বর্তমান সময়ে হাই বা লো ব্লাড প্রেশার এমন একটি রোগ, যা আমাদের যাপিত জীবনের বিশাল একটি জায়গা দখল করে আছে তা কম বেশি  আমাদের সবারই জানা । আমরা কম বেশি সবাই ব্লাড প্রেশার থেকে মুক্তির উপায় ও করনীয় সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক বা আগ্রহী । তাই আজ আমরা আলোচনা করব এই সমস্যাটি নিয়ে এবং আপনাদের  আজ আমরা এমন কিছু টিপস দিব যা মেনে চললে আপনাদের দৈনন্দিন জীবনে এর ভয়ানক দুশ্চিন্তা থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাবেন । তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

এখানে একটি কথা বলে রাখি,এই রোগ একবার মানব দেহে ঢুকলে পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয় । একে নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে ।

 

এখন আমরা হাই ব্লাড প্রেশারের লক্ষণ গুলি জানব-

লক্ষণ:

যাদের মধ্যে সকালে ঘুম থেকে উঠলে মাথাব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখা, ঘাড় ব্যাথা, রাতে ঠিকমত ঘুমাতে না পারা, সর্বদা মেজাজ

খিটখিটে থাকা প্রভৃতি বিষয় পরিলক্ষিত হয় তাদের যথাশীঘ্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করা দরকার।

 

কি কি কারণে হাই ব্লাড প্রেশার হয়

১) প্রতিদিন ৬ গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া।

২) অ্যালকোহল গ্রহণ করা।

৩) প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অনেক বেশি ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্য /পানীয় থাকা।

৪) নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে না তোলা ।

৫) অতিরিক্ত স্ট্রেস নেওয়া ।

৬) অবেসিটি, যেহেতু হার্টকে অতিরিক্ত টিস্যুর জন্য বেশি বেশি ব্লাড পাম্প করা লাগে।

৭) বংশগতভাবে অনেকেয় হাই ব্লাড প্রেশারের শিকার হয়ে থাকে।

 

চলুন এবার জেনে নেই হাই ব্লাড প্রেশার থেকে মুক্তির উপায় ও করনীয় সম্পর্কে –

১।রসুন রসুন প্রেশারের রোগীদের জন্য ওষুধ স্বরূপ কাজ করে, কারণ এটি প্রাকৃতিক ভাবেই কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয় তাই

প্রেশারও কমে যায়।

 

২।পেয়াজের রস প্রতিদিন একটি মাঝারি সাইজের কাঁচা পেঁয়াজ খান। এটি নার্ভাস সিস্টেমের জন্য টনিকের মত কাজ করে। এটি

রক্ত পরিষ্কার করে, হার্টের কার্যকারিতা রক্ষণাবেক্ষণ করে এবং কোলেস্টেরল কমানোর মাধ্যমে প্রেশার কমিয়ে দেয়।

 

৩।কালিজিরার তেল কালজিরার তেলে এমন কিছু উপাদান আছে যেগুলো কোলেস্টেরল আর ব্লাড প্রেশার কমাতে সাহায্য করে

বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিদিন এক চা চামচ করে কালোজিরার তেল খান।

 

৪। হলুদ আমরা অনেকেই জানি হলুদের অনেক গুন রয়েছে। তার মধ্যে ইনফ্লামাসনের প্রাথমিক কারণ হিসেবে হাই

কোলেস্টেরল এমনকি হাই ব্লাড প্রেশারকে দায়ি করা হয়। হলুদ ব্লাড ভেসেল শিথিল করে। এটি ব্লাড থিনার-ও, যা

হাইপারটেনশনের সাথে ফাইট করার আরেকটি শক্তিশালী হার্ব।

 

৫। কলা কলা এমন একটি ফল যা ব্লাড প্রেশারের রোগীরা প্রেশার কন্ট্রোল করার জন্য প্রতিদিন খেতে পারেন। কলাতে থাকা

পটাসিয়াম প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

 

৬। ডাবের পানি ডাবের পানি পান করলে ব্লাড প্রেশার কন্ট্রোলে থাকে।তাই ডাবের পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

 

৭। কাচা বাদাম কাচা বাদাম আপনাকে রাখবে সুস্থ। তা ছাড়া ব্লাড প্রেশার ও কন্ট্রোলে আসে।তাই প্রতিদিন ৫-৭টা করে কাচা

বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন।

 

 

এখন আমরা জানব লো ব্লাড প্রেশারের লক্ষণ গুলি-

লক্ষণঃ

লো ব্লাড প্রেশারের রোগীদের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষন দেখা যায়, মাথা ঘোরা,মাথা ঝিম ঝিম করা,অজ্ঞান হয়ে যাওয়া,শ্বাস কষ্ট, বিষণ্ণতা,মনোযোগের অভাব,তৃষ্ণা পাওয়া, দুর্বল লাগা ইত্যাদি।

 

সাধারণত নিম্ন  রক্তচাপে ওষুধের পরিবর্তে ডায়েটের উপর বেশি জোর দেওয়া হয়।

 

এখন আমরা জানব লো ব্লাড প্রেশার থেকে মুক্তির উপায় ও করনীয় সম্পর্কে-

১। পানি নিম্ন রক্তচাপ সারিয়ে তোলার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল পানি। অনেক সময় পানি শূন্যতার কারণে রক্তচাপ দেখা

দিতে পারে। অতিরিক্ত গরম, বমি হওয়া অথবা অন্য যেকোন কারণে শরীরের পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। তখন রক্তচাপ কমে

যায়। এই সময় প্রচুর পানি পান করেন। আর পানি না পান করতে পারলে পানি জাতীয় কিছু পান করুন।

 

২।লবণ উচ্চ রক্তচাপে লবণ খাওয়া নিষেধ থাকে।লো ব্লাড প্রেশার দেখা দিলে লবণ এবং লবণ জাতীয় খাবার খাওয়া  উচিত।

সোডিয়াম রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি করে। তাই লবণযুক্ত খাবার খেয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারেন। এছাড়া লবণ পানি পান করতে

পারেন। এক গ্লাস পানিতে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। এটি প্রতিদিন দুই গ্লাস করে পান করুন।

 

৩।কিশমিশ নিম্ন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কিশমিশ প্রাচীনকাল থেকে  ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রতিদিন রাতে ১০গ্রাম কিশমিশ পানিতে

ভিজিয়ে রাখবেন । পরের দিন সকালে খালি পেটে এটি খান। কিশমিশের সাথে কিশমিশ ভেজানো পানিও পান করুন। এভাবে

কয়েক সপ্তাহ কিশমিশ খান। কিছুদিনের মধ্যে প্রেশার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

৪।সবুজ শাক সবজি তাজা শাক সবজি রক্ত চাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতির জন্য নিম্ন

রক্তচাপের সমস্যা হতে পারে। ফলিক এসিড ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর ফলিক এসিড থাকে।

যা লো ব্লাড প্রেশার স্বাভাবিক রাখে।

৫।ব্যায়াম নিয়মিত ব্যায়াম করুন।তাতে শরীর ও মন দুই ই ভাল থাকবে।

৬। শরীর থান্ডা শরীর গরম থাকলে শরীর থান্ডা করুন ।

 

উপরে হাই এবং লো দুই ধরনের ব্লাড প্রেসার বা রক্ত চাপ নিয়ে আলোচনা করা হল । আশা করি উপকৃত হবেন ।