সবার ধারনা, মানসিক সমস্যা পুরোটাই মাথায় বিরাজ করে । কাজেই মাথাটা কে বা চিন্তা ভাবনা গুলো ঠিক রাখতে পারলেই সব ঠিক । কিন্তু বাস্তবে মানসিক রোগ মূলত কোনো ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকে না । বিশেষজ্ঞরা বলেন, সবাই কারো মানসিক সমস্যাকে তার দোষ হিসাবে বিবেচনা করেন । ধরে নেন, নিজের দোষেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে । কিন্তু আসলে এই ধারণা টি ভুল । বৈজ্ঞানীক প্রমাণ রয়েছে যে, মানসিক সমস্যা কারো ব্যক্তিগত দোষ নয় । তাই আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করব মানসিক সমস্যা হওয়ার কিছু কারণ এবং এ থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে ।

 

মানসিক সমস্যা হওয়ার কিছু কারণ এবং এ থেকে মুক্তির উপায়

 

 অতি উদ্দিপনা থেকে বিষন্নতা

অতি উদ্দিপনার কারণে বিষন্নতা দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং বিষণ্নতা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এটি সাইটোকাইনস

নামের এক ধরনের প্রোটিন উৎপাদনের কারণে ঘটে থাকে । এই প্রোটিন খুব বেশি উৎপন্ন হলে তা স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর হতে

পারে । এর একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিষন্নতা ।

 

জৈবিক কারণ

ইউনিভার্সিটি অব গ্রানাডার বিজ্ঞানীরা ৩০টি গবেষণাপত্রের বিশ্লেষণ করেন । অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে মানসিক সমস্যা

দেখা দেয় । এটা কৌষিক প্রক্রিয়ায় ঘটে যখন দেহে যথেষ্ট পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে না । ফলে দেহের বিষাক্ত উপাদান

বের হয়ে যেতে পারে না । এটি একটি জৈবিক প্রক্রিয়া আর এতে গোলমেলে হয়ে গেলেই দেখা দিতে পারে মানুষিক সমস্যা ।

 

বংশগত কারণ

কিছু মানসিক অবস্থা সিজোফ্রেনিয়া এবং অ্যাংজাইটির মতো অসুখ বংশগতভাবে আসতে পারে। জেনেটিক কারণ এর জন্যে

দায়ী।এবং এটি পুরো পৃথীবির অনেক সংখ্যক রোগীর মানুষিক রোগের কারণ।

 

দৃষ্টি ভঙ্গির অস্বাভাবিকতা

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে,যাদের অ্যাংজাইটি রয়েছে তারা একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছুর বিচার করতে চান।

বিষয়টি মূলত আবেগিক যেন শুধু তার ধারণাটিই সঠিক । এর মধ্যে অ্যাংজাইটিতে আক্রান্তরা বেশ নমনীয় হয়ে পড়েন । এ সময়

মস্তিষ্ক নতুন কিছুর মধ্যে পার্থক্য বের করতে পারেন না । এ সময় তারা বেশ দ্বিধা দন্দ্বে ভুগতে থাকেন এবং নিজের অজান্তেই

মানুষিক রোগে পড়ে যান ।

 

জেনেটিক পরিবর্তন

কিছু কিছু সময় শিশুর জন্মের সময় শিশুর মধ্যে মানসিক অসুস্থতা চলে আসতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার

গবেষণায় বলা হয়,গর্ভে বৃদ্ধির সময় যাদের জেনেটিক মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘঠেছে, তাদের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া দেখা গেছে।

আর এটি গর্ভে মস্তিষ্ক গঠনের ওপরও ব্যাপক প্রভাববিস্তার করতে পারে।

 

মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রিনহীনতা

মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পারলে প্যারালাইজিং ফোবিয়া দেখা দিতে পারে যার ফলে উড়া বা ওপরে উঠার সময় ভয় অনুভুত

হতে পারে । মূলত মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশের অতিমাত্রার প্রতিক্রিয়ার কারণে এমনটা হয়ে থাকে । এই অংশটি মূলত

মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রন করে ।

 

 মস্তিষ্কে অতিরিক্ত সেরোটনিন হরমনের ক্ষরণ

২০১৫ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, দেহে অতিমাত্রায় সেরোটনিন হরমোন ক্ষরণের ফলে সোশাল অ্যাংজাইটি দেখা দিতে

পারে।সুইডেনের  উপসালা ইউনিভার্সিটির গবেষকদল তাদের পরীক্ষায় দেখেছেন,যাদের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশ এই

হরমোনের বেশি নিঃসরণ ঘটায় তারা সমাজের নানা বিষয় নিয়ে অযথাই চিন্তিত হয়ে ওঠেন।যা ধিরে ধিরে তাদের মানুষিক রোগী

করে তোলে।

 

পরিশেষে বলব-

কেউ মানসিক রোগ ডেকে এনে অসুস্থ হয়ে পড়েন না । শুধু মানুষিক নয় কোনো রোগের ক্ষত্রেই এই কথা প্রযোজ্য নয় তাই

কাওকে ভুল বসত হেয় বা কটু কথা বলা কারোরই উচিৎ নয় । অবশ্যই কোনো না কোনো কারণে রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ ।

কাজেই এটা তার দোষ নয় । মানসিক অসুস্থতা যাই হোক না কেন, চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিরাময় সম্ভব । প্রয়োজন শুধু একটু

সচেতেনতা । এখানে মানুষিক রোগের বিভিন্ন কারণ নিয়ে অল্প বিস্তর আলোকপাত করার চেষ্টা করেছি ।

 

ভুল হলে দয়া করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন । ধন্যবাদ ।