একটি পরিবারের,একটি সমাজের,একটি দেশের,একটি জাতির প্রধান শক্তি ও নির্ভরতার প্রতিক হচ্ছে তার তরুন সমাজ । এই  তরুন সমাজ জেগে উঠলে,জেগে ওঠে একটি সমাজ,একটি দেশ,একটি জাতী । আর এই তরুন সমাজ যদি হয় বিপদগ্রস্ত,বিভ্রান্ত  তাহলে সেই সমাজের,সেই দেশের উন্নয়ের পথ হয়ে যায় বন্ধুর । ঠিক এই সমস্যাটিই গত কয়েক বছর ধরে আমাদের সমাজ তথা দেশের প্রধান একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে । অর্থাৎ তরুন সমাজের বিপথে চলে যাওয়া । আর তাদের বিপথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি যে বিষয়টি কাজ করছে তা হচ্ছে মাদক । যার ভয়াল থাবায় নিঃশ্বেষ হয়ে গিয়েছে অগনিত পরিবার। যৌবনের আলোয় ঝলমল করে জ্বলতে থাকা অগণিত তরুন তরুনীর জীবন ছেয়ে গেছে ঘোর অন্ধকারে । অনেকেই পরিবার,সমাজ থেকে ছিটকে গিয়ে ঠাই করে নিয়েছেন অন্ধকার গলিতে।নিজের অজান্তেই জড়িয়ে যাচ্ছেন অবৈধ সব কাজে। তাই আমাদের সকলের উচিৎ এই মাদক সম্পর্কে নিজেকে সচেতন করা এবং বেচে থাকা। তাই আজ আপনাদের সাথে মাদকাসক্তির কুফল ও বেচে থাকার উপায় নিয়ে আলোচনা করব-

 

 মাদক দ্রব্য আসলে কি বা এগুলো আসলো কোথা থেকে

পৃথিবীর অধিকাংশ মাদক দ্রব্যই ভেসজ সব উদ্ভিদ অথবা ল্যাবরোটরীতে বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং গবেষনার ফলে

উদ্ভাবিত হয়েছিল।এবং এ সকল উদ্ভাবন ছিল চিকিৎসা শাস্রের উন্নয়ন এবং মানুষের সেবা করবার জন্য।

কিন্তু এসবের মাত্রাতিরিক্ত বা অপব্যাবহার এর ফলেই সেসব আমাদের কাছে মাদক হিসেবে পরিচিত।

মাদকদ্রব্যের বেদনা নাশক ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, আনন্দচ্ছাস, মেজাজ পরিবর্তন, মানসিক আচ্ছন্নতা ইত্যাদি।

 

বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য চালু আছে। মদ, গাঁজা, ভাঙ, আফিম, চরস, ভদকা প্রভৃতি নেশাকর দ্রব্য বহু প্রাচীনকাল

থেকেই প্রচলিত।তবে বর্তমানকালে মাদকদ্রব্য হিসেবে হিরোইন, প্যাথেড্রিন, কোকেন, মরফিন, পপি বা ইয়াবা ইত্যাদি

উল্লেখযোগ্য।যেগুলোর ভয়াল দংশনে আমাদের তরুন সমাজ জর্জরিত।

 

মাদকাসক্তির কুফল ও বেচে থাকার উপায়

যেসব কারণে আমাদের যুব সমাজ মাদকের প্রতি অধিক ঝুকে পড়ছে-

যারা নেশা করছে তাদের অধিকাংশই জানেন নেশা করা মোটেও ভাল কাজ নয় । কিন্তু তবুও তারা করছে । এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানী,গবেষক ও চিকিৎসকরা গবেষনা করে বেশ কয়েকটি কারণ খুজে বের করেছেন, যেসব কারণে এত মানুষ নেশার প্রতি ঝুকছে ।

যেমনঃ সঙ্গীদের চাপ বা তাদের সাথে তাল মেলানো-নেশায় জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অনেক বড় একটি প্রভাবক। অধিকাংশ ছেলেমেয়েই তাদের বন্ধুদের দ্বারা প্রোরোচিত হয়ে প্রথম প্রথম নেশায় জড়িয়ে পরেন।

 

মাদকের প্রতি কৌতুহল-

অনেকি আছে যে তারা নেশায় জড়াতে চায় না কিন্তু তার আশেপাশের লোকদের কাছে মাদক সম্পর্কে জেনে রোমাঞ্চ অনুভব করে এবং কেবল মাত্র টেস্ট করবার উদ্দেশ্যে প্রথম বার নিয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে ধিরে ধিরে এতে আশক্ত হয়ে পড়ে।

 

সহজে আনন্দ লাভের আশা-

আমাদের তরুনদের অনেক বড় একটি বাসনা হচ্ছে আনন্দ হচ্ছে,আনন্দ লাভ। যে করেই হোক তাদের আনন্দ ফুর্তির উপকরণ লাগবেই । আর এ ক্ষেত্রে অনেকের একটা সাধারন ধারনা থাকে যে মাদক যেমন মদ,গাজা সেবন করলে মনে আনন্দ আসে । আর ঠিক এভাবেই শুরু হয় মাদক সেবন ।

 

মানুষিক কারণ-

যেসব তরুন তরুনীরা সাধারণত মানুষিক ভাবে বিশৃঙ্খল থাকে তাদের অনেক বেশি সম্ভাবনা থাকে মাদকে জড়িয়ে যাওয়ার।হতাশা, শোক, বিষাদ, বঞ্চনা ইত্যাদি কারণে তারা খুব দ্রুতই হারিয়ে ফেলে জীবনের মানে এবং হারিয়ে যেতে চায় অজানায় আর ঠিক এখান থেকেই উপকরণ হিসেবে তারা নেওয়া শুরু করে মাদক।

 

প্রতিকুল পরিবেশ-

অনেক ক্ষেত্রে  বাবা-মায়ের মধ্যকার খারাপ সম্পর্ক,ঝগড়াঝাটি ইত্যাদি কারণে ছেলে মেয়েরা বেড়ে ওঠে ভালোবাসা হীন এক

অমানবিক পরিবেশে । ফলে তাদের অনুপস্থিতিতে ছেলে-মেয়েরা খারাপ বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শুরু হয় নেশার

দিকে ছুটে চলা ।

 

ধর্মীয় অনুভূতির অভাব-

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যেসব পরিবারে ধর্মীয় চর্চার অভাব থাকে,সেসব পরিবারের ছেলে মেয়েদের মাদকের প্রতি ঝুকে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

 

শেষ কিছু কথা

উপরে বেশ কিছু কারণ দেখানো হল যেগুলোর কারণে তরুনদের মাদকের প্রতি আশক্তের পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

আশা করি সবাই এগুলো বুঝতে পেরেছেন। সবার প্রতি অনুরধ থাকবে,আপনি আপনার সন্তান,ভাই বোন বা পরিবারে অন্য

সকল সদস্যের সাথে ভাল সম্পর্ক বজায় রাখুন।খেয়াল রাখুন সবার প্রতি।দেখুন কেউ নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করতে

চাচ্ছে কি না।আপনার সন্তানটি বা ভাই বোন কার কার সাথে মিশছে,কোথায় কোথায় যাচ্ছে,কেউ মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত কি না

ইত্যাদি।কারো কোনো অসুবিধা হলে তার সাহায্যে এগিয়ে আসুন।কথা বলুন।সমাধান করার চেশটা করুন।মোট কথা আমাদের

সচেতন থাকতে হবে।তাহলেই হয়ত আমরা একদিন মুক্তি পাব মাদকের ভয়াল থাবা থেকে।

 

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।পরবর্তী আপডেট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন।