ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-ডিএমসি

ইংরেজিতেঃ Dhaka Medical College Hospital (DMC) .

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান । যা ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে

অবস্থিত । এটি প্রতিষ্ঠিত হয় তৎকালীন ইংরেজ শানামলে ১৯৪৬ সালের  ১০ জুলাই । তখন থেকেই এটি এই অঞ্চল তথা

বাংলাদেশের চিকিৎসা বিভাগে রেখে যাচ্ছে অনবদ্য অবদান । এখানে চিকিৎসা এবং একাডেমিক দুটো শাখাই সমান ভাবে কাজ

করে । এখানে  এখন প্রতি বছর ১৯৭ জন করে নতুন ছাত্র ছাত্রী পাচ বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় ।

এর বর্তমান অধ্যক্ষ্য অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ ।

 

ধরনঃ সরকারি।


অবস্থানঃ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন

শহরের বকশীবাজার এলাকায় অবস্থিত।

সহজে খুজে পাওয়ার জন্য এখানে গুগ্ল ম্যাপ লিংক দিয়ে দিলাম । ম্যাপে যেতে এখানে ক্লিক করুন

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-ডিএমসি এর ইতিহাসঃ

ঢাকা মেডিকেলের রয়েছে এক সুবিশাল ইতিহাস । সেই ইংরেজ আমল থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দলন এবং

১৯৯২ সালে সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ছিল এর সক্রিয় অংশগ্রহন । এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আন্দলন সংগ্রামের সাথে

ওতপ্রোত ভাবে জরিত এই প্রতিষ্ঠানটি । বিশেষ করে ভাষান্দোলনের কথা না বললেই নয় ।

 

ভাষা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্রই ছিল ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল । বিভিন্ন কৌশলগত কারনেই এই স্থানটিকে ছাত্ররা

আন্দলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিল । এবং সকল আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতিও নেওয়া হত এখান থেকেই । ১৯৫২

সালে বাংলা ভাষা কে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে মর্যাদা আদায়ের জন্য ২১শে ফেব্রুয়ারীতে সকালে যে মিছিল বের করা হয়েছিল সেটিও

এই খান থেকেই ।

 

উল্লেখ্য,এখন আমরা যে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারটি দেখতে তাই তা এই কলেজ হোস্টেলে ৫২এর এক কোনে গড়ে তোলা শহীদ মিনারের উত্তরসূরী !

 

সুতরাং বুঝতেই পারছেন এর ইতিহাস কতটা গর্বের! এরকম যে আরো কত ইতিহাস এর সাথে জড়িয়ে আছে তা এই ছোট্ট ব্লগে

হয়ত তুলে ধরা কখনোই সম্ভব নয় । এখানে সময়ের অভাবে পুরোটা তুলে ধরতে পারলাম না । তাই আপনাদেরকে ঢাকা

মেডিকেল কলেজের উইকিপেডিয়া লিংক দিয়ে দিচ্ছি ।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্ষিপ্ত বর্ননাঃ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রায় ২৫ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত । এতে শিক্ষাদানের

পাশাপাশি ১৭০০ সয্যার একটি সুবিশল চিকিৎসা বিভাগ চালু আছে । এতে প্রতি বছর প্রায় দু’শ জন ছাত্র ছাত্রী করে ভরতি হতে

পারে এবং একই সাথে মোট ছাত্র সংখ্যা হয় পাচটি ইয়ার মিলিয়ে প্রায় ১৫শত জন ।

 

শিক্ষাকার্য্যক্রম পরিচালনার জন্য এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি ভবন । যদিও এত বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রীর জন্য তা অপ্রতুল ।

কেননা এখানে এত রোগীর চাপ যে একাডেমিক ভবন গুলির অনেক অংশই ব্যবহ্রত হয় চিকিৎসা প্রদানের জন্য ।

 

ছাত্র হোস্টেলেরও একই অবস্থা । সকল ছাত্র ছাত্রীর জন্য যতেষ্ট ছাত্রাবাস এখানে নেই । দ্বিতীয় বর্ষের আগে এখানে কোনো সিট

পাওয়া যায় না বললেই চলে । আর পেলেও এক রুমে গাদাগাদি করে ৮-১০জন কে থাকতে হয়! প্রথম বর্ষের ছাত্র ছাত্রীদের

বাহিরের বিভিন্ন মেস অথবা গ্ণরুমে থাকতে হয় । অবশ্য এর পেছনে আভ্যন্তরীন কিছু কার্য্যক্রমই মূলত দায়ী ।

 

পাঠ্য বিষয় সমূহ- মেডিকেল কলেজটি কেবলমাত্র চারটি বিভাগ- মেডিসিন, সার্জারি, গাইনে এবং অটোরারিঞ্জোলজি নিয়ে

চালু হয়েছিল। বর্তমানে এমবিবিএস এবং স্নাতকোত্তর উভয় কোর্সই রয়েছে ৪২ টি বিভাগ রয়েছে। স্নাতকোত্তর কোর্সসমূহ ৪২ টি

শাখায় এমডি, এম ফিল এবং ডিপ্লোমা প্রদান করে এবং বর্তমানে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত

হয় এই কোর্সগুলি।

 

একটি মজার বিষয়ঃ হ্যা, এত কিছুর মাঝেও কলেজের একটি মজার এবং একই সাথে কিছুটা রহস্যময় বিষয় রয়েছে । আর তা

হচ্ছে,ব্যাচের নামকরণ । এখানে প্রতিটা ব্যাচের নামকরণের প্রথমে ইংরেজি K বর্নটি ব্যবহার করা হয় । এর পেছনে অনেক

ধরনের মিথ চালু থাকলেও যার সঠিক কোনো ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি!

 

আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য সকলের উদ্দেশ্যে নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক দিয়ে দিলাম ।

ওয়েবসাইট লিংক

 

সব শেষে বলব, অনেক প্রতুল অপ্রতুলতার মাঝেও এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যা আমাদের শিকরের সাথে মিশে আছে । যা

আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা বলে । যা আমাদের গর্ব । সারা বাংলার গর্ব ।