হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন কিভাবে

করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ ঠেকাতে সারা বিশ্ব জুড়েই প্রতিরোধক হিসেবে যে বিষয়টির উপর সব চেয়ে বেশি জোড় দেওয়া হচ্ছে তা হচ্ছে, হোম কোয়ারেন্টাইন । অর্থাৎ আপনাকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে । খুব প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের না হওয়ার কথা বলা হচ্ছে । আর যাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রাথমিক কিছু লক্ষ্ণ প্রতিফলিত হচ্ছে তাদের জন্য এই ব্যবস্থাটি আরো স্প্যাসিফিকলি এবং স্ট্রিক্টলি ফলো করবার কথা বলা হচ্ছে । এছাড়াও কোরোনা ভাইরাসে অধিক ঝুকিতে থাকা দেশ সমূহ থেকে যারা দেশে ফিরছেন তাদেরকেও একই পদ্ধতি ফলো করতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে । তাই বিষয়টি পুরোপুরি জানা আমাদের জন্য একান্ত আবশ্যক । যারা জানেন না হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন কিভাবে তাদের জন্যই এই পোস্টটি ।

আজ কিছু নিউজ দেখে আমি এত বেশি অবাক হয়েছি তা আর বলার নয় ! কোরোনায় এই মুহূর্তে সব চেয়ে বেশি ভুগছে ইউরোপ এবং ইউরোপের দেশ ইতালি । সেই ইতালি থেকে গত কয়েকদিন আগে একটি ফ্লাইটে যে লোক গুলো এসেছিলেন তাদের বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ উভয় জায়গা থেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু তারা এসব থোরাই কেয়ার করে কেউ গার্লফ্রেন্ড নিয়ে টো টো করে সারা শহর ঘুরে বেড়াচ্ছেন আবার কেউ পরিবার পরিবার পরিজন নিয়ে মেতেছেন বিয়ের উৎসবে । এসব দেখে মনে হচ্ছে তাদের জন্য শহর বা এলাকা গুলো ছেড়ে দিয়ে এখন নিজেদেরই হোম কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে !

খেয়াল করে দেখবেন, বাংলাদেশে যেদিন প্রথম করোনা কেস পাওয়া যায় সেদিন একজন সরাসরি ইতালি থেকে এই রোগ নিয়ে এসেছিলেন এবং গিয়ে তার পরিবারের সাথে মিশে আরো দুজনকে অসুস্থ্য করে ফেলেছেন । এত বেশি অন্ধ হলে আমাদের চলবে না । আরো সচেতন হতে হবে এবং বিধি মেনে চলতে হবে । তাহলেই কেবল নিজের পরিবার, সমাজ এবং দেশকে করোনা মুক্ত করা সম্ভব ।

রেফারেন্স-যমুনার ক্যামেরায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসীদের চিত্র

রেফারেন্স-ঘোরাঘুরি-বিয়েশাদী কিছুই বাদ রাখছেন না বিদেশফেরতরা 

 

হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার প্রস্তুতি

যারা বিদেশ থেকে ফিরছেন অথবা তাদের পরিবার আগেই কিছু বিষয়ে যে প্রস্তুতি গুলো নিয়ে রাখবেন । যেমন-আলদা একটি ঘর এবং একজন মানুষের প্রয়জনীয় সকল জিনিস পত্র যেমন হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড গ্লোভস, একটি ডাস্টবিন, পরধানের কাপড় ইত্যাদি সকল কিছুর ব্যবস্থা করে রাখা । খেয়াল রাখবেন ঘরটিতে যেন পর্যাপ্ত আলো বাতাশ প্রবেশ করতে পারে । এছাড়া এটাচড বাথরুম হলে খুব ভাল হয় । এটাচড বাথরুম না থাকলে ঐ ব্যাক্তির জন্য আলাদা একটি বাথরুমের ব্যবস্থা করে দিন ।

যেভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন

বাড়ি ফিরেই পরিবার সকলকে কমপক্ষে এক থেকে দুই মিটার সরে যেতে অনুরোধ করুন । এবং অবশ্যই মাস্ক বা হ্যান্ড গ্লাভস খুলবেন না । আর এটা পরবর্তী সময়ের জন্যও বজায় রাখুন । এরপর রুমে গিয়ে প্রথমেই হাত মোজা, মাস্ক এবং কাপড় গুলো খুলে ডাস্টবিনে ফেলে সেগুলো পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে সরিয়ে ফেলুন অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলুন । এরপর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে নতুন কাপড় পরে নিন ।

হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যাক্তির খাবার পাত্র এবং জল খাবার গ্লাস আলাদা করে ফেলুন । এবং সেগুলো আর কেউ যেন ব্যবহার যেন না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন । খাবার দেবার সময় বা নেওয়ার সময় একই দূরত্ব বজায় রেখে খাবার নিন । কখনোই সবার সাথে বসে খাবার খাওয়া যাবে না । এই সময়ে ঘন ঘন সাবান বা এন্টি জার্ম হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন । খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘরের বাহিরে যাবেন না । গেলেও সঠিক ভাবে মাস্ক পড়ে নিন । হাচি, কাশি থাকলে রুমাল ব্যবহার করুন । আর যেখানে সেখানে কফ, থু থু ফেলবেন না । এর সাথে যে সাধারণ সতর্ক বার্তা গুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো মেনে চলুন । আর এভাবে কমপক্ষে ১৪দিন অবস্থান করুন ।

এরপর হাসপাতাল বা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে পরিক্ষা করান এবং ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন । যদি আপনাকে ডাক্তার নিরাপদ ঘোষনা করেন তাহলে পরিবারের কাছে ফিরে যান এবং সাধারণ সতর্কবার্তা গুলো মেনে চলুন ।

সাধারণ সতর্কবার্তা গুলো পড়তে ক্লিক করুন । 

.

অবস্থা খারাপের দিকে গেলে কি করবেন ?

এই সময়ে যদি আপনার অবস্থা খারাপের দিকে যায় তাহলে প্রথমেই নিজে অথবা পরিবারকে হাসপাতাল অথবা করোনা ভাইরাসের জন্য নির্ধারিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করুন । তারা নিজেরা এসে আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে ।

এছাড়াও এসময়ে একজন ব্যাক্তি মানসিক ভাবে কিছুটা দূর্বল হয়ে পরতে পারেন । তাদের উদ্দেশ্যে বলব, এটা শুধু আপনার নিজের জন্য নয়, আপনার পরিবারের জন্যও আপনার একটি দায়িত্ব । মানুষের জীবনে এমন অনেক সময় আসে যেগুলো প্রায় যুদ্ধের সমান । আর যুদ্ধে নামলে অবশ্যই নিজের পরিবার এবং সময়াজের প্রতি দায়িত্বে অবহেলা করলে চলবে না । এবং নিজেকে লড়ার মানুষিকতা নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে ।

আপনাদের সুবিধার জন্য এখানে আমি IEDCR এর কন্টাক্ট নম্বর দেওয়া হল-

Phone: +880-2-9898796, 9898691

Mobile: +880-2-9898796

 

সব শেষে দুটি কথা

আতঙ্কিত না হয়ে সচেন হোন, দায়িত্ববান হোন । আবার একই সাথে ওভার কনফেডিন্সি দেখাবেন না । কারণ রোগ বা ভাইরাস মানুষের জাত-পাত বা ধর্ম দেখে বাসা বাধে না । সে চলবে তার নিজের নিয়মে । তাই সচেতন হোন এবং সুস্থ্য থাকুন । ধন্যবাদ ।