আমদের দেশে রেজিস্টার্ড ডাক্তারের অভাব যত বেশি হাতুড়ে ডাক্তারের পরিমাণ ঠিক ততটাই বেশি! কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো দেখা যায় ওষুধের নাম পড়তে পারে না এমন ব্যাক্তিও অনবরতই দিয়ে যায় প্রেস্ক্রিপশন! এমনকি আমরা নিজেওরাও কম কি সে,একটু গা গড়ম হয়েছে দুম করেই দুটো প্যারাসিটামল খেয়ে নিলাম বা একটু হাচি হচ্ছে দুটো এলাট্রল বা সিট্রল খেয়ে নিলাম! কিন্তু না জেনে শুনে এভাবে মুড়ির মত ওষুধ খাওয়া যে কতটা ক্ষতিকর তা যদি আমরা জানতাম তাহলে বোধয় এমনটি ভুলেও করতাম না। রোগ বুঝে যেমন ওষুধের ভিন্নতা হয় তেমনি একই রোগেরও ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ হয়। যা আমরা অনেকেই জানি না। তাই আজ আপনাদের জন্য পরিবেশন করছি, অতিরিক্ত ঔষধ সেবনের ক্ষতিকর দিক সমূহ-

 

অতিরিক্ত ঔষধ সেবনের ক্ষেত্রে হটকারিতা!

অনেকেই দেখা যায় নিজের ইচ্ছেমত অষুধ খেয়ে থাকেন।যা একদমই উচিৎ নয়।কারণ একজন চিকিৎসক ভাল করেই জানেন কোন ওষুধ এর কি কি সমস্যা আছে ।  তাই কাকে কোন ওষুধ দেওয়া যাবে আর কাকে দেওয়া যাবে না তাও তার পক্ষেই বলা সম্ভব । তাই নিজেদের মাতুব্বরি করা ঠিক না ।

নিয়মিত ওষুধ খেলেও যদি বিধি না মেনে খাওয়া হয় সে ক্ষেত্রে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয় । খালি পেটে খাওয়ার  ওষুধ ভরা পেটে খেলে যেমন কাজ করবে না তেমনি ভরা পেটের ওষুধ খালি পেটে খেলেও কোনো কাজ করবে না । তাই খেতে হবে জেনে এবং নিয়ম মেনে ।

 

অতিরিক্ত ঔষধ সেবনের ক্ষতিকর দিক সমূহ

 

ব্যথার ওষুধ খেয়ে পেট ফুটো হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড খেয়ে অনেকেই মারাত্মক কুশিং

সিনড্রোমে আক্রান্ত হন, যা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ওষুধ বন্ধ

করেও অনেকে বিপদে পড়েন, বিশেষ করে স্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ করলে এডিসনিয়ান ক্রাইসিস হতে পারে, যা থেকে রোগী মারাও

যেতে পারে।

 

সাধারন এমন অনেক ওষুধই আছে যেগুলো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেসব ওষুধও হতে পারে

ক্ষতিকর। যেমন লিভারের রোগীর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ বেশ ক্ষতিকর । যা আমাদের বেশির ভাগেরই জানা নেই।

 

এই পরিস্থিতির জন্য আসলে আমরাই দায়ী।সাধারন মানুষ যেমন ডাক্তারদের এক ধরনের কসাই মনে করেন,

ঠিক তেমনি কিছু কিছু ডাক্তার আছে যারা রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দিতেও গড়িমসি করেন।তবুও নিজেদের জন্য

নিজেদেরকেই সচেতন হতে হবে।

পরিস্থিতি বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগে ওষুধ নাকি আগে ডাক্তার।  বিশেষ অবস্থায় (যেমন গর্ভাবস্থা, লিভারের রোগ

ইত্যাদি) সাধারণ ওষুধ যা প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায়, তাও চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করতে হবে।

শুধু ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে ওষুধ কেনা উচিত। কেনার সময় তার মেয়াদকাল দেখে নিতে হবে। মনে রাখবেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ

ওষুধ আপনার রোগ সারানোর পরিবর্তে ক্ষতি করতে পারে।

চিকিৎসক ওষুধ খাওয়ার যে নিয়ম বলে দেবেন (কতটুকু ওষুধ, কতক্ষণ পরপর, কত দিন, খাবার আগে না পরে ইত্যাদি), তা

মেনে সেবন করতে হবে। প্রয়োজনে তা লিখে রাখুন বা মনে রাখতে অন্যের সাহায্য নিন। নিজে থেকে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন

করা যাবে না।

 

অতিরিক্ত ঔষধ সেবনের ক্ষেত্রে সতর্কতা

অনেকে একবার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বারবার সেই ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনেন। এ ক্ষেত্রে মনে

রাখতে হবে যে প্রথম ব্যবস্থাপত্রে যে ওষুধ যত দিন খেতে বলা হয়েছে, তত দিনই খাওয়া যাবে। পুনরায় একই অসুখ হলেও সেই

একই ওষুধ কাজ নাও করতে পারে।

সামান্য কারণেই ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই খাওয়া শুরু করবেন না।

নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। সুস্থবোধ করলেও কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কোনও সমস্যা হলে চিকিৎসকের

পরামর্শ নিতে হবে। কারণ এমন অনেক ওষুধই আছে যেগুলো কোর্স সম্পন্ন না হলে শেষে ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায়।

 

উপরে অতিরিক্ত ঔষধ সেবনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা তুলে ধরা হল ।

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।