রক্ত ভাল রাখার কিছু ঘরোয়া উপায়/টিপস-একটা সহজ কথা আমরা সবাই জানি,আর তা হচ্ছে,গাড়িতে মবিল না থাকলে বা নষ্ট

হয়ে গেলে সেই গাড়ি আর চলে না!আর রক্ত হচ্ছে আমাদের মানব শরীরে মবিলের ন্যায়,আর তেল বা জ্বালানী হচ্ছে খাদ্য। তাই

তো রক্তকে সব সময় পরিষ্কার রাখাটা আমাদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য এবং তা নিজেদের সুন্দর স্বাস্থের জন্যই।রক্ত নষ্ট হয়ে

গেছে বা যাচ্ছে,তা অনেক ভাবে বোঝা সম্ভব, যেমন আপনার কি খুব ব্রণ হয়?এও কিন্তু রক্ত দূষিত হয়ে যাওয়ার একটা লক্ষণ।এ

ছাড়া সোরিয়াসিস নামে এক ধরনের ত্বকের রোগও কিন্তু রক্ত নষ্ট বা দূষিত হয়ে গেলেই হয়ে থাকে।

 

এখানেই শেষ নয়, রক্ত যেহেতু শরীরের প্রতিটি কোণায় কোণায় বিদ্যমান তাই রক্ত যদি ঠিক না থাকে তাহলে কিন্তু একে একে

শরীরের বাকি অংশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে এবং বড় কোনো রগের দিকে নিয়ে যায়।তাই সাবধান!তাই আমি আমার স্বল্প

জ্ঞান থেকে এই লেখায় এমন কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি প্রসঙ্গে আলোচনা করলাম,যেগুল মেনে চললে রক্ত নষ্ট  যাওয়ার কোনও

সুযোগই পাবে না। আর একবার রক্ত বিশুদ্ধ হয়ে গেলে দেখবেন ত্বকের রোগ তো দূরে থাকবেই, সেই সঙ্গে শরীরও চাঙ্গা হয়ে

উঠবে। তাই আর অপেক্ষা না করে চলুন জেনে নেওয়া যাক রক্ত বিশুদ্ধ করার ঘরোয়া কিছু উপায়-

 

রক্ত ভাল রাখার কিছু ঘরোয়া উপায়/টিপস

 

লেবু

লেবুশরীরে ক্ষতিকর টক্সিনের(এক ধরনের বিষ) মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত রক্ত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। লেবু নানাভাবে

শরীর থেকে এই বিষগুলিকে বের করে দেয়।তাহলে রক্ত খারাপ হয়ে যাওয়ার সুযোগ কম পায়।এখানেই শেষ নয়, লেবুর মধ্যে

এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরে  উপস্থিত বিশেষ কিছু এনজাইমের কর্মক্ষতা বৃদ্ধি করে। এই এনজাইমগুলি শরীরে

উপস্থিত টক্সিনগুলিকে দ্রবণীয় উপাদানে  রুপান্তরিত করে।ফলে সেগুলি সহজে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। আর যেমনটা আগেই

বলেছি,শরীরে টক্সিনের মাত্রা যত কমবে, তত রক্ত বিশুদ্ধ থাকবে।

 

গুস বেরি

রক্ত বিশুদ্ধ করতে এই ফলটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতিতেও এই

ফলটি দারুন কাজে আসে। ফলে সার্বিকভাবে যদি শরীর সুস্থ রাখতে চান তাহলে নিয়মিত এই ফলটি খাওয়ার অভ্যেস তৈরী

করুন।

 

 আদা

এই মশলাটি সেই আদিকাল থেকে নানা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটা সবারই জানা কথা।এতে কার্কিউমিন নামে

এক ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে প্রচুর মাত্রায়, যা রক্তকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি একাধিক রোগের প্রকোপ কমাতে

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।তাই তো প্রতিদিন যদি অল্প করে আদা খাওয়া যায়, তাহলে কিডনি এবং হজম ক্ষমতার

উন্নতি ঘটে।

 

গাজর

রক্ত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সোরিয়াসিস সহ যেসব ত্বকের রোগ হয়, সেগুলির প্রকোপ কমাতে গাজরের কোনও বিকল্প নেই

বললেই চলে। প্রসঙ্গত, গাজরে রয়েছে গ্লটেথিয়ান নামে একটি উপাদান,যা একপ্রকার ক্লিনিং এজেন্ট, অর্থাৎ রক্তকে পরিষ্কার

করতে এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া এই সবজিটিতে রয়েছে বিপুল পরিমাণে ভিটামিন- এ, বি, সি

এবং কে এবং পটাশিয়াম।এই সবকটি উপাদানই শরীর থেকে টক্সিন বের করে দিতে দারুন কাজে আসে। তাই যখনই বুঝবেন

রক্ত নষ্ট হতে শুরু  করেছে, গাজর খাওয়া শুরু করবেন, দেখবেন দারুন ফল পাবেন।

 

 ব্রাকোলি

এতে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ডিটক্স এজেন্ট যা রক্ত থেকে ময়লা বের করে দিতে যতেষ্ট সাহায্য করতে পারে।তাই তো প্রতিদিন এই

সবজিটি খেলে রক্ত ময়লা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়।প্রসঙ্গত, রক্তের কোণায় কোণায় লুকিয়ে থাকা ময়লাকে টেনে

বার করতে ব্রকলি দারুন কার্যকরী, তাই তো রক্ত বিশুদ্ধ করতে ব্যবহৃত ঘরোয়া উপায়গুলির মধ্য়ে এটি এত জনপ্রিয়।

 

করলা

আমার মতই আপনারা নিশ্চয় ছোট বেলা থেকে শুনে আসছেন তেঁতো খেলে শরীর ভাল থাকে! এ কথাটি বাস্তবিকই সত্যি যে

করলা জাতীয় তেঁতো খাবার খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়, ফলে নানা রোগের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীর বেঁচে থাকে। প্রসঙ্গত,

করলায় প্রচুর মাত্রায় ডিটক্সিফাইং এজেন্ট রয়েছে, যা রক্ত থেকে ক্ষতিকর উপাদানের কার্য্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে সক্ষম।ফলে

সোরিয়ায়িস এবং ব্রণের মতো ত্বকের রোগের প্রকোপ যেমন কমে, তেমনি নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা হওয়ার

আশঙ্কাও কমে যায়।

 

 বিটরুট

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপাটিজ, যা শরীরকে নানা ক্ষতিকর উপাদানের হাত থেকে রক্ষা করে।এবং রক্ত

থেকেও ময়লা দূর করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, লিভারের কর্মক্ষমতা বারাতেও বিটরুট দারুন কাজে আসে।তাই এটিও

প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।

 

উপরে অল্প কিছু বিষয় তুলে ধরা হল।আশা করি এই উপাদান গুলির সঠিক ব্যবহার করে উপকৃত হবেন।

পর্যায়ক্রমে এই ক্যাটাগরির পোস্ট আরো করা হবে।ধন্যবাদ।