অনেক সময় ঘায়ের মত দেখা যায়।এই রোগ সারাতে গাব ফলের

রসের সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে কয়েকদিন মুখ ধুলে ঘা সেরে যাবে।

 

কৃমির সমস্যা

৬) পেটে কৃমির সমস্যা খুব যন্ত্রণাদায়ক।বিশেষ করে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটির প্রাদুর্ভাব অধিক লক্ষনীয়। এর প্রতিকার করতে

তেঁতুল পাতার রস সামান্য পানিতে মিশিয়ে নিয়মিত কিছুদিন পান করুন। এ ছাড়াও পেটের কৃমি দূর করতে প্রতিদিন সকালে

নাস্তার পর এক চামচ নারকেল খেতে পারেন।এতেও পেটের কৃমি দূর হয়ে যাবে।

 

নাক দিয়ে রক্ত আসা

৭) অনেক সময় হঠাৎ করেই বা অল্প কিছুর আঘাতেই নাক দিয়ে রক্ত আসতে পারে যা স্বাভাবিক নয়।এর জন্য ডাবের পানি

রোজ খাওয়া উচিত। এর সঙ্গে খালি পেটে নারকেল খেলেও নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

 

নবজাতক মায়েদের জন্য কলমি শাক

৮) এই টিপ্সটি নবজাতক মায়েদের জন্য । যেসব মায়েরা সন্তানকে পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধ খাওয়াতে পারেন না তাদের জন্যে কলমি

শাক দারুণ উপকারী। কলমি শাক বেটে ১/২ চামচ রস ঘি দিয়ে দিনে দুবার সকালে ও বিকালে খেতে পারেন এতে মায়ের দুধ

বাড়বে।তবে কলমি শাকের ভাজা খেলে তাতে কিন্তু কাজ হবে না এটা মনে রাখবেন!

 

বদহজমে নিমের ছাল

৯) একটু বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে বদহজম যেন একটি নিয়মিত অসুখের নাম।এই বদহজমে নিমের ছাল আদর্শ ওষুধ। ৪/৫

গ্রাম নিমের ছাল এককাপ গরম পানিতে রাত্রি বেলা ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে সেই পানি ছেঁকে খালি পেটে খেলে বদহজম

সেরে যাবে।

 

যকৃতের ব্যথা সারাতে নিম

১০) এ ছাড়াও নিমের আরেকটি গুণের কথা বলি,লিভার বা যকৃতের ব্যথা সারাতেও নিম কিন্তু এক নম্বর। ১ গ্রাম নিমের ছাল, ১/২

গ্রাম কাঁচা হলুদ ও ১ গ্রাম খানিক শুকনো আমলকির গুঁড়োর সাথে মিশিয়ে খালি পেটে নিয়মিত এক সপ্তাহ খান।দেখবেন ব্যথা

দূর হয়ে গেছে।

 

কোষ্ঠকাঠিন্যে কলমির রস

১১)  অনেক শিশুই রাতে না ঘুমিয়ে ছটফট বা কান্নাকাটি করে কাটায় । আসলে তারা সাধারণত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে। এদেরও

অল্প গরম দুধের সাথে  ২০/২৫ ফোঁটা কলমির রস খাওয়ালে এদের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে।

 

ব্রণ সারাতে লবঙ্গ

১২) তরুণ/তরূনীদের জন্য ব্রণ এক অভিশাপের নাম!কোনো ব্যপার না,হাতের কাছে থাকা একটু খানি লবঙ্গ বাটা লাগিয়ে দিন

ক্ষত স্থানে। দ্রুত মিলিয়ে যাবে, আবার দাগও থাকবে না।

 

আশা করি এই টিপ্সগুলি সবার উপকারে আসবে।তবে এগুলো খুবই সাধারণ বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রোজোয্য।ধন্যবাদ।