অ্যাজমা প্রতিরোধেই প্রতিকার!

 

হাঁচি, কাশি, অ্যাজমা এবং অ্যালার্জি মূলত একই ধরনের রোগেরই ভিন্ন ভিন্ন বহিঃপ্রকাশ। একই ব্যক্তির সব সমস্যাই থাকতে

পারে অথবা এক বা একাধিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে সাধারণত পরিবারের সদস্যদের তথা রক্তের সম্পর্কের নিকটাত্মীয়দের

মধ্যে এই সমস্যাগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। অ্যাজমা রোগ নির্ণয় একজন বিশেষজ্ঞের জন্য সবচেয়ে সহজ হয়ে যায়, যদি পজিটিভ

পারিবারিক ইতিহাস পাওয়া যায়। কিন্তু সম্ভবত ৯০ শতাংশ রোগীই প্রথমে সঠিক জবাব দেন না।

 

এর কারণটা হলো ‘অ্যাজমা’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা এবং ভুল ধারণা। বেশির ভাগ মানুষের ধারণা হলো, ‘একজন

রোগী প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে যখন হাঁপাতে থাকে’, তা-ই হাঁপানি। কিন্তু ‘অল্প শ্বাসকষ্ট, বুক চাপ ধরে থাকা, কাশি, হাঁচি, নাক ও চোখ দিয়ে

পানি ঝরা ইত্যাদিকে তারা মনে করেন ঠান্ডা লাগা। অথচ এ ধরনের সমস্যাগুলোই হলো অ্যাজমার বিভিন্ন রূপ।

 

এগুলোর যখন যথাযথ চিকিৎসা না করা হয় অথবা ভুল চিকিৎসা করা হয়, তখন রোগী একপর্যায়ে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ও কাশি নিয়ে

চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যু ঘটে থাকে। আবার অনেক শিক্ষিত মানুষ আছেন, যাঁরা জেনেশুনে

অ্যাজমার ব্যাপারটা গোপন করার চেষ্টা করেন। তাঁরা এটাকে বংশমর্যাদার জন্য কলঙ্কজনক বিষয় বলে চিন্তা করেন। বিশেষত,

অবিবাহিত মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেকেই ‘অ্যাজমা’ শব্দটা শুনতেই চান না।

 

তাঁদের ধারণা, কোনো মেয়ের অ্যাজমা থাকলে তা বিয়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তাই যেভাবে হোক মেয়ের বিয়ের আগ

পর্যন্ত ব্যাপারটা গোপন রাখতে হবে এবং বিয়ের পরে রোগ দেখা দিলেও মেয়ের বংশে এই রোগ কারো কখনো ছিল না বলে প্রচার

করতে হবে। কিন্তু তাঁরা যদি বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে প্রথম থেকেই অ্যাজমার চিকিৎসা শুরু করেন, তবে জীবনটা অনেক সুন্দর

ও সহজ হয়ে যায়। যদিও বলা হয়, অ্যাজমা রোগ নিরাময়যোগ্য নয়, তবুও প্রতিরোধযোগ্য কথাটা এখন বাস্তবতা খুঁজে পেয়েছে।

 

অ্যাজমা চিকিৎসায় এই সফলতার কথা এখনো বাংলাদেশের ৮০ ভাগ জনগোষ্ঠীর কাছে অজ্ঞাত। তারা কুসংস্কার, কুধারণা আর

অপচিকিৎসার শিকার। দেশের প্রতিটি প্রান্তে অসংখ্য শিশু, নারী-পুরুষ প্রতিদিন শ্বাসকষ্টের কারণে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

বিনিদ্র রজনী কাটছে কত মা-বাবার এবং রোগীদের আত্মীয়স্বজনের। তাঁদের জন্য চাই প্রশান্তি ভরা শ্বাস।

 

বাংলাদেশ অ্যাজমা অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশে অ্যাজমা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। একই পরিসংখ্যান অনুযায়ী

এদের শতকরা ১০ ভাগের কম রোগী অ্যাজমার আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে অবগত। তাই আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অ্যাজমা

সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। এর জন্য শুধু সরকারিভাবেই নয়, এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সংগঠক, এনজিও, ওষুধ

কোম্পানিসহ দেশে স্বাধীন মনের চিকিৎসকদের।