সুষম খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে – ক্যান্সারের নাম শুনলে সবারই ভয়ে বুকটা এক বারের জন্য হলেও কেপে ওঠে।

কারণ, পৃথিবীর বড় বড় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার,বৈজ্ঞানিকরা এখনো পর্যন্ত ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা এখন অব্দি বের

করতে পারেননি। তবে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারনের ফলে অন্তত এটা জানা গেছে যে,সঠিক তথা সুষম খাবারই পারেক্যান্সারকে

ঠেকিয়ে রাখতে।তাই চলুন আজ সেরকম কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নিই-

 

সুষম খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে

 

  • গ্রিন টি

গ্রিন টি তে সাইটোক্যামিকেলস নামের এক ধরণের উপাদান এর উপস্থিতি থাকার কারণে ক্যান্সার এর জীবানু প্রতিরোধ হয়।

নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে স্তন ক্যান্সারের ঝুকি কমে।তাই নিয়মিত গ্রিন টি পান করুন।গ্রিন টি’র এ ছাড়াও আরো অনেক

গুণাগুন রয়েছে।

  • মাছ

বাঙ্গালীদের একটি বিশেষ পরিচয় হল,আমরা মাছে ভাতে বাঙালী।তবে আমরা অনেকেই জানি না যে মাছ ক্যান্সার প্রতিরোধে

সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মাছে আছে বিশুদ্ধ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে। এই ধরনের ফ্যাটি

অ্যাসিড দেহে ক্যান্সারের সেল গঠনে প্রতিরোধ তৈরী করে।।

  • রসুন

এ পর্যন্ত রসুন নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যে,রসুনের অন্যতম প্রধান উপকারিতা হচ্ছে এটি  বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধক

হিসাবে কাজ করতে পারে।বিশেষ ভাবে কলোন, স্টোমাক, ইন্টেস্টিনাল, এবং প্রস্টেট ইত্যাদি ক্যান্সার।রসুনে রয়েছে এমন সব

উপকারী  ও শক্তিশালী খাদ্য উপাদান যা   শরীরে ক্যান্সার কোষের  ছড়িয়ে পড়াকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

  • আদা

আমরা এখন পর্যন্ত আদার অনেক উপকারিতার কথাই জেনেছি যেমন –  জ্বর, ঠাণ্ডা,  হার্টের সমস্যা,কোলেস্টেরল কমানো,

আর্থ্রাইটিস ইত্যাদি।কিন্তু আধুনিক গবেষনা বলছে আদা ক্যান্সার প্রতিরোধেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। ক্যান্সার

নিরাময়ের প্রতিষেধক হিসাবে প্রচলিত কেমোথেরাপি থেকে আদা হাজার গুণ বেশি কার্য্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

  • হলুদ

আমাদের পরিচিত আরেকটি মসলা হচ্ছে হলুদ।এটিও ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম এতে রয়েছে শক্তিশালী

কারকিউমিন পলিফেনল নামক এক ধরনের পদার্থ। আর এই কারকিউমিন শরীরে অ্যাপপটোসিস তৈরি করে যা শরীরে

ক্যান্সারের জন্ম দেওয়া ক্ষতিকারক সেল মেরে ফেলতে সাহায্য করে।ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়।

  • মৌরি

আমরা অনেকেই খাওয়ার রুচি বাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করি। এক গবেষনায় দেখা গেছে,মৌরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে

ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস এবংঅ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই কার্য্যকরী।

  • জিরা

এই মশলাটিও ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ক্যান্সার এর জীবানু ধবংস করতে সক্ষম।অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জিরায় রয়েছে

থাইমোকুইনান নামক এক ধরনের পদার্থ যা প্রস্টেট ক্যান্সারের জন্যে দায়ী ক্যান্সার সেলের শরীরে ছড়িয়ে পড়া

আটকিয়ে,প্রটেস্ট ক্যান্সার এর হাত থেকে আমাদের বাচায়।ক্যান্সারের ঝুকি কমাতে আমাদের উচিৎ অর্গানিক সব খাদ্য গ্রহন

করা।অর্গানিক নয় এমন খাবার খাওয়া থেকে সতর্ক হওয়া আবশ্যক।ভেজালযুক্ত খাবার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়,তাই এ দিকেও

বিশেষ নজর দিতে হবে।মোট কথা শুধু ক্যান্সার নয় আমাদের সুস্থ সুন্দরজীবন যাপনের জন্য ভেজাল মুক্ত,অর্গানিক বা

প্রাকৃতিক খাবারের দিকে নজর দিতে হবে।ধন্যবাদ।