মধুর সঙ্গে আমলকির রস মিশিয়ে খেলে কি হয় জানেন!-মধু এবং আমলকি এই দুটি জিনিস যে কতটা উপকারী তা হয়ত নতুন করে কিছু বলার নেই । প্রাকৃতিক এই খাদ্য বস্তু দুটিতে মানুষের জন্য উপকারী এমন কোনো উপাদান নেই যা নেই!এর পুষ্টিগত গুনাগুন যদি বলতে যাই তাহলে হয়ত ২-৩ঘন্টা লিখেও শেষ করতে পারব না । মধু এবং আমলকি পৃথক পৃথক ভাবেও যেমন ভিসন উপকারি ঠিক তেমনি এই দুটির মিশ্রনেও রয়েছে অসাধারন সব উপকারি দিক ।  তাই আজ আমরা এর পুষ্টি গুনাগুনের দিকে নজর না দিয়ে এগুলোর বিভিন্ন উপকারি দিক সম্পর্কে তুলে ধরব । তাহলে চলুন শুরু করা যাক-

 

মধুর সঙ্গে আমলকির রস মিশিয়ে খেলে কি হয় জানেন!

 

জ্বরের প্রকোপ কমাতে মধু এবং আমলকি

চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে,মধু এবং আমলকির রস জ্বরের দাপট কমাতে দারুন ভাবে সাহায্য করে থাকে । সেই সঙ্গে জ্বরের কিছু

উপসর্গ যেমন,হাচি-কাশি ইত্যাদি প্রশোমনেও এটি দারুন ভূমিকা পালন করে । এছাড়া জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আগে এবং পরে

অনেকেরই গলায় ব্যথা অনুভূত হয়ে থাকে । সে ক্ষেত্রেও মধু এবং আমলকির রসের মিস্রন বেশ কার্য্যকরি ।

 

কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রশমনে

আমাদের আধুনিক সমাজে সবাই স্বাস্থ্য সচেতন । এটা অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক । সুস্থ্য সুন্দর স্বাস্থ্যের অন্যতম অন্তরায়

হচ্ছে কোলেস্টোরেল । এই কোলেস্টোরেল কে প্রশমনে বা এটিকে দূর করতে আমরা নানাবিধ কাজ করে থাকি । কিন্তু আমরা

অনেকেই জানি না যে,মধু এবং আমলকি এই কোলেস্টোরেল সমস্যার সমাধানে কত ব্যপক ভূমিকা রাখতে পারে । মধু এবং

আমলকির রসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং উপকারি অ্যামাইনো এসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর

পাশাপাশি হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই অবশ্যই এটি ট্রাই করে দেখবেন ।

 

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে

ডায়াবেটিস রোগের বিভিন্ন চিকিৎসা থাকলেও এর নিরাময় কখনোই সম্ভব নয় । তাই আমরা হামেশাই ছুটি ডাক্তারের পেছনে

এবং গচ্চা দেই কারি কারি টাকা । কিন্তু এর লাগাম টেনে ধরতে যে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি আছে সেগুলো আমরা প্রায় ভুলতে

বসেছি। নিয়মিত আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই

রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়। তাই অবশ্যই ঘরোয়া এই পদ্ধতিটি আমাদের এক বারের

জন্য হলেও ফলো করা উচিৎ ।

 

হজম ক্ষমতা জনিত সমস্যায়

বর্তমান সময়ে আমরা যা খাই তার বেশির ভাগই কোনো না কোনো পর্যায়ে দূষিত পদার্থ এর সংস্পর্শে চলে আসে । আর এই সব

খাবার যখন আমরা খাচ্ছি স্বাভাবিক ভাবেই তখন আমাদের পরিপাক তন্ত্রে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে । এর ফলে আমরা হয়ে পড়ছি

অসুস্থ । এখানেও আমলকি এবং মধু দারুন কার্য্যকরি ভূমিকা পালনে সক্ষম । আমলকিতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যালকেলাইন যা

আমাদের ডায়জেস্টিভ পাওয়ার বাড়িয়ে দেয় এবং দূষিত পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয় ।

 

লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়ায়

মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলির মধ্যে লিভার অন্যতম । এর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার উপর আমাদের সুস্থ্যতা অনেক

খানি নির্ভর করে । একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে আমলকি রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা

বাড়তে শুরু করে। এই উপাদানটি লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন বিষাক্ত উপাদানদের শরীরে থেকে বের করে দেয়। ফলে

স্বাভাবিকভাবেই লিভারের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

 

চুলের সৌন্দর্য বর্ধনে 

চুল,বিশেষত মেয়েদের কাছে এটি অতি আকাঙ্খিত এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ । এর সৌন্দর্য্যের উপর একজন নারীর সর্বোপরি

সৌন্দর্য্যের অনেকখানি নির্ভর করে । টিভি বা পত্রিকায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে দেখবেন বিভিন্ন বিউটি প্রোডাক্টসে মধু এবং আমলকির

উপাদান রয়েছে বলে জোর গলায় প্রচার করা হয় । কিন্তু কেন? আমলকিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, তেমনি রয়েছে প্রচুর

মাত্রায় অ্যামাইনো অ্যাসিড। যেগুলো চুলের সৌন্দর্য্য বর্ধনে অনিস্বিকার্য্য উপাদান । তাই শুধু আমলা সমৃদ্ধ বিউটি প্রোডাক্ট নয়,

গড়ে তুলতে পারেন নিয়মিত আমলকি খাওয়ার অভ্যাস । এতে করে চুলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং

আপনি পাবেন আপনার ভালোবাসার চুলের প্রাণ!

 

এখানে আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞান এবং বিভিন্ন ওয়েব পেইজের তথ্যের উপর নির্ভর করে এই ব্লগটি লেখা হয়েছে । তাতে ঘাবরানোর

কিছু নেই কারণ এখানে দুটি প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে সমাধান দেওয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে । এতে করে লাভ না হলেও

ক্ষতি হওয়ার কোনো চান্স নেই । তাই নির্দিধায় ট্রাই করে দেখতে পারেন ।

 

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ । কেউ যদি বিশেষ কোনো বিষয়ে ব্লগ চান তাহলে কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের

জানান,আমরা সে বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পোস্ট করার চেষ্টা করব ।