ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কিছু স্বাস্থ্য টিপস-ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা কখনো পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয় । এই রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় কিন্তু নিরাময় করা যায় না! আপনি যদি ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য একটাই কথা,সচেতনাতার সাথে এবং সঠিক নিয়ম জেনে এবং মেনে জীবন যাপন করুন । তাহলেই আপনি কেবল পেতে পারেন সুস্থ্য সুন্দর এবং সেয়াভাবিক একটি জীবন ।

কি কি নিয়ম বা বিধি মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখা যাবে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যাবে আজ সেই বিষয় নিয়েই কথা বলব এবং আপনাদের কিছু টিপস দিয়ে সাহায্য করার চেষতা করব । তাহলে চলুন শুরু করা যাক –

 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কিছু স্বাস্থ্য টিপস

প্রথমেই আমরা জানব কিছু সাধারন টিপস,যেগুলো ডাক্তার একজন রোগীকে প্রতিনিয়ত ফলো আপ করার নির্দেশ দিয়ে

থাকেন। অন্য ভাষায় বলতে পারেন এগুলো একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বায়োবীয় ঔষধ!

সাধারন কিছু স্বাস্থ্য টিপস

  • প্রতিনিয়ত হাটার অভ্যেস করা বাধ্যতা মূলক,খেয়াল রাখবেন শরীর থেকে যেন কিছু কিছু ঘাম বের হয় ।
  • খুব খেয়াল করে চলা ফেরা করবেন যেন কেটে ছুড়ে না যায় । কারণ এই সময় ঘা শুকাতে অনেক সময় নেয় ।
  • মিষ্টি জাতীয় খাবার একদম খাবেন না ।
  • ভাত খেতে হলেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না । কারণ ভাত ডায়াবেটিস এর জন্য ক্ষতিকারক ।
  • নিয়মিত ডায়াবেটিস টেস্ট করাবেন । মেশিনের ডাম খুব বেশি না,চাইলে নিজেই একটা কিনে ফেলতে পারেন ।
  • মাংস, চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা ইত্যাদি ফ্যাট জাতীয় খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন
  • অন্য কোনো রোগ হলেও দাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ খাবেন না ।

 

আসলে ডায়াবেটিকস রোগটি নিয়ন্ত্রনে থাকবে কি না অথবা আপনি এর প্রভাব মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন

কি না তার অনেক বড় একটা অংশ নির্ভর করে,আপনার খাদ্যাভ্যাসের উপর । আপনার খাদ্য তালিকা যদি সঠিক থাকে তাহলে

ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রনে রাখা খুব একটা কঠিন কাজ নয় । তাই নিচে এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হল-

 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবার তালিকা

 

ফাইবারযুক্ত খাবার

ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়েটে বেশি পরিমাণে ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন – গমের রুটি, ওটস,  ইত্যাদি বেশি বেশি করে রাখতে

হবে । এগুলি ধীরে ধীরে রক্তের প্রবাহে যুক্ত হয়। এইভাবে ইনসুলিন উৎপাদিত গ্লুকোজকে আরও ভালভাবে প্রতিরোধ করতে

পারে।

শাকসবজি

ডায়াবেটিস রোগীদের ভাতের পরিমাণ কমাতে হবে,(যেটা আগেই উল্লেখকরেছি) এবং শাকসবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে ।

শাকসবজির মধ্যে করলা, মেথি, পালং শাক, বেগুন, শালগম, লাউ, মূলা, ফুলকপি, বার্লি, ব্রোকলি, ছোলা, পুদিনা, শিম,

ক্যাপসিকাম ইত্যাদি । মোট কথা শাক সবজি যত খেতে পারেন,এতে কোনো বাধা নাই ।

তুলসী পাতা

তুলসী পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় । এছাড়াও কিছু উপাদান রয়েছে যা ইনসুলিন ক্ষরণ বাড়ায়। তাই

ডায়াবেটিস রোগীরা যদি সকালে খালি পেটে তিন- চারটে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেতে পারে অথবা ভাল করে চিপে/বেতে রস

করেও দুই তিন চামচ করে খেতে পারেন। তাহলে রক্তে শর্করা পরিমাণ কমতে থাকবে ।

গ্রিন টি/চা

আমাদের অনেকের মধ্যেই চায়ের নেশাটা ব্যপক আকারে রয়েছে কিন্তু ডায়াবেটিস হলে তো আর মিষ্টি দুধ বা চিনি দিয়ে চা

খাওয়া যাবে না । এ ক্ষেত্রে গ্রিন টি হতে পারে ভাল একটি সমাধান ।  গ্রিন টিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল । এটি একটি

সক্রিয় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যা রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তাই প্রতিদিন চায়ের পরিবর্তে দুইবেলা গ্রিন টি পান করতে

পারেন ।

দারুচিনি

দারচিনি ভারতীয় খাবারের ব্যবহৃত একটি প্রধান মশলা। দারুচিনি ব্যবহারের সাথে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। এটি

রক্তে চিনির মাত্রা হ্রাস করতে সহায়ক। দারচিনি পিষে গুঁড়ো বের করে নিন এবং এটি গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন।

তবে অতিরিক্ত পরিমাণে এই গুঁড়ো পান করলে বিপদজনক হতে পারে। তাই পরিমাণের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে।

শরীর সবসময় হাইড্রেট রাখা

ডায়াবেটিস রোগীদের নিজেদের শরীর সবসময়ের জন্য হাইড্রেট রাখতে হবে। আর আমাদের শরীর তখনি হাইড্রেট থাকবে যখন

আমাদের দেহে জলের পরিমাণ পূর্ণ থাকবে। তাই শরীরকে জলের অভাব করতে দেওয়া চলবে না। এই জন্য ডায়াবেটিস

রোগীদের প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে।

 

উপরে দায়াবেটিস রোগীদের জন্য সাধারণ কিছু সতর্কবার্তা এবং কেমন কি খাবার খাওয়া যায় তার একটি চিত্র তুলে ধরা হল ।

আশা করি সবাই উপকৃত হবেন ।

 

সাবধানতাঃ নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ,চেক-আপ ইত্যাদি চালু রাখতেই হবে ।