Prevent the risk of miscarriage-গর্ভপাতের ঝুঁকি রোধে করনীয়?  একজন নারীর জীবনের সব চাইতে আকাঙ্খিত ও খুশির জোয়ার বয়ে নিয়ে আসে মা হওয়ার সংবাদটি । একজন নারী যখন বুঝতে পারেন তিনি মা হতে চলেছেন তখন তার একদিকে যেমন আনন্দের সীমা থাকে না ঠিক একই ভাবে ভয় এবং দুশ্চিন্তাও দানা বাধে । আর এই খুশি এবং ভয় দুটোই শুধু যে সি নারীর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে এমন নয়। সেই পুরো পরিবারেই তা জেকে বসে।

 

প্রতিটি মানব মানবীর জন্যই এটি সমান আরাধ্য একটী বিষয় ।একটী কচি মুখ তাদের জীবনে আসবে এবং পূর্ণ করে দিবে তাদের

জীবন এর চেয়ে বেশি আনন্দের আর কিইবা হতে পারে !

 

তবে একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ,যদি সঠিক ভবে গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা এবং খেয়াল না রাখা হয় তবে শুধু অনাগত সন্তানই

নয় চরম ঝুকিতে থাকিএসেই মায়েরও জীবন । তাই এই বিষয়ে প্রাথমিক ধারনা রাখা প্রত্যেকটি মানুষের জন্যই অত্যন্ত

আবশ্যক।

 

তাই আজ চলুন গর্ভবতী মায়ের এবং নবজাতক সন্তানের পরিচর্যা বিষয় গুলো নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক-

পরিবারের সকলেরই বিশেষ করে সেই মেয়ের স্বামীর দায়িত্বই এখানে অধিক । সব চেয়ে বড় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সেটি হচ্ছে

টেক-কেয়ার বা দেখাশোনা করা । আপনার স্ত্রী বা আপনার ছেলের বৌ কখন কি করছে,সে কি খাচ্ছে বা তার খাবারে রুচি, আছে

কি না,তার শারীরিক অবস্থা কেমন,তাকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে কি না ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

এখন চলুন পয়েন্ট বাই পয়েন্ট কিছু তথ্য যেনে নেওয়া যাক-

 

Prevent the risk of miscarriage-গর্ভপাতের ঝুঁকি রোধে করনীয়-

 

প্রথম ৩ মাস

প্রতিটি মেয়ের প্রথম গর্ভাবস্থার সময় টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুকিপূর্ণ । তাই যে কোনো ধরনের ভাতি কাজ পরিহার করা উচিৎ।

এবং এই সময়টায় কোনোভাবেই স্বামী সহবাস করা যাবে না। এতে করে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ ভ্রমনে

যাওয়া উচিত নয় আর  গেলেও খুবই সাবধানে থাকা উচিৎ ।

 

একাধিকবার গর্ভপাত

একাধিকবার গর্ভপাত হয়ে থাকলে পুনরায় গর্ভধারণের আগে ফিজিক্যাল চেকআপ করে নিন। পরবর্তীতে যাতে একই কারণের

পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

প্রচুর পানি পান করা

গর্ভপাত প্রতিরোধে পানি পানের বিকল্প নেই। তাই প্রচুর পানি পান করতে হবে। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ফলিক

অ্যাসিড, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করুন। এটি বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দেয় এবং

গর্ভপাতের ঝুঁকি কমায়।

 

ধূমপান, অ্যালকোহল পরিহার করা

ধূমপান, অ্যালকোহল, ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় যেমন চা, কফি বা চকোলেট এবং মানসিক চাপের সঙ্গে গর্ভপাতের সম্পর্ক

রয়েছে। তাই এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

এছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে,গর্ভবতী মায়ের সামনে বা তার স্বামীর কোনোভাবেই ধুমপান করা উচিৎ নয়। এতে করে

মায়ের এবং গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

 

ওষুধ সেবনের

গর্ভাবস্থায় ঔষধ গ্রহনের সময় একজন গর্ভবতী মায়ের খুবই সচেতন থাকা উচিৎ ।কারণ অনেক ওষুধ এমন আছে যার ফলে

গর্ভের সন্তানের সরাসরি ক্ষতি সাধিত হয়। শিশু বিকলাঙ্গ, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হতে পারে। তাই সকলেরই উচিৎ এই বিষয় নিয়ে চিন্তা

ভাবনা করে ঔষধ গ্রহন করা উচিৎ।

 

পূর্ণ বিশ্রাম

মাকে সবসময় সাহস দেয়া এবং মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। মায়ের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পূর্ণ

বিশ্রামের ব্যবস্থা করা। যাতে সেই মা সব সময় মনের দিক থেকে হীনমন্যতায় না ভোগে।

 

এছাড়াও একটি বিষয় হচ্ছে খাওয়া দাওয়া।গর্ভবতী মায়ের খাবার অবশ্যই হতে সুসম এবং পুষ্টি গুণাগুন সম্পন্ন।

এমনকি আমরা অনেকেই জানি না যে,এমন অনেক খাবারই রয়েছে যেগুলো আবরোশন পর্যন্ত ফয়ে যেতে পারে।তাই এই

বিষয়টি খুবই খেয়াল রাখা উচিৎ।

 

এমন কিছু খাবারের নাম উল্ল্যেখ করে দিচ্ছি যাতে সবাই সচেতন হতে পারেন।

বার্লি,অপাস্তুরিত দুধ,কাচা পেপে,কাকড়া,চিংড়ি,কচ্ছপের মাংস,কাচা ডিম,মিট আনারস,আধোয়া সবজি ইত্যাদি।খেয়াল রাখবেন

এই খাবার গুলো যেন কোনোভাবেই কোনো গর্ভবতী মা না খান।

 

উপরে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ সচেতনাতার জন্য কিছু লেখা তুলে ধরা হল।আশা করি এতে করে অনেকেই উপকৃত হবেন।ধন্যবাদ।