টমেটো খাওয়ার কিছু উপকারিতা

আজ আমরা এমন একটি সবজি নিয়ে আলোচনা করব যেটি শুধু সবজিই নয়, একে ফল বললেও আশা করি কেউ ঘোরতর ভুল ধরবেন না আমায় । কারণ এর স্বাদ এবং পুষ্টি গুণাগুন কোনো ফলের চেয়ে নেহায়েৎ কম কিছু নয় । শুধু স্বাদ আর গুণই নয়, এটি দেখতেও এত সুন্দর যে এর কাছে অনেক দামি দামি ফলের রূপও হার মেনে যাবে! যা হোক, এত বড় ভূমিকা না দিয়ে আসল কথায় আসা যাক । আজ আমরা টমেটো খাওয়ার কিছু উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব । অনেকেই হয়ত এই কথাটি কোথাও না কোথাও জীবনে একবার হলেও শুনেছেন, একটি টমেটোতে আপেলের চেয়ে বেশি পুষ্টি থাকে । তা এই পুষ্টি কি ধরনের বা কি কি কাজেই বা আমাদের লাগে তা আমরা অনেকেই জানি না । তাই আজ আমরা ঠিক করেছি টমেটোর স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলচনা করব । তাহলে চলুন আর দেড়ি না করে শুরু করা যাক –

 

টমেটোর পুষ্টি তালিকা

প্রতি ১০০ গ্রাম টমেটোতে আছে, ০.৯ গ্রাম আমিষ, ৩.৬ গ্রাম শর্করা, ০.৮ মি. গ্রাম আঁশ, ০.২ মি. গ্রাম চর্বি, ২০ কিলোক্যালরি শক্তি, ৪৮ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২০ মি. গ্রাম ফসফরাস, ০.৬৪ মি. গ্রাম লৌহ, ৩৫১ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ২৭ মি. গ্রাম ভিটামিন ‘সি’

 

টমেটো খাওয়ার ৫টি উপকারিতা

১। ক্যান্সার প্রতিরোধক

টমেটোতে সব চেয়ে বেশি পরিমাণে যে উপাদানটি থাকে তা হচ্ছে লাইকোপেন । আর এই লাইকোপেন হল একটি প্রাকৃতিক

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট । এর প্রধান কাজ হচ্ছে কোষের বিভাজন ঠিকমতো হতে সাহায্য করা । আর কোষের বিভাজন সঠিকমত হলে

স্বাভাবিক ভাবেই ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে যায় । একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে টমেটোতে থাকা লাইকোপেন

প্রস্টেট, কলোরেকটাল ও স্টমাক ক্যান্সাররোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে এটা বলাই যে, আপনি

ক্যান্সার থেকে অনেকখানি দূরে থাকছেন ।

 

২। ধূমপানের কুপ্রভাব থেকে রক্ষা

আমরা সহজ কোনো বিষয় প্রকাশ করতে একটি টার্মস ব্যবহার করি । তা হচ্ছে, “ডাল ভাত” । ধুমপান এখন আমাদের কাছে ঠিক এমন

একটি বিষয় হয়েই দাড়িয়েছে । টিনেজার থেকে সত্তর বছরের বৃদ্ধ সকলেই ধুমপানে আমরা নিমজ্জিত । কিন্তু এর ক্ষতিকর প্রভাবের

তালিকা যে কত লম্বা তা আমরা অনেকেই জানি না । যা হোক, এই ধুমপানের ক্ষতির প্রভাব অনেকাংশেই কমিয়ে আনতে সক্ষম টমেটো

। টমেটোয় রয়েছে কিউমেরিক ও ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, যা কার্সিনোজের প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে।  তাই যারা একান্তই

ধূমপান ছাড়তে পারছেন না, তারা দয়া করে দিনে ২-৩ টা কাঁচা টমেটো খাওয়া শুরু করুন । দেখবেন উপকার পাবেন ।

 

৩। ত্বকের সৌন্দর্যবৃদ্ধি

এই কথাটি বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তারা নিজেদের ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির জন্য যার পর নাই চেষ্টা চালিয়ে যান আর

কাড়ি কাড়ি টাকা অপচয় করেন । তারা কি জানেন টমেটো তাদের এ ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করতে পারেন ? টমেটোয় উপস্থিত

লাইকোপেন নামে একটি উপাদান ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও আরেকভাবেও এই সবজিটিকে

কাজে লাগাতে পারেন । কীভাবে? ১০-১২টা টমেটো নিয়ে ভেতরটা পরিষ্কার করে নিন । তারপর টমেটোর স্কিনটা খুলে সারা মুখে কিছুক্ষণ

লাগিয়ে রাখুন । ১০ মিনিট পরে ভালো করে মুখটা ধুয়ে নিন । সপ্তাহে কয়েকবার এমনভাবে ত্বকের পরিচর্যা করলে দেখবেন ত্বকের

কালো কালো ভাব কমতে শুরু করবে । সেইসঙ্গে স্কিনের ঔজ্জ্বল্যও বৃদ্ধি পাবে ।

 

৪। চুলের সৌন্দর্যবৃদ্ধি

স্বাস্থ্যবান চুল পেতে চাইলে ভিটামিন এ যুক্ত খাবারের বিকল্প নেই । ভিটামিন-এ চুলের স্বাস্থ্য ভালো করতে অপরিসীম ভূমিকা পালন

করে থাকে । আর এই উপাদানটি প্রচুর মাত্রায় রয়েছে টমেটোতে । তাই আপনি যদি দীর্ঘদিন আপনার চুল সুন্দর এবং স্বাস্থ্যবান

রাখতে চান তাহলে নিয়মিত টমেটো এবং অন্যান্য ভিটামিন-এ জাতীয় খাবার খান । প্রসঙ্গত, দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতেও ভিটামিন-এ

বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে ।

 

৫। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর

উপরের টিপস গুলোতে বিভিন্ন জায়গায় একটি নাম ঘুরেফিরে এসেছে, তা হচ্ছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট । এটি আমাদের শরীরের জন্য ভিসন

উপকারি একটি উপাদান । আমরা খাবারের সাথে অথবা বিভিন্ন ভাবে আমাদের শরীরে টক্সিক উপাদানের প্রবেশ ঘটে । যা খুবই ভয়ানক ।

এগুলো আমাদের শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি সাধন করে থাকে । আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ক্ষতিকারক উপাদানগুলি যাতে শরীরের কোনও

ক্ষতি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখে । আর টমেটো যেহেতু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, তাই শরীরকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত টমেটো

খান । আশা করি বেশ ভাল ফলাফল পাবেন ।

.

টমেটো খাওয়ার কিছু উপকারিতা ও ঔষধি গুণ

.

টমেটোর কিছু ঔষধি গুণ

 

  • টমেটোর লাইকোপেন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ ও হৃদরোগে কার্যকর।

 

  • যাদের পেটে গ্যাস জমা হয়, হজম কম হয় তারা টমেটো খান সমস্যা কমে আসবে । যাদের পায়খানা কম হয় বা শক্ত হয় তারা সকাল বিকাল দুই/একটা টমেটো কামড়িয়ে খান । সমস্যা কমে আসবে । নিয়মিত টমেটো খেলে পাকস্থলী ও অন্ত্র সুস্থ ও সবল থাকে ।

 

  • যাদের চামড়ায় নানা রোগ আছে বা মসৃণতা কমে গেছে । তারা টমেটো সালাদ করে অথবা রস খান উপকার পাবেন ।বর্তমান

 

  • সময়ে মুখে অরুচি একটি খুবই কমন সমস্যা । এমন যাদের মুখে অরুচি ও পেটে খিদে কম পায় তারা টমেটো টুকরো টুকরো করে কেটে তাতে শুকনো আদার গুঁড়ো ও সামান্য মধু মিশিয়ে খান অরুচি ভাব অনেকটাই কেটে যাবে ।

 

  • আমরা এখন হর হামেশাই বিভিন্ন রঙ ফর্শাকারি ক্রিম ব্যবহার করে থাকি মুখের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার জন্য । শুধু মুখেই নয় বলতে গেলে সারা শরীরেই ক্রিম এখন পাওয়া যায় । আর এগুলো ভালোর পরিবর্তে অনেক সময়ই খারাপ ফলাফল দেয় । তাই এমন কেউ থাকলে যার চেহারা ফ্যাকাশে বা যাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ কম তারা প্রতিদিন বড় মাপের একটি পাকা টমেটো নিয়মিত খান বেশ উপকার পাবেন।

 

  • টমেট আমাদের শরীরে রক্ত বাড়াতে বেশ সহায়ক তাই গর্ভবতী মা ও যাদের বাচ্চা হয়েছে তারা নিয়মিত টমেটো খান শরীরিক ও মানসিক শক্তি বাড়বে । যা মা ও বাচ্চার খুবই উপকার হবে ।

 

  • ছোট বাচ্চাদের দিনে তিনবার অল্প করে টমেটোর রস খাওয়ালে বাচ্চা নিরোগ ও সবল দেহ নিয়ে গড়ে উঠে ।

 

  • টমেটো হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর । এছাড়াও টমেটো ভিটামিন এ ও সি এর এক অনন্য উৎস । এর উপকারিতার শেষ নেই । তাই যদি সুস্থ, নিরোগ থাকতে চান, প্রতিদিন একটি করে টমেটো খান ।

 

সব শেষে দুটি কথা

উপরে দুটি ভাগে প্রায় একই ধরনের কথা বলা হয়েছে । তবে এর মাঝেও কিছু পার্থক্য রয়েছে । তাই কোনো ভাগকেই অবহেলা করবেন না

। সব গুলোই মনোযোগ সহকারে পড়বেন এবং আশা করব এগুলো বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাবেন এবং সুস্থ্য সুন্দর জীবন লাভ

করবেন এই আমাদের কামনা । ধন্যবাদ ।