ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী কিছু ফল

 

ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ,এই কথাটি শুনলেই এখন আমাদের জিভ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় । ডায়াবেটিস  হওয়া মানে যেন ধিরে ধিরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া । আসলেই কি তাই?? এছাড়াও কিছু কিছু মানুষ মনে করেন এটি একটি ছোয়াচে রোগ। ডায়াবেটিস রোগী খাবার বা পান পাত্রে অন্য খেলে তারও ডায়াবেটিস হবে । যা একেবারেই ভুল ধারনা। তাই ডায়াবেটিস হলেই মুশরে না পড়ে উচিৎ প্রথমেই একজন ভাল মানের ডাক্তারের স্বরনাপন্ন হওয়া । আর প্রত্যেকেরই উচিৎ বিশেষ করে পরিবারের সকলের ডায়াবেটিস  রোগীকে যতেষ্ট সঙ্গ দেওয়া । তার খেয়াল তাখা । তাকে সময় দেওয়া।তিনি নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন কিনা এসবের খোজ রাখা । কোনো ডায়াবেটিস  রোগীকে কখনোই অবহেলা করা উচিৎ নয় ।

 

কিছুকাল আগেও এই রোগটি আমাদের দেশে ছিল না বললেই চলে । কিন্তু  ইদানিং বিষয়টি এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে খোজ করলে দেখা যাবে প্রায় প্রতিটি ঘরে একজন করে হলেও ডায়াবেটিস রোগির দেখা মিলবে । শুনতে আহামরি মনে না হলেও কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন যে কি মারাত্মক এক রোগ এই ডায়াবেটিস । জীবনটাকে যেন একেবারে আগাগোড়া বদলে দেয়,পাল্টে দেয় খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে জীবনযাপনের ধারা পর্যন্ত সব কিছুই। আসুন, তাই আজ জেনে নেয়া যাক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপাদেয় কিছু ফল সম্পর্কে-

 

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী কিছু ফল

 

১) কিউয়ি:

এই ফলটি বিদেশী হলেও আজকাল আমাদের দেশে সহজেই কিনতে মেলে । ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল একটি ফল এটি । এই ফলটি রক্তে চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখে । তাই যাদের সামর্থ আছে তারা এই ফলটি আহার তালিকায় রাখতে পারেন।

 

২) কালোজাম:

আমাদের দেশের খুবই পরিচিত একটি ফল হচ্ছে কালো জাম ।এর দাম যেমন সস্তা,পাওয়াও যায় খুবই সহজেই।তাই

কালোজামের মৌসুমে নিয়মিতই খেতে পারেন এই ফলটি । একজন সুগার রোগী একদম চিন্তামুক্তভাবে এই ফলটি খেতে

পারেন। কালোজাম রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। শুধু ফলই নয়, কালোজামের বীজকে গুঁড়ো করে দিনে

একবার যদি হাফ চামচ খাওয়া যায় সেটিও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

 

৩) পেয়ারাঃ

ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়ার জন্য অন্যতম একটি উপকারী হল হল পেয়ারা। পেয়ারার মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ‘সি’ এবং

ভিটামিন ‘এ’ আছে, যা সুগার রোগীদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। বিনা সংকোচে খেটে পারেন এই ফল।এটিও খুব সহজলভ্য

একটি ফল এবং খেতেও সুস্বাদু।আর এটি প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় ।তাই নিশ্চিন্তে এই পুষ্টিকর ফলটি খেতে পারেন।

 

৪) পেঁপে:

আমাদের দেশের আরেকটি জনপ্রিয় ফল হচ্ছে পেপে ।এটি যে শুধু ফল তাইই না,এটি একটি খুব ভাল সব্জিও।তাই সবজি অথবা

ফল যেকোনো ভাবেই খেতে পারেন পেপে।এটিও বারমাসি পাওয়া যায়।তাই চিন্তার কোনো কারণই  নাই।  কাঁচা ও পাকা পেঁপে

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এই ফলটিতেও বেশ ভাল পরিমানে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। খিদে পেলে পেট ভরাতেও

অনন্য এই খাবার। তবে খাবেন পরিমিত পরিমাণে।

 

৫) তরমুজ:

এই ফলটি খুবই সুস্বাদু এবং রসালো একটি ফল।এটি মূলত গৃষ্মকালিন একটিন ফল । যত ইচ্ছা তত পরিমাণে যে ফলটি খেতে

পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা, সেটা হচ্ছে তরমুজ। খিদে মেটানো, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগানো ছাড়া পানি শূন্যতাও

রোধ করে এই দারুন মজার ফলটি।

 

৬) কামরাঙ্গা:

বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে কামরাঙ্গা নামক এই ফলটি জন্মে না বা পাওয়া যায় না ।ইদানিং

অনেকে ছাদের বাগানেও লাগাচ্ছেন দু একটি কামরাঙ্গা গাছ।টক মিষ্টি যুক্ত আমাদের সকলেরই প্রায় খুবই পছন্দের।কিন্তু আমরা

অনেকেই জানি না যে এটি ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কতটা উপকারী।যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা  নিঃস্বংচে খেতে পারেন এই

ফলটি।আশা করি উপকার পাবেন।

 

আমাদের মনে রাখতে হবে ডায়াবেটিস রোগ কখনোই পুরোপুরি সেরে ওঠার মত রোগ নয় । এ পর্যন্ত এমন কোনো ভ্যাক্সিন

আবিষ্কৃত হয়নি।তবে সঠিক নিয়মে জীবন যাপন করলে খুব সহজেই এটিকে নিয়ন্ত্রনে রেখে সুন্দর জীবন যাপন করা যায়।

 

আজ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী কিছু ফল মূল নিয়ে লেখা হলে পরবর্তীতে আরো খাবার এবং কিভাবে কিভাবে

ডায়াবেটিস সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রে রাখা যায় সে সম্পর্কে তুলে ধরা হবে।

সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।