অধিক রূপচর্চার ক্ষতিকর দিক! আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে,যেসব মেয়েদের ত্বক বা গায়ের রঙ কালো তাদের

অসুন্দর বলে তাচ্ছিল্য করে থাকি।আমাদের কাছে সৌন্দর্য্যের সব চেয়ে বড় দিক হচ্ছে তাকে ফর্সা হতে হবে । যেটি অনেক বড়

ধরনের একটি ভুল।কিন্তু আমরা যদি বাহিরের পৃথিবীর দিকে একটু তাকাই তাহলে দেখা যাবে কেবল মাত্র গায়ের রঙ এর উপর

ভিত্তি করে সেখানে সুন্দর অসুন্দরের পার্থক্য করা হয় না। আর তাই আমাদের সমাজের মেয়েদের মাঝেও এক ধরনের

হীনমন্যতা কাজ করে এবং তারা যে কোনো মূল্যে নিজের গায়ের ত্বক কে ফর্সা করার জন্য উঠে পরে লেগে যায় । তাছাড়াও

অনেকের ইচ্ছাই থাকে যে ফর্সা ত্বকের অধিকারী হবে।আর এসব কারণেই বর্তমান সময়ে আমাদের সময়ে মেয়েদের মাঝে

গায়ের রঙ ফর্সা করার জন্য এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগীতা লক্ষ্য করা যায় । বিভিন্ন ধরনের রং ফর্সাকারি ক্রিম ,লোশন থেকে

শুরু করে মেকআপের অধিক ব্যবহার ত আছেই । যাই হোক,এই রঙ ফর্সা করার ক্রীম বা অধিক মেকআপ এর ব্যবহার যে

কতটা নেতিবাচক তা যদি আমরা জানতাম তাহলে হয়ত এই অসুস্থ প্রতিযগিতা আমরা কখনোই করতাম না । তাই আজ

আপনাদের জানাব এইসব ক্রীম বা অধিক মেকআপের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে-

 

অধিক রূপচর্চার ক্ষতিকর দিক!

 

প্রথমেই চলুন জেনে নেওয়া যাক রঙ ফর্সা করার ক্রিম সম্পর্কে

টিভিতে বা সামাজিক যোগাযগ মাধ্যমে রং ফর্সা করার বিভিন্ন ক্রিমের চটকদার ও লোভনীয় সব বিজ্ঞাপণ দেখে আমরা

অনেকেই ভাবি,যা হোক একবার তো ট্রাই করে দেখতেই পারি । কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে এতে করে হতে পারে ত্বকের

ক্যান্সার পর্যন্তও । কারণ এসবে ব্যবহার করা উপদান গুলোতে থাকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান।বিভিন্ন গবেষনায় দেখা

গেছে,ফর্সা করার বিভিন্ন ক্রিমে উপাদান হিসেবে অ্যাক্টিভ কার্বন ব্যবহার করা হয় । অ্যাক্টিভ কার্বন মূলত কোনো জৈবিক পদার্থ

পুড়িয়ে পাওয়া যায় । তবে ফর্সা হওয়ার ক্রিমে যে অ্যাক্টিভ কার্বন ব্যহবার করা হয় তাতে ‘ন্যানো কার্বন’ থাকে। যা ক্যান্সার ছাড়াও

হতে পারে বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যার যেমন এলার্জি,চুলকানি,ত্বকে ফোসকা পড়া ইত্যাদি। ভাবতে পারেন বিষয়টি কতটা

ভয়ঙ্কর!কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে এসব নিয়ে আমাদের দেশে তেমন কোনো কার্য্যক্রম পরিচালনা করা হয় না।যা খুবই দরকারি।

তাই আমাদের উচিৎ কোনো ক্রিম ব্যবহার করলে সেটার সমপর্কে ভাল করে খোজ খবর নিয়ে তারপর ব্যবহার করা।

 

এরপর আসা যাক মেকআপ বিষয়ে

বর্তমান সময়ের তরুনীদের মাঝে যে জিনিসটির প্রভাব সব চেয়ে বেশি। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছেলেদের মাঝেও মেকআপ

নেওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা যায়! এরও রয়েছে বিস্তর ক্ষতিকর দিক। যেমন,মেকআপে থাকে রঞ্জক এবং অন্যান্য পদার্থ যেগুলো

মূলত মেকআপ এর উজ্জ্বল্য এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করে। কিন্তু এই মেকআপ দীর্ঘ সময় ত্বকে থাকার ফলে ত্বকে দেখা দিতে পারে

ব্রন আর তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এটি নতুন কোষ গঠনে বাঁধা প্রদান করে ফলে ত্বক হয় প্রচন্ড রকম ক্ষতিগ্রস্ত । এছাড়াও

নিয়মিত মেকআপ  নেওয়ার ফলে ত্বকের ছিদ্র বড় হয়ে যায় । ফলে বিভিন্ন সুক্ষ্ম জীবাণু সহজেই আমাদের শরীরে প্রবেশ করতে

পারে এবং আমরা বিভিন্ন ধরণের অসুখে পড়ে যেতে পারি। এর মাঝে থাকা ক্যামিকালস চোখের এবং ঠোটের ক্ষতি সাধন করে।

ফলে চোখের নিচে কালো দাগ পরা বা ঠোট শুকিয়ে যাওয়ার মত সমস্যায় পড়তে হতে পারে। দির্ঘদিন মেকআপ  ব্যবহারের

ফলে মাথা ব্যথা হতে পারে।ত্বকের নমনীয়তা কমে গিয়ে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে এসব ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের সমস্যার

তৈরি হতে পারে মেকআপ এর অতিরিক্ত ব্যবহারে ।

 

শেষ দুটি কথা

তাই সচেতন হোন।সুন্দর হতে আজেবাজে ক্রিম বা মেকআপ এর সাহায্য নেওয়া পরিহার করুন । মনে রাখবেন,ফর্সা মানেই

সুন্দর না । সৌন্দর্য গায়ের রঙে থাকে কখনোই থাকে না । স্রষ্টা যেভাবে আপনাকে তৈরী করেছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকুন।না হলে

ত্বকের ক্যান্সার এর কবলে যেতে পারে পৈতৃক প্রাণটাই!

 

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।পরবর্তী আপডেট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন।