মানসিক রোগের প্রভাব এবং মুক্তির উপায়-চুপচাপ বসে আছেন অথবা কোনো কাজ নেই তাই একটু বসে আছেন । নিজেকে

নিয়ে বা অন্য কোনো কিছু নিয়েও কিছু ভাবছেন না । হঠাৎই আপনার প্রিয়জন বা পরিচিত কেউ এসে আপনাকে খুব সাধারন

ভাবেই বসে থাকার কারন জিজ্ঞেস করল । সাধারনত এরকম হলে কেউ মজা করে উত্তর দেয় বা কেউ সাধারন ভাবে দু একটা

কথা দিয়ে উত্তর দেয় । কিন্তু আপনি করলেন ঠিক উল্টোটাই!মানে চিৎকার চেচামেচি করে একশা অবস্থা!

 

কিছুক্ষন বাদে হয়ত আপনি নিজেও আবিষ্কার করলেন,আচরন টা স্বাভাবিক ছিল না বা ভুল করে করে ফেলেছেন । এর চেয়েও ম

জার বিষয় হচ্ছে,আপনি তখন কেন ওমন করেছেন তা নিজেও জানেন না ! এরকম পরিস্থিতিতে আপনারা কেউ কখনো

পড়েছেন কি না জানি না কিন্তু আমার ক্ষেত্রে অনেকবারই হয়েছে । সত্যি বলতে এগুলো হচ্ছে মানুষিক রোগের পূর্ব লক্ষন।

 

ভূমিকা পড়ে হয়ত বুঝতে পারছেন আজ আমি কি নিয়ে কথা বলব । হ্যা,আজ আমি বিভিন্ন মানসিক সমস্যা,এর প্রভাব এবং এই

সমস্যা গুলি থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় তাই নিয়ে আলোচনা করব । তাহলে চলুন শুরু করা যাক-

 

যেভাবে বুঝবেন মানসিক রোগে ভুগছেন

১। ঘুমে সমস্যা হওয়া । এই যেমন ঠিক সময়মত ঘুম না আসা,খুব ভরেই ঘুম ভেংগে যাওয়া বা অতিরিক্ত ঘুমানো ।

২। দিনের বেশিরভাগ সময় মন খারাপ থাকা ।

৩। খিদে না থাকা বা থাকলেও খেতে ইচ্ছে না করা ।

৪। মেজাজ খিতখিটে হয়ে থাকা,হঠাৎই রেগে যাওয়া ।

৫। আগে যেসব বিষয়ে আনন্দ পেতেন কিন্তু এখন বিরক্ত লাগে ।

৬। যৌন আবেগ কমে যাওয়া ।

৭ । নিজেকে ছোট ভাবা বা শুধু শুধুই অপরাধি মনে হওয়া ।

৮ । মৃত্যু চিন্তা করা ।

৯ । অবষাদ গ্রস্ত হয়ে পড়া বা মনোযোগ কমে যাওয়া ।

১০ । সব সময় একা একা থাকা বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া ।

এই বিষয় গুলি ছারাও কিছু শারিরিক লক্ষনও এসময় দেখা দেয় । যেগুলো থেকে বোঝা যায় যে আপনি মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে

পড়ছেন । যেমনঃ মাথাব্যথা, বুকে অস্বস্তি বোধ, মাথা-শরীর-হাত-পা জ্বালা করা, গলার কাছে কিছু আটকে থাকা, শরীর ব্যথা,

গিঁটে গিঁটে ব্যথা, বুক জ্বালা  ইত্যাদি ।

 

মানসিক রোগের প্রভাব কতটা!

প্রথমে বহুল প্রচলিত ছোট একটি গল্প বলি, একবার ফাসির এক আসামিকে ঠিক করা হল তাকে ফাসিতে না ঝুলিয়ে সাপের দংশনের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে । যেহেতু সে মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত আসামি তাই তার আর এখানে বলার কিছুই ছিল না ।

 

তো, পুরো বিষয়টিই ছিল আসলে সাজানো এবং এটি সাজিয়েছিলেন একদল বিজ্ঞানী । তারা আসলে তার উপর একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন । যথারীতি নির্ধারিত দিনে তাকে হাজির করা হল এবং একটি চেয়ারের সাথে তার হাত পা বেধে ফেলা হল । এবং কালো কাপড় দিয়ে চোখও বেধে দেওয়া হল । এরপর সাপ নিয়ে আসা হল । বিজ্ঞানীরা সাপ কাছে আনলেন ঠিকই কিন্তু ছোবল দিতে দিলেন না,তার পরিবর্তে তারা একটি সাধারণ পিন ফুটালেন তার শরীরে ।

আসামি লোকটি চিৎকার করতে শুরু করল এবং এক সময়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ল । কিছুক্ষন পর দেখা গেল সে আসলে মারাই গিয়েছে!

এরপর বিজ্ঞানীরা পোস্টমোর্টেম করে তো অবাক,কারণ লোকটির শরীরে সাপের বা টক্সিন নামক বিষ দেখা যাচ্ছে এবং এই বিষের কারনেই তার মৃত্যু হয়েছে! তখন তারা আরো পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এই সিদ্ধান্তে উপনিত হলেন যে,আসলে এই লোকটি খুব প্রবল ভাবে বিশ্বাস করেছিল যে তাকে সাপে কামড়িয়েছে এবং এই বিশ্বাসের কারণে তার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয় ভাবে তার শরীরে বিষ তৈরী করেছে ।

বন্ধুরা, এই গল্পটি বললাম এই কারণেই যে,মানসিক ইচ্ছা বা শক্তি অনেক বড় একটি বিষয় । যার দ্বারা অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায় ।

 

মানসিক রোগের প্রভাব এবং মুক্তির উপায়

এবার চলুন এখান থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক । প্রথমেই বলব, যদি নিজের বা নিজের কাছের কারো মাঝে মানসিক সমস্যা বা অতিরিক্ত বিষন্নতা বুঝতে পারেন তাহলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের স্বরনাপন্ন হোন । এটাই সর্বোত্তম পন্থা ।

 

এছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশিকা

১ । প্রথমেই নিজের বিষন্নতার কারণ খুজে বের করুন । এরপর কেন তা ঘটল এবং কি করলে এই অবস্থা দূর হবে সেটা ঠিক করে ফেলুন এবং সেই মত কাজ শুরু করে দেন ।

২ । খুব কাছের মানুষ থাকলে তার সাথে মন খারাপের বিষয়টি নিয়ে আলাপ করুন ।

৩ । নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন,গোসল করুন,ভাল কাপড় চোপড় পড়ুন ।

৪ । যেসব কাজে আপনি আনন্দ পান সেগুলো করুন ।

৫ । খেলাধুলা বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করতে পারেন ।

৬ । নিয়মিত শরীর চর্চা,ব্যায়াম বা যোগ ব্যায়াম করুন ।

৭ । অতিরিক্ত সময় শুয়ে না থেকে বাহিরে বের হোন,খোলা হাওয়া গায়ে লাগান । বিশেষ করে ভোর বেলা এর জন্য খুবই উপযোগী ।

৮ । বিষন্ন অবস্থায় কখনোই কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্দান্ত নিবেন না ।

৯ । আত্মহত্যার প্রবনতা থাকলে একা একা থাকবেন না ।

১০ । পুরোনো বন্ধু বান্ধবদের সাথে সময় দেওয়া চেষ্টা করুন । ইত্যাদি ।

 

সব শেষে কিছু কথা

মানুষের মনের জোর অনেক বেশি শক্তিশালি । এই মনের জোড়েই মানুষ হিমালয় থেকে চাঁদ অব্দি জয় করে নিয়েছে । তাই

কখনোই নিজেকে ছোট ভাববেন না । নিজের ভেতরের মানুষটিকে সময় দিন,তার সাথে কথা বলুন । তাকে অনুভব করুন ।

সমস্যা সকলের জীবনেই কম বেশি থাকে আবার সময়ের আবর্তে সেগুলো কেটেও যায় । তাই দমে যাওয়ার কিছু নাই । চেষ্টা

করুন,বার বার চেষ্টা করুন সফলতা আসবেই । সেই সাথে মনও থাকবে ফুরফুরে ।

 

সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।