গাজরের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

গাজর এমন একটি সবজি যাকে আপনি সবজিও বলতে পারেন আবার একই সাথে ফলও বলতে পারেন । দেখতে অবিকল মূলার মত কিন্তু বর্ণে এটি সাদা না হয়ে, হয় লাল রঙের । এট আমাদের খুব পরিচিত একটি সবজি । যদিও এটি শীতকালীন একটি সবজি তবে এটি সারা বছরই পাওয়া যায় । এর স্বাদ এবংপুষ্টির কারণে বাজারে বরাবরই এর চাহিদা ব্যাপক । গাজর যে শুধু রান্নার তরকারি হিসেবেই নয় এটি আপনি কাচাঁও খেতে পারেন । এছাড়া স্যালাদ এ গাজর খুবই জনপ্রিয় একটি নাম । গাজর দিয়ে নানা প্রকারের সুস্বাদু খাবার তৈরী করা যায় । যেমন ভাঁজি,তরকারি ছারাও গাজর দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের হালুয়াও তৈরী করা যায় । আর এসব খাবার শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কাছেই অত্যন্ত জনপ্রিয় । তবে সর্বোচ্চ পুষ্টি লাভের জন্য কাচা গাজর খাওয়াই সর্বোত্তম । তাই কাঁচা গাজর অথবা গাজরের জুস বানিয়ে খেতে পারেন । নিয়মিত গাজর খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে । সামনেই গড়মকাল এ সময় গাজর আপনার শরীর সুস্থ্য রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে । আজ আপনাদের জানাব গাজরের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে ।

 

গাজরের পুষ্টিগুণ

আমরা কম বেশি সবাই গাজর খাই এবং খেতে বেশ পছন্দও করি । কিন্তু আমরা অনেকেই গাজরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানি না । তাই প্রথমেই আপনাদের জানাব গাজরের পুষ্টিগুন সম্পর্কে । নিচে প্রতি ১০০ গ্রাম গাজরের পুষ্টিগুণ দেওয়া হল-

  • খাদ্যশক্তি ৪১ কিলোক্যালরি
  • শর্করা ৯.৫৮ গ্রাম
  • আমিষ ০.৯৩ গ্রাম
  • ফাইবার ২.৮ গ্রাম
  • ভিটামিন এ ১৬৭০৬ আইইউ
  • চর্বি ০.২৪ গ্রাম
  • বিটা ক্যারোটিন ৮২৮৫ মাইক্রোগ্রাম
  • পটাশিয়াম ৩২০ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি ৫.৯ মিলিগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেসিয়াম ১২ মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম ৬৯ মিলিগ্রাম
  • ফসফরাস ৩৫ মিলিগ্রাম
  • লৌহ ০.৩ মিলিগ্রাম
  • কোলেস্টেরল ০ মিলিগ্রাম
  • জিংক ০.২৪ মিলিগ্রাম

গাজরের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

উপরে আপনারা গাজরের পুষ্টিগুন সম্পর্কে জানলেন এখন আপনাদের পয়েন্ট বাই পয়েন্ট কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে বলব । গাজর আমাদের শরীর সুস্থ্য রাখতে অনেক ভাবেই সাহায্য করে । এই পোস্টে বা একটি মাত্র পোস্টে হয়ত খুব বেশি আলোচনা করা সম্ভব নয় । তাই এখানে আপনাদের গাজরের ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানাব ।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

গাজর এ প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে যা শরীরে থেকে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ গুলোকে বের করে দেয় । শরীরের এইসব উচ্ছিষ্টাংশ শরীরের উপকারী কোষ নষ্ট করে এবং ক্যান্সার সহ আরও অনেক জটিল রোগ সৃষ্টি করে।  অনেক গবেষক এর মতে, গাজরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গুলো ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই আমরা নিয়মিত গাজর খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলোন ক্যান্সার ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে । তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত গাজর খান ।

 

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে

গাজরে থাকা পুষ্টি উপাদান চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে । বিটা-ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । গাজরে প্রচুর পরিমাণ বিটা-ক্যারোটিন নামের এক ধরনের উপাদান থাকে । এই উপাদানটি শরীরে ভিটামিন এ তে পরিণত হয় । তাই গাজরে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে কার্য্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয় । পাশাপাশি চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং চোখকে সুস্থ রাখতে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে ।

 

হৃদরোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে

গাজরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিএসিটিলিন ও ডায়েটরি ফাইবার হৃদরোগ প্রতিরোধে ভালো কাজ করে ।  এই উপাদানগুলো ধমনির ওপর কোন কিছুর আস্তর জমতে না দিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং হার্টকে সুস্থ রাখে । গাজরের উচ্চমান সম্পন্ন ক্যারোটিনয়েডস হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় । নিয়মিত গ্রহণে গাজরের বিটা ও আলফ ক্যারোটিন রক্তনালী সংকোচন, অ্যাসিডিটির প্রকোপ কমায় ।

 

ওজন কমাতে সাহায্য করে

গাজরে ক্যালরি এবং সুগারের পরিমাণ খুবই কম থাকে তাই এটি ওজন কমাতে ভাল কাজ করে । এটি খেলে পেট ভরা থাকে বলে ক্যালরিবহুল অন্য খাবারের প্রয়োজন কম হয় । তাছাড়া গাজর চর্বি কমাতে সহায়তা করে বলে ওজন কমে । তাই ওজন কমাতে প্রতিদন বেশি বেশি গাজর খান । অল্প দিনের মধ্যে ওজন কমা শুরু করবে । তাই যারা ডায়েট করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অথবা ওজন কমাতে চাচ্ছেন তারা গাজর এমনি অথবা স্যালাদ হিসেবেও খেতে পারেন ।

 

ত্বক মসৃণ রাখতে সাহায্য করে

গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে এবং ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে । তাই এটা আমদের মুখের তারুণ্য ধরে রাখতে সক্ষম একটি খাবার । ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করতে গাজরের ভূমিকা অন্যতম । তাছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়ামের মতো খনিজের উপস্থিতি ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, স্কিন টোনকে উন্নত করা এবং ত্বকে দাগ পড়া থেকে রক্ষা করে । সব মিলিয়ে ত্বক সুন্দর রাখতে নিয়মিত গাজর খান ।

 

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য গাজর

গাজরে ক্যালরি এবং সুগারের উপাদান খুবই কম থাকে । গাজরে থাকা পটাশিয়াম কোলেস্টরেল এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে যে সব ভিটামিন এবং খনিজের প্রয়োজন তাও বিদ্যমান । তাই ডায়াবেটিস হলে গাজর খেতে পারেন ।

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) বাড়ায়

গাজরে থাকা ক্যারটিনয়েড যাহা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে । এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু, ভাইরাস এবং বিভিন্ন ধরনের প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে । তাছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে বিষমুক্ত করে, হৃদরোগ এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে । গাজরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ছাড়াও নানা ধরনের খনিজ যেমন,ফসফরাস পটাশিয়াম, ইত্যাদি থাকে যা হাড় গঠন, নার্ভাস সিস্টেমকে শক্ত করা ও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । বুঝতেই পারছেন রোগ প্রতিরোধের জন্য গাজর কতটা গুরুত্বপূর্ণ । তাই সুস্থ্য থাকতে নিয়মিত গাজর খান ।

 

সব শেষে দুটি কথা

আমরা অনেকেই বাজারে গিয়ে বা দোকান থেকে গাজর বা টমেটো এই ধরনের সবজিগুলি গায়ের কাপড়ের সাথে মুছে অথবা সরাসরিই খেতে শুরু করি! যা একদমই ঠিক নয় । এতে উপকারের বদলে অপকার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে । তাই শুধু গাজর নয় যে কোনো কিছুই ভাল করে ধুয়ে তারপর খাবেন । এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । অবশ্যই এই স্বাস্থ্যবিধি টি মেনে চলবেন ।

সুস্থ্য থাকুন, ভাল থাকুন সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।