গ্রিন টি এর কিছু স্বাস্থ্য গুণাগুণ এবং উপকারিতা-গ্রিন টি বা সবুজ চা এই নামটি আমরা প্রায় সবাই জীবনে একবার হলেও শুনেছি। এটি চা গোত্রীয় একটি পানীয় । তবে একে সাধারণ চা ভাবলে আপনি বিশাল ভূল করবেন । এটি গুণের বিচারে সাধারন চা এর চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে । গ্রিন টি কে আপনি চা না বলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক গুণে সমৃদ্ধ একটি উন্নতমানের ভেসজ ঔষধ বা পানীয় বলতে পারেন ।

বর্তমাআন সময়ে এই গ্রিন টি যে মানুষ শুধু শারীরিক ভাবে সুস্থ্য থাকতে পান করছেন বা ব্যবহার করছেন তাই না,সৌন্দর্য্য বর্ধন বা ধরে রাখতেও এর ভূমিকা অনন্য । এর এমন উপকারী গুণগুলোর জন্য এখন বিখ্যাত বিউটি ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্যে গ্রিন টি এর উপাদান সংযোজন করছে । তাহলে বুঝতেই পারছেন এর কদর কতটা ব্যাপক !

শুধু তাইই নয়, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে বার্ধক্যের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে এটি ক্যান্সারের ঝুকি পর্যন্ত কমাতে সক্ষম । মানুষ যেসব রোগে মৃত্যু বরণ করে তার অনেক গুলি রোগের ঝুকি কমানো বা সেই রোগের টিস্যু ধ্বংস করে মানুষের আয়ু বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা প্রশংসিত ।

এতক্ষনে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কেন এই গ্রিন টি নিয়ে চারদিকে এত আলোচনা হচ্ছে বা আমরাও আজ এই বিষয়টি আপনাদের সাথে আলচনা করতে যাচ্ছি । তাহলে দেড়ি না করে চলুন গ্রিন টি এর স্বাস্থ্য গুণাগুণ এবং উপকারিতা গুলো পয়েন্ট বাই পয়েন্ট জেনে নেওয়া যাক-

 

গ্রিন টি এর কিছু স্বাস্থ্য গুণাগুণ এবং উপকারিতা

 

গ্রিন টি এর পুষ্টিগত গুণাগুণ-

প্রতি ১০০গ্রাম গ্রিন টি তে শর্করা এবং চর্বি রয়েছে টোটাল জিরো বা শূন্য ! যেগুলো নিয়ে আমাদের এখন সব চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা। এছাড়া প্রোটিন রয়েছে  0.2 গ্রাম । ভিটামিন (বি 1) 0.007 মিলিগ্রাম, ভিটামিন (বি ২) 0.06 মিলিগ্রাম, ভিটামিন (বি ৩) 0.03 মিলিগ্রাম, ভিটামিন (বি ৬) 0.005 মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি 0.3 মিলিগ্রাম । এছাড়াও মিনারেলস বা খনিজ পদার্থ- ক্যালসিয়াম 0 মিলিগ্রাম, আয়রন 0.02 মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম 1 মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ 0.18 মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম 8 মিলিগ্রাম, সোডিয়াম 1 মিলিগ্রাম । তাছাড়া এটি যতেষ্ট ক্যাফেইন সমৃদ্ধ প্রায় 12 মিলিগ্রাম ক্যাফিন পাওয়া যায় এখান থেকে । আর বাকিটা পুরোটাই জল বা পানি ।

এখন আমরা জানব গ্রিন টি এর উপকারিতা সম্পর্কে । আসলে গ্রিন টি এর উপকারিতা এত ব্যাপক যে তা একটি আর্টিকেলে লিখে শেষ করা সম্ভব নয় । এর অনেক কিছু হয়ত আমি নিজেও জানি না । তবুও যেটুকু জানি সেটুকু লিখছি । উপকারিতা গুলো আমরা দুটি ভাগে জানব, শারীরিক এবং সৌন্দর্য্য চর্চা বা রূপ চর্চা । প্রথমে শারীরিক দিক-

 

গ্রিন টি এর শারীরিক উপকারিতাঃ

১। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি এক দিনে ৭০ ক্যালোরি পর্যন্ত ফ্যাট বার্ন করতে পারে। তার মানে নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে বছরে ৭ পাউন্ড (Pound) পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব ! এটি মেটাবোলিজম বাড়িয়ে ফ্যাট ও ওজন কমাতে সহায়তা করে । তাছারা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতেও এটি সহায়তা করে ।

২ । অনেকেই ডায়েট করতে বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং কোক পান করে থাকেন তারা এসব বাদ দিয়ে গ্রিন টি নিতে পারেন । কারণ গ্রিন টি যেমন প্রাকৃতিক গুণে ভরপুর তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত । তবে যেসব মহীলাদের ‘টাইপ-২’ ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের একটু সতর্ক হতে হবে ।

৩। গ্রিন টি তে এক ধরনের এন্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) থাকে যা বার্ধক্যের গতিকে ধীর করে এবং আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে ।

৪ । নিয়মিত এক কাপ গ্রিন টি পান করলে হার্ট এর রোগের ঝুঁকি ৪৪% কমে যায় এবং রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রিত হয় । এতে করে স্ট্রোকের সম্ভাবনা তিনভাগের একভাগ কমে যায় !

৫। গ্রিন টি কোলেস্টোরেল কমাতে খুবই সহায়ক । এছাড়াও এর একটি বিশেষ গুণ হচ্ছে এটি কোমরের ফ্যাট কমাতে দারুণ উপকারী ।

তাই নিয়মিত গ্রিন টি পান করুন এটি শরীরের বিভিন্ন অংশকে ভেতর থেকে সতেজ করে তোলে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে ।

 

গ্রিন টি এর সৌন্দর্য্য চর্চায় অবদানঃ

১। চোখের ফোলা ভাব এবং চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল দূর করতে সক্ষম এটি । এর জন্য দুটি টি ব্যাগ ঘন্টাখানেক ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে চোখের উপর ১০ মিনিট দিয়ে রাখুন চমৎকার ফল পাবেন ।

২। গ্রিন টির পাতা মধুর সাথে মিক্স করে শরীরের রুক্ষ এবং অনমনীয় অঙ্গে লাগিয়ে খানিক সময় ঘসে নিন । এতে করে দেখবেন লোমকুপের ময়লা এবং মৃত কোষ দূর হয়ে ত্বক নরম ও মসৃণ হয়েছে ।

৩। গ্রিন টি মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, ওরাল ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং ডেন্টাল ক্যাভিটিস প্রতিরোধ করে আপনার মুখ সুন্দর এবং সুস্থ্য করে ।

৪। গ্রিন টি ব্রণের সমস্যার  জন্য খুবই কার্যকরী । এটি ত্বকে কোনো রকম শুষ্ক ভাব তৈরী করা ছাড়াই ব্রণ দূর করতে সক্ষম ।

৫। গ্রিন টি চুলের গোড়া শক্ত ও মজবুত করে চুল ঝরে পড়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম । এর জন্য আপনাকে ৩-৪ টি গ্রিন টি ব্যাগ ১ লিটার পানিতে এক ঘণ্টা ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে । এরপর চুল শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে মাথা ধুয়ে অথবা সেই পানি দিয়ি ধুয়ে ফেলতে পারেন । এতে আপনার চুল শক্ত ও মজবুত হবে এবং নতুন চুল গজাতেও সহায়তা করবে ।

 

গ্রিন টি পানের উপযুক্ত সময়ঃ

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে গ্রিন টি পানের উপযুক্ত সময় কোনটি ? এই প্রশ্নটি আসা খুবই প্রাসঙ্গিক । তাই চলুন জেনে

নেই কখন কখন গ্রিন টি পান করা উচিত বা উপযুক্ত ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন টি দিনে দুই তিন কাপের বেশি পান করা অনুচিৎ । তাই এর সময় গুলোও প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতই । মানে

সকালে নাস্তার পর, ব্যায়ামের পুর্বে অথবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে । এছাড়াও চাইলে খাওয়ার এক ঘন্টা আগে বা পরে পান করতে

পারেন ।

 

সাবধানতাঃ

সকালে খালি পেটে কখনোই গ্রিন টি পান করবেন না।

খাওয়ার সময়গুলোতে গ্রিন টি পান করবেন না। যেমন রাতের খাবার অথবা দুপুরের খাবারের সময়।

গ্রিন টি এর সাথে গুঁড়া দুধ কিংবা চিনি মেশাবেন না।

ঘুমের সমস্যাজনিত কারণ এড়িয়ে যেতে গভীর রাতে গ্রিন টি পান করবেন না।

 

আশা করি এই নিবন্ধটি আপনাদের অনেক কাজে আসবে । এমন আরো অনেক হেলথ টিপস পেতে নিয়মিত আমাদের সাইটটি ভিজিট করার

আহবান রইল ।