টক মিষ্টি স্বাদের ফল আমড়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা রাস্তার ফেরিওয়ালা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে সর্বত্র পাওয়া যায় আমড়া। এর সঙ্গে সবারই পরিচয় রয়েছে। সারাবছরই কম বেশি দেখা যায় এই ফলটি । আকারে ছোট এই ফলটির প্রকৃত মৌসুম হচ্ছে জুলাই-আগস্ট । এ সময়ে ফলটি পরিপুষ্ট থাকে এবং আকারে বড় হয় । দেখতে ছোট হলেও ফলটির কিন্তু রয়েছে অনেক গুণ । আমড়ায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে ।

 

টক মিষ্টি স্বাদের ফল আমড়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা গুলো,যা না জানলেই নয় ।

আমড়া এর গুণাগুণ

প্রতিটি আমড়ায় তিনটি আপেলের সমান পুষ্টি রয়েছে। কাঁচা অবস্থায় এটি টক থাকে, পেকে গেলে টকভাব খানিকটা চলে যায়।

এই ফলটি কাঁচা-পাকা, রান্না করে কিংবা আচার বানিয়ে খাওয়া হয় ।

 

আমড়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে স্ট্রোক ও হৃদরোগের হাত থেকে রক্ষা করে। ভিটামিন সি ও

ক্যালসিয়ামদাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং শরীরের পেশী গঠনে সহায়তা করে ।

 

এ ফলটিতে বিদ্যমান পেকটিন জাতীয় ফাইবার বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সারসহ

অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করে শরীরকে সুস্থ রাখে।

 

আমড়া ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। যারা রক্ত

স্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য আমড়া খুবই উপকারী। কারণ আমড়াতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় শরীরের রক্তের চাহিদা

পূরণ হয় এবং রক্ত জমাট বাঁধতে সহয়তা করে।

আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে ঠাণ্ডা, কাশি ও কফ দূর করে এ ফলটি।

 

আমাড়া খাওয়ার উপকারিতা

ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ:  ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড়ের রোগ, মাংস পেশীর খিঁচুনিসহ অনেক রোগ হতে পারে ।

তাইপ্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণে আমড়ার খাওয়া যেতে পারে ।

 

ত্বক ভাল রাখতে:  ত্বকের ব্রণ কমাতে এবং ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে আমড়া দারুণ উপকারী । আমড়ায় প্রচুর ভিটামিনসি

রয়েছে, যা ত্বক উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে ।

 

রক্তস্বল্পতা রোধে:  আমড়ায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা রক্তস্বল্পতা রোধে কার্যকরী। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের

মাত্রাও ঠিক রাখে।

 

বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে:  আমড়ায় বিভিন্ন দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা পাকস্থলীর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখে । তাই

বদ হজম, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো  রোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত আমড়া খেতে পারেন ।

 

সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুঞ্জার বিরুদ্ধে কাজ করে:  আমড়া বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমন থেকে রক্ষা করে এবং সর্দি-কাশি ও

ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে । তাই আমড়ার সিজনে প্রতিদিন এই ফল খেলে আপনি নানান সংক্রমণ থেকে

সহজেই রক্ষা পেতে পারেন ।

 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:  আমড়ায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ক্যান্সারসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে

সহজেই সুস্থ থাকা সম্ভব হয় ।

 

রুচি বাড়ায়:  অসুস্থ ব্যক্তিদের মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে আমড়ার দারুণ কার্যকর । আমড়া খেলে মুখের অরুচিভাব দূর হয় ও

ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। তাই রুচি বাড়াতে নিয়মিত ফলটি খাওয়া যেতে পারে ।

 

স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়:  আমড়া রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই আমড়া খেলে স্ট্রোক ও

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে । এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা দাঁত ও মাড়ির বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে ।

 

উপরে টক মিষ্টি স্বাদের ফল আমড়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা তুলে ধরা হল । যার অনেক গুলোই আমাদের জানা আছে ।

আশা করি এতে সকলের উপকার হবে এবং অবশ্যই দেশিয় এই ফলটি মাঝে মাঝে বাসায় আনা এবং পরিবার পরিজন নিয়ে

খাওয়ার চেষ্টা করবেন । এছাড়াও বাসায় আমড়ার আচার করে রাখতে পারেন এতে করে সারা বছরই আপনার ঘরে থাকবে এই

সুস্বাদু এবং ওষুধি গুণ সম্পন্ন এই ফলটি । সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।