প্রকৃতি বাংলাদেশকে তার অকৃত্রিম হাতে ঢেলে দিয়েছে তার অজস্র ঐশ্বর্য্য । যেগুলো আমাদের জন্য কৃত্রিম যেকোনো কিছুর চেয়ে হাজার গুণ বেশি উপযোগী এবং ভাল । খাবার,যেমন ফলমূলের কথাই ধরা যাক-ফলের কথা উঠলেই আমাদের চখে ভেসে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি বাহারী রঙের ফলের চিত্র । এগুলো যে খারাপ তা বলছি না । কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো যেসব ফল আমাদের দেশে হামেশাই পাওয়া যায় এগুলো যে সেগুলোর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয় বরং পুষ্টি গুণ বিচার করলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশি আমি সে কথাটিই বলছি । তাই চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক আমাদের দেশিয় প্রাকৃতিক একটি ফল,মিষ্টি ফল পেয়ারার গুণাগুন এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-

 

পেয়ারার পরিচিতি

পেয়ারা সবুজ রঙের একরকমের বেরী জাতীয় ফল । তবে অন্যান্য বর্ণের পেয়ারাও দেখতে পাওয়া যায়। লাল পেয়ারাকে রেড

আপেলও বলা হয়। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidiun guajava। পেয়ারার প্রায় ১০০টিরও বেশি প্রজাতি আছে। অনুমান করা হয়

১৭শ শতাব্দীতে পেয়ারা ভারতবর্ষে আসে। এটি একটি পুষ্টিকর ফল।

 

মিষ্টি ফল পেয়ারার পুষ্টি গুণাগুন

  1. পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘এ’ ।
  2. একটি পেয়ারাতে ৪ গুণ বেশি ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে একটি মাঝারি আকৃতির কমলা থেকে ।
  3. দশ গুণ বেশি ভিটামিন এ রয়েছে লেবুর তুলনায় ।
  4. এছাড়া ভিটামিন বি২, ই, কে, ফাইবার, ক্যালসিয়াম,আয়রন, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম রয়েছে ।

 

মিষ্টি ফল পেয়ারার  স্বাস্থ্য উপকারিতা

ডায়াবেটিস রোধ :

নিয়মিত পেয়ারা খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। কারণ পেয়ারায় যে আঁশ আছে, তা শরীরে চিনি শোষণ কমাতে পারে ।

 

ক্যানসার প্রতিরোধঃ

ক্যানসার প্রতিরোধেও পেয়ারা কাজ করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লাইকোপেন, ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ

গড়তে পারে। নির্দিষ্ট করে বললে, প্রোস্টেট ক্যানসার আর স্তন ক্যানসারের জন্য পেয়ারা উপকারী।

 

ত্বকের যত্নঃ

পেয়ারা ত্বকে নেচারাল ক্রিম ও টোনার জেল হিসেবে কাজ করে। পেয়ারা খেলে ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। ত্বককে যে

কোন সমস্যা থেকে রক্ষা করে। ত্বক কুচকে যাওয়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে ত্বক করে টানটান করে। পেয়ারায় আছে ভিটামিন

এ,বি,সি ও পটাশিয়াম যা ত্বকে এন্টি-অক্সাইড বৃদ্ধি করে। এন্টি-অক্সাইড ত্বক উজ্জল করে ও বয়সের ছাপ দূর করে।

 

 দৃষ্টিশক্তি:

পেয়ারায় থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। রাতকানা রোগ থেকে বাঁচায়।

 

ডায়েরি রোধ:

পেয়ারা ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে পারে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে অনেকটা। পেয়ারার

আছে ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা ।

 

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি:

পেয়ারাতে আছে ভিটামিন বি৩ ও বি৬ যা মষ্তিষ্কে রক্ত চলাচল করে।মষ্তিষ্ক ফ্রেস রাখে।মষ্তিষ্কে রক্ত চলাচল বৃদ্ধির মাধ্যমে

মানুষের স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে।

 

রোগ প্রতিরোধে:

পেয়ারায় যে পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ থাকে তা শরীরে গেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের রোগ

প্রতিরোধ করতে পারে।

 

ওজন কমাতে:

যেকোন সবুজ ফলমূলই ওজন কমাতে দারুন কার্যকরী।পেয়ারাতে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও বি । যা আপনার শরীরের

অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। একটা পেয়ারাতে আছে ৩ টা আপেলের সমান পুষ্টি ।

 

ঠান্ডা কাশি:

পেয়ারাতে আছে অতিমাত্রায় ভিটামিন সি এবং আয়রণ। এই ভিটামিন সি এবং আয়রণ শরীরে ঠান্ডা জমতে দেয় না ফলে পেয়ারা

খেলে আপনি খুব সহজে ঠান্ডা কাশির হাত থেকে রক্ষা পাবেন। জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি পেয়ারা খেলে এটা জ্বর সারাতে খুব ভাল

কাজ করে ।

 

 রক্তসঞ্চালন

পেয়ারা খেলে রক্তসঞ্চালন ভালো রাখে। ফলে হার্টের রোগীরা এটি নিয়মিত খেতে পারেন। অনেক দিন ধরে মেনস্ট্রুয়েসন-এর

সমস্যায় পেয়ারা উপকারী।

 

 “ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন”

 Bloodhub24 এর সাথে থাকুন

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।