Gastric and solution-গ্যাস্ট্রিক সারাতে ১০ টি সহজ কৌশল । পৃথিবীর সকল মানুষ জীবনে এক বার হলেও  অম্লতা বা অ্যাসিডিটির প্রতিপ্রবাহতে ভুগেছেন।যাকে আমরা গ্যাস্ট্রিক হিসেবেই ভাল চিনি।কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে  এই সমস্যা প্রতিদিনের।অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ,অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার, মদ অথবা ক্যাফেইন এই জাতীয় খাবার গ্রহণের ফলে এই অম্লতা বা গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি হয়। এতে অনেক সময় বুকে জ্বালা-পোড়ার হয়। বিভিন্ন ডাক্তারি ঔষধ থাকলেও এ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া যায় না। তাই প্রাকৃতিক উপায়ে এ থেকে প্রতিকার পেতে হবে।

এখানে কিছু উপায় জানানো হল, এতে আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে গ্যাস্ট্রিকের সাথে লড়াই করতে পারবেন।

 

Gastric and solution-গ্যাস্ট্রিক সারাতে ১০ টি সহজ কৌশল-

 

  • নারিকেলের পানি-

ডাব বা নারিকেল আমাদের দেশের অতি পরিচিত একটি ফল। প্রায় প্রতি বাড়িতেই একটি করে হলেও নারিকেল গাছ থাকবেই।

আমরা অনেকেই জানি বিভিন্ন রোগ বালাই এর ক্ষেত্রে এমনকি ডাক্তাররাও ডাব বা নারিকেলের পানি খেতে বলেন। অবশ্যই এর

ওষুধি গুণ আছে বলেই এটাকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর এই নারিকেল বা ডাব এর পানি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধান করেতেও

ব্যপক কার্যকরী। তাই যাদের গ্যাস্ট্রিক আছে তারা নিয়মিত ডাবের পানি খেতে পারেন। সুফল অবশ্যম্ভাবি।

 

  •  ক্যাফেইন জাতীয় সকল পানীয় পরিহার করুন-

আমাদের অনেকেরই ক্যাফেইন জাতীয় সকল পানীয় যেমন কফি বা চা ইত্যাদি খুবই পছন্দের।

কিন্তু নিজেদের সুস্থতার জন্য অবশ্যই এর পান সীমিত রাখা উচিৎ।আর যাদের গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা আছে তারা অবশ্যই এগুলো

পরিহার করেবন। তার পরিবর্তে সবুজ চা অথবা বিভিন্ন ভেসজ গুনাগুন সম্পন্ন পানীয় পানের অভ্যেস করুন।

 

  •  প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ অবশ্যই পান করুন-

পৃথিবীতে যে ক’টি খাবার স্বয়ং সম্পূর্ণ তার মাঝে দুধ অন্যতম । সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রতিদিন এক গ্লাস করে দুধ খাওয়া

খুবই জরুরী । আর কুসম গরম দুধ নিয়মীত পান করলে মিলবে গ্যাস্ট্রিক সমস্যারও সমাধান । তাই অবশ্যই দুধ পান করুন।

 

  •  অবশ্যই ধূমপান পরিহার করুন-

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষই ধুমপান কে খুব সহজ একটি বিষয় মনে করে থাকেন। কিন্তু আসলেই বিষয়টা এমন না।

যে কোনো সমস্যা নিয়েই যদি আপনি ডাক্তারের কাছে যান তাহলে অবশ্য নিষিদ্ধের তালিকায় প্রথমেই দেখবেন ধুমপান,জর্দা

ইত্যাদি প্রথমে আছে। এই জিনিস গুলি মানুষের যেকোনো সমস্যাকে তরান্বিত করতে খুব সহজ করে দেয়। তাই অবশ্যই ধুমপান

পরিহার করুন।

 

  • খাদ্যতালিকা থেকে ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার ত্যাগ করুন-

খাবারে ঝাল এবং মসলা কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলো আপনার পাকস্তলির জন্য ক্ষতিকর । গ্যাস্ট্রিক ছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা

করতে পারে ঝাল এবং মসলা যুক্ত খাবার । যদিও এগুলো নিজে নিজে কিছু করবে না।তবে ভাল প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

 

  • সময়মত খাবার খান-

গ্যাস্ট্রিক যে কারণে আমাদের সব চেয়ে বেশি আক্রমণ করে তা হচ্ছে না খেয়ে থাকা বা সময়ের খাওয়া সময়ে না খাওয়া।

একই সাথে অসময়ে গিয়ে একবারে অধিক খেয়ে ফেলাও সমান ক্ষতিকর । তাই সব সব চেয়ে ভাল প্র্যাক্টিস হচ্ছে অল্প অল্প করে

বার বার খাওয়া । যা আপনাকে সুস্থ রাখতে অনেক বেশি সাহায্য করবে।

 

  • পুদিনা পাতা –

তরকারিতে আমাদের অনেকেরই পুদিনা পাতা খাওয়ার অভ্যেস আছে।এটি খাবারে স্বাদই যে শুধু বাড়ায় তাই না,এর অনেক

ঔষুধি গুণও রয়েছে।গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা খুব বেশি হলে নিয়ম করে কয়েকদিন পুদিনা পাতার রস খান।গ্যাস্ট্রিক উপশম হবে।

 

  •  বুকে ব্যথা দূর করার জন্য লবঙ্গের ব্যবহার করতে পারেন –

গ্যাস্ট্রিক বা বুকে ব্যাথা দূর করতে লবঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন।বিভিন্ন তরকারিতে তো আমরা লবঙ্গ ব্যবহার করিই। এছাড়া

অনেকে চায়ের সাথেও লবঙ্গ খেয়ে থাকেন । এটাও একটা ভাল অভ্যেস। চাইলে এমনিই একটি লবঙ্গ মুখে নিয়ে কিছুক্ষ্ণ এর রস

চুশে খেতে পারেন । ভাল উপকার পাবেন।

 

  •  খাদ্যতালিকায় সবজি রাখুন-

সুস্থ থাকার জন্য অবশ্যই সুসম খাদ্যের প্রয়োজন।গ্যাস্ট্রিক যেহেতু খাবারের হেরফের এর কারণেই হয়ে থাকে তাই এই সমস্যাটি

দূর করতে অবশ্যই ভাল খাদ্য গ্রহন করুন।খাবারে শাক সবজি বেশি রাখুন যেমন মটরশুঁটি , কুমড়া , বাঁধাকপি , গাজর ইত্যাদি।

 

  •   রাতে ঘুমাতে যাবার অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার গ্রহণ করুন –

রাতে খাবার গ্রহনের সাথে সাথে ঘুমাতে যাবেন না।খাবার গ্রহনের অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর ঘুমাতে যাবেন।এটি একটি বাড়তি

সচেতনাতা ।কারণ খাওয়ার সাথে সাথেই খাবার হজম হতে শুরু করে না।

 

সর্বোপরি সুস্থ সুন্দর জীবন যাপনের জন্য সচেতনতার বিকল্প নেই । আর হ্যা অবশ্যই একটু কিছু হলেই ওষুধ গেলা শুরু করবেন

না। খেতে হলেও অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খান।ধন্যবাদ।