যে খাবারগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়-মানুষের শরীরে রয়েছে শতাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ । এদের প্রতিটিরই রয়েছে আলাদা আলাদা কাজ । প্রতিটি অঙ্গই যখন তার স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে তখনই আমরা সুস্থ্য থাকি । আর এর ব্যতিক্রম অর্থাৎ কোনো অঙ্গের যদি স্বাভাবিক ক্রিয়া সম্পাদান করতে না পারে তাহলেই আমরা হয়ে পড়ি অসুস্থ্য । এর মাঝেও আবার এমন কিছু অঙ্গ রয়েছে যেগুলো শুধু নিজে নয়,অন্যের স্বাভাবিক ক্রিয়া সম্পাদান করতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে । আর হৃদপিন্ড তেমনি একটি অঙ্গ ।

আমাদের শরীরের যেসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ রয়েছে তার মধ্যে হৃদপিন্ড সব চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন । এর প্রধান কাজ হচ্ছে রক্তকে পাম্প করা । অর্থাৎ সংকোচন প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত নালীর মধ্য দিয়ে সারা শরীরে রক্ত পৌছে দেওয়া । বুঝতেই পারছেন গুরুত্ব কতখানি । যদি এটি তার স্বাভাবিক কার্য্য সম্পাদন করতে না পারে তাহলে শরীরের কোনো কোনো অংশে রক্ত পৌছাবে না । এতে করে স্ট্রোক থেকে শুরু করে হতে পারে মারাত্মক সব রোগ এবং একজন মানুষ চোখের পলকেই হয়ে যেতে পারেন লাশ!

 

হৃদরোগ কেন হয় ?

বিভিন্ন কারণে হতে পারে প্রাণঘাতী মারাত্মক এই রোগটি । নিচে পয়েন্ট আকারে কিছু কারণ তুলে ধরা হল-

•    ডায়াবেটিস
•    ধুমপান
•    উচ্চরক্তচাপ
•    মানসিক দুঃশ্চিন্তা
•    রক্তে উচ্চমাত্রায় কোলেস্টরল
•    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে
•    বেশি ওজন যাদের থাকে তাদের হৃদরোগের সম্ভাবনা থাকে
•    যারা পরিশ্রমি নয়। অর্থাৎ অলস ব্যক্তির এ রোগের ঝুঁকি থাকেইত্যাদি ।

এছাড়াও আরো বেশ কিছু দিক রয়েছে যেগুলোর জন্যও আপনার হার্ট বা হৃদপিন্ড আক্রান্ত হতে পারে ।

 

হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণ

প্রতিটি রোগই নিজের অস্তিত্ব জাহির করার আগে কিছু উপসর্গ দেখা দেয় । হৃদরোগের ক্ষেত্রেও এর ভিন্নতা নেই । কোনো ব্যাক্তি  হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগেও তার মাঝে কিছু উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় । যদি কারো এই উপসর্গ গুলো সম্পর্কে জানা থাকে তাহলে সে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেতে পারে । তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু উপসর্গ বা লক্ষন সম্পর্কে-

শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃৎস্পন্দন হওয়া,বুকে ব্যথা, বুকে চাপ অনুভব করা, বুক ভার ভার হওয়া, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি । এগুলো কোনো হৃদ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে সাধারণত অনুভব করে থাকেন ।

 

হৃদরোগ হলে করনীয়

আক্রান্ত হলে আপনাকে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সরনাপন্ন হতে হবে । এর কোনো বিকল্প নেই ।

কিন্তু যদি দেখেন যে আপনার মাঝে হৃদ রোগের কিছু লক্ষন দেখা যাচ্ছে কিন্তু সেগুলো ততটাও প্রবল নয় । সে ক্ষেত্রে নিয়ম মাফিক জীবন যাপন এবং কিছু পুষ্টিকর এবং হৃদরোগের ঝুকি কমাতে পারে এমন কিছু খাবার আপনাকে বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে । তাই আগে বুঝতে আপনার অবস্থা কেমন-খুবই খারাপ নাকি শুধুমাত্র কিছু লক্ষন দেখা যাচ্ছে। তারপর সিদ্ধান্ত নিন কি করবেন।আমরা এখানে হৃদরোগের ঝুকি কমাতে পারে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে নিচে তুলে ধরছি-

 

যে খাবারগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

 

মধুঃ

মধু এমন একটি প্রাকৃতিক খাবার বা ঔষধ বা ঔষুধি খাবার,যাই বলেন না কেন পুষ্টি গুন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার এর

তুলনা মেলা ভার!এটি প্রায় সকল রোগের ক্ষেত্রেই দারুন উপকারী । হৃদ রোগের ঝুকিতে থাকা মানুষ গুলোও নিশ্চিন্তে নিয়মিত

মধু খেয়ে যেতে পারেন ।

 

কালোজিরাঃ

কালোজিরা কে বলা হয় সকল রোগের মহৌষধ! হৃদ রোগের ক্ষেত্রে এর রয়েছে প্রচুর ভেসজ উপকারিতা । তাই

নিয়মিত কালোজিরা খেতে পারেন । আর এটি ভর্তা থেকে শুরু করে তরকারি বিভিন্ন কিছুর সাথে খাওয়া যায় । এবং স্বাদও বাড়ায়।

 

আমলকিঃ

স্বাদে টক যুক্ত এই ফলটিরও রয়েছে দারুন সব ভেসজ গুনাগুন । আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি ও

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস । এটি হৃদ রোগের ঝুকি কমাতে সাহায্য করে ।

 

বাদামঃ

এমন খুব কম মানুষই পাওয়া যাবে যিনি বাদাম খান না বা খেতে পছন্দ করেন না । বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন-ই ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। যা কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা কমায় ও হার্টকে সুস্থ

রাখে।

 

আখরোটঃ

এই ফলটি আমাদের কাছে অত বেশি জনপ্রিয় না হলেও এই ফলটির রয়েছে অনেক পুষ্টি গুনাগুন । এর আকার

বাদামের চেয়ে বড় হলেও স্বাদে প্রায় বাদামের মতই । আখরোট খেলে শিরার মধ্যের দূষিত পদার্থকে সরে গিয়ে স্ট্রোক ও হার্ট

অ্যাটাকের প্রবণতা কমে যায়।

 

এগুলো ছাড়াও আরো অনেক ফল মূল রয়েছে যেগুলো হৃদরোগের ঝুকি কমাতে এবং আমাদের শরীর সুস্থ রাখতে দারুন সহায়তা করে থাকে । এটি একটি ধারাবাহিক পোস্ট । তাই আজ আর বেশি বড় করলাম না । পরবর্তীতে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব ।