বর্তমান সময়কে বলা হয় প্রযুক্তির যুগ । আর এই প্রযুক্তিকে এত সহজলোভ্য করে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে যে জিনিসটি, তা হচ্ছে মোবাইল ফোন । যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরাও হাতে তুলে নিচ্ছি একটি মোবাইল ফোন অথবা স্মার্ট ফোন । এক কথায় বলা যায় একটি স্মার্ট ফোন ছাড়া এখন আমাদের জীবন যাপন অচল প্রায়!একজন মানুষের ইনকাম যতই কম হোক না কেন অবশ্যই তার হাতে একটি স্মার্ট ফোন থাকা চাইই চাই । না এখানে আমি আর্থিক দিক নিয়ে আলোচনা করতে বসিনি । তবে এই স্মার্ট ফোন এর যত্রতত্র ব্যবহারের ফলে আমরা নিজেদের অজান্তে যে নিজেদেরই অনেক বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলছি এবং মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সমূহ সম্পর্কে আমরা তেমন জানি না বললেই চলে । তাই এই বিষয়ে বিজ্ঞান সম্মত এবং ডাক্তারদের বলা উপায়েই সকলকে সচেতন করবার প্রয়াস চালাব-

 

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক সমূহ

 

এখানে প্রথমেই কেউ ব্যঙ্গ করে বলতে পারেন, এটি যেহেতু সব দিক দিয়েই ক্ষতিকর তাহলে কি স্মার্ট ফোন ব্যবহার করা ছেড়ে

দিব? না তা আমি বলছি না । তবে আমাদের সকলকেই এর ব্যবহারে সচেন হতে হবে এই কথাটাই আমি বলছি ।

প্রথমে চলুন দেখা যাক চিকিৎসা বিজ্ঞাণ কি বলছে এই স্মার্ট ফোন এর ক্ষতিকর দিক গুলো সম্পর্কে ।

আমাদের অনেকেরই এমন একটি অভ্যেস রয়েছে যে, একটু পর পরই মোবাইল বের করে ফেসবুক,ইমেইল বা অন্যান্য

সাইটে গিয়ে নোটিফিকেশন চেক করার! যদিও নতুন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছু আসার সম্ভাবনা নেই । তবুও আমরা তা

করি!এতে করে আমাদের মোনোযোগীতা কমে যায় । এক গবেষনায় দেখা গেছে যারা ফোন নিয়ে সারাক্ষ্ণ পরে থাকেন

তারা জরুরী মুহূর্তে সাধারণের চেয়ে ২০-২৫% দেড়িতে সারা দেন । যা খুবই মারাত্মক ।

 

উপরের ঠিক একই কারণে হতে পারে কিছু সাধারন রোগ বালাইও । বলতে পারেন কিভাবে?

খেয়াল করে দেখুন,আমরা অনেকেই খেতে খেতে ফোন ব্যবহার করি।যদিও আপনি খাবার আগে ভাল করে হাত ধুয়েই এসেছেন

কিন্তু খাবার সময় বা আগে আবার ফোন হাতে তুলে নিয়েছেন (নিশ্চয়ই কেউ কখনো ফোন সাবান দিয়ে ধুই না!)

এর ফলে ফোন থেকে রোগ জীবাণু গুলি লেগে যাচ্ছে হাতে সেখান থেকে পেটে এবং ফলাফল অসুখে পড়া!

 

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারের অসুস্থ প্রতিযোগীতা

 

আমাদের মধ্যে এখন এক ধরনের প্রতিযোগিতা দেখা যায় কে কত বেশি সময় ফোন ব্যবহার করতে পারে ।

এমন লম্বা সময় ফোন ব্যবহার করার কারনে মাথা ব্যথা,চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যা হওয়া খুব সাধারণ ব্যপার ।

যা পরবর্তীতে নিতে পারে ভয়ঙ্কর রূপ । তাই আমাদের সকলেরই উচিৎ সচেতন হওয়া । প্রয়োজনে যদি লম্বা সময়

ফোন ব্যবহার করতেই হয় তাহলে কিছু সময় পর পর চোখ অন্যদিকে সরিয়ে  নিয়ে ব্যবহার করা উচিত । আর চোখ থেকে ফোন

অবশ্যই কমপক্ষে ১৬ ইঞ্চি দূরে রাখতে হবে ।

 

মোবাইল ফোন থেকে নিঃসরিত তেজস্ক্রিয় রশ্মি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে আমাদের মস্তিষ্ক এবং হার্টকেও!

মোবাইল ফোনের তেজস্ক্রিয়তা মস্তিষ্কে মেলাটনিনের পরিমাণ হ্রাস করে, যার ফলে বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয় । এছাড়া

এটি এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, মোবাইল ফোন থেকে নিঃসরিত তড়িত-চৌম্বকীয় তরঙ্গের কারণে অনিদ্রা, আলঝেইমার

ও পারকিনসন’স ডিজিজের মত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় ।

আমরা অনেকেই ফোন জামার বুক পকেটে রাখি।এভাবে দীর্ঘ সময় রাখলে তা ধিরে ধিরে আমাদের হার্টকে এফেক্ট করতে থাকে।

যা থেকে পরবর্তীতে হতে পারে মারাত্মক সব হার্টের সমস্যা । তাই বুক পকেটে ফোন রাখা একদমই অনুচিত ।

 

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত ব্যবহারে পুরুষের ক্ষতি

 

আমরা ছেলেরা বেশিরভাগই ফোন রাখি প্যান্টের পকেটে । যা আরো বড় দুশ্চিন্তার কারণ আমাদের ছেলেদের জন্য!

কিভাবে?আমরা কথা বলার পর যখন ফোন পকেটে রাখি তখন এটি বেশ উত্তপ্ত অবস্থায় থাকে যা ছেলেদের

শুক্রাণু ধংশের জন্য সব চেয়ে বেশি দায়ি!কারণ শুক্রাণু কেবল ৪ডিগ্রি তাপমাত্রায়ই সক্রিয় থাকে । তাই অতিরিক্ত তাপমাত্রা

শুক্রাণুর জন্য ক্ষতিকর । এছারা ফোনের  তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ তো সব সময় চালুই থাকে।তার এফেক্ট তো রয়েছেই ।

আরেকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ন,আমাদের শরীর থেকে এক ধরনের উপকারী  তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ বের হয়।যা নির্দিষ্ট ।

কিন্তু ফোনের উচ্চ মাত্রার তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ এর প্রভাবে সেই প্রক্রিয়া ব্যহত হয় এবং অস্বভাবিক আকৃতির

শুক্রাণু তৈরি হয় । যা খুবই ক্ষতিকর ।

 

বিবিধ কিছু ক্ষতি ও সতর্কতা

 

এত সবের বাহিরেও আরো অনেক ধরনের সমস্যা তো আছেই যেমন,ফোনের প্রভাবে শ্রবন শক্তি হ্রাস পাওয়া,মস্তিষ্কের

ক্যান্সার,গর্ভবতী মায়ের ঝুকি ইত্যাদি ইত্যাদি।মোট কথা মোবাইল ফোন বা স্মার্ট ফোন ব্যবহারে যেমন সুফল

পাওয়া যাচ্ছে বর্তমান সময়ে । এর পাশাপাশি অনেক ধরনের সমস্যাও মিলছে খুব সহজেই । তাই আমাদের সকলেরই

উচিৎ মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক হওয়া ।

 

সময়ের অভাবে লেখাটি সম্পূর্ণ করা হল না,পরবর্তীতে মোবাইল ফোন কিভাবে সচেতনাতার সাথে ব্যবহার করা যায় এবং

এই সকল সমস্যাগুলিকে এড়িয়ে চলা যায় সে সম্পর্কে লিখব । সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।