আমরা তো কম বেশি সবাই আখ খেয়ে থাকি । তবে আমরা কি সবাই আখের পুষ্টি গুনাগুন এবং চমকপ্রদ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা

সম্পর্কে জানি?হয়তো কেও জানি,তবে অধিকাংশ মানুষই জানেনা এই আখের উপকারিতা সম্পর্কে। আজ আমি আপনাদের কে

আখ সম্পর্কে জানাব । তো আর দেরি না করে চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক-

 

পুষ্টি গুনাগুন

অত্যান্ত রসালো আখ দেখতে সাধারন হলেও এটি কিন্তু অনেক পুষ্টি সমৃদ্ধ । এতে আছে ক্যালসিয়াম, ক্রোমিয়াম, কোবাল্ট,

ফসফরাস, কপার, আয়রন, ম্যাংগানিজ, পটাসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৫, বি৬, ভিটামিন সি,

জিংক, সুক্রোজ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, গ্লুকোজ, হাইডক্সি অ্যাসিড, ড্রায়াটারি ফাইবার ছাড়াও আরও অনেক উপকারী সব

উপাদান। যা বিভিন্ন ভাবে আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে থাকে।

 

আখের চমকপ্রদ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা-

১। হাড় ও দাঁতের উন্নয়নে সাহায্য করে বাড়ন্ত শিশুরা যদি আখ চিবিয়ে রস পান করে তাহলে দাঁতের সমস্যা কম হয়। আখের

রসে ক্যালসিয়াম থাকে যা দাঁত ও হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

 

২। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ ও দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধ করে যদি আপনার দাঁত ক্ষয়ের পাশাপাশি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের সমস্যাও থাকে তাহলে

আখের রস পান করাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো ঘরোয়া প্রতিকার। আখের রসে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মত খনিজ উপাদান

থাকে যা দাঁতের এনামেল গঠনে সাহায্য করে। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ পুষ্টির ঘাটতির কারণেও হতে পারে যা আখের রস পান করার

মাধ্যমে পূরণ করা যায়।

 

৩। ব্রণ দূর করে আখের রস ব্রণের মত ত্বকের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। এজন্য আখের রসের সাথে মুলতানি মাটি

মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্টটি মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। তারপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে

মুখ ও ঘাড় মুছে পরিষ্কার করুন। সপ্তাহে একদিন এটি ব্যবহার করুন। আখের রসে আলফা হাইড্রক্সি এসিড থাকে যা অনেকটা

গ্লাইকলিক এসিডের মতোই কাজ করে। ত্বকের ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণের সৃষ্টি হয়। আখের রস ত্বককে এক্সফলিয়েট হতে

সাহায্য করে এবং মরা চামড়ার জমার পরিমাণ কমায়।

 

“নিয়মিত আখের রস পান করুন,সুস্থ্য থাকুন”

 

৪। নিরাপদ গর্ভধারণ নিশ্চিত করে আখের রস গর্ভবতী নারীদের খাদ্য তালিকায় যুক্ত করলে উপকার লাভ করা যায়। এটি গর্ভধারণে সাহায্য ও নিরাপদ গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করে। আখের রসে প্রচুর ফলিক এসিড বা ভিটামিন বি ৯  থাকে যা স্পিনা বিফিডা এর মত জন্মগত ত্রুটি থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়াও গবেষণায় জানা হয় যে, নারীর ডিম্বস্ফুটনের সমস্যা কমায় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।

 

৫। ইনস্ট্যান্ট এনার্জি বুস্টার যদি আপনি ডিহাইড্রেশনে ভুগে থাকেন তাহলে এক গ্লাস আখের রস পান করুন। কারণ আখের রস

তাৎক্ষণিক ভাবে এনার্জি প্রদানের সবচেয়ে ভালো উৎস। আখের রসে চিনি বা সুক্রোজ থাকে যা খুব সহজেই শরীরে শোষিত হয়।

এই চিনি শরীরের হারিয়ে যাওয়া চিনির মাত্রাকে পুনরায় পূর্ণ করতে কাজে লাগে।

 

৬। যকৃতের কাজে সহযোগিতা করে যকৃতের রোগ যেমন – জন্ডিস নিরাময়ে সবচেয়ে ভালো উপাদান হচ্ছে আখের রস।

পিত্তরস জমে গেলে লিভারের কার্যকারিতা কমে যায় বলে জন্ডিস হয়। শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রেখে দ্রুত রোগ নিরাময়ে

সাহায্য করে আখের রস। এছাড়াও আখের রস ক্ষারীয় প্রকৃতির হওয়ায় শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করায় সাহায্য

করে। জন্ডিসে আক্রান্ত হলে প্রতিদিন দুই বেলা আখের রস পান করুন।

 

৭। ফেব্রাইল ডিজঅর্ডার নিরাময়ে ফেব্রাইল ডিজঅর্ডার এর সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে আখের রস। ফেব্রাইল ডিজঅর্ডার এর

সমস্যায় উচ্চমাত্রার জ্বর থাকে। এর ফলে শরীরের প্রোটিন কমে যায়। আখের রস প্রোটিনের ক্ষতি পূরণে সাহায্য করে।

এছাড়াও আখের রয়েছে আরোও প্রচুর চমকপ্রদ সব উপকারি দিক । যা আমরা অনেকেই জানি না ।

 

সতর্কতা

১) রাস্তার পাশের আখের রস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় কারণ এতে জীবাণু রয়েছে, আপনি আখের রস পান না করে আখ খাওয়ার

অভ্যাস করলেও একই ফলাফল পাবেন, নতুবা বাসায় আখের রস তৈরি করে নিন।

 

২) অতিরিক্ত আখের রস পান করা স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক। দিনে ১ গ্লাস আখের রসই যথেষ্ট, নতুবা আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে

এবং ডায়বেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি পাবে।

ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, Bloodhub24 এর সাথে থাকুন। সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।