ডেঙ্গু! যে কথাটি শুনলেই বর্তমানে আমাদের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে । বাংলাদেশের এমন কোনো বিভাগ,জেলা বা উপজেলা নেই যেখানে এর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পরেনি । তাই এতে আতঙ্কিত হওয়াটাই স্বাভাবিক । বর্তমান এর পরিসংখ্যান দেখলেই বিষয়টি আর ভালোভাবে পরিষ্কার হয়ে যাবে । শুধু মাত্র এ বছরই ডেঙ্গুতে সরকারী হিসেবেই প্রান হারিয়েছে প্রায় ৮৫জন মানুষ । এর মাঝে শিশু,নারী এমনকি বাদ যায়নি অন্তঃসত্তা এক নারীও । তাই এটি নিয়ে এত তোলপার,এত কিছু । তাই আমাদের আজকের টপিক, ডেঙ্গু আতঙ্ক,পরামর্শ এবং বেচে থাকার উপায় সম্পর্কে-

 

শুনতে হয়ত খারাপ শোনা যেতে পারে বা অনেকেরই খারাপ লাগতে পারে, এই ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য সরকার প্রশাষন যতটা

দাইয়ী তার চেয়ে আমরা ভুক্তভগীরা তার চেয়ে অনেক বেশি গুণে দায়ি!

প্রথমে একটু খেয়াল করুন ডেঙ্গু ছরায় কিভাবে । এটি এডিস মশা নামকি এক ধরনের মশার কামড় থেকে ভাইরাস আকারে

আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং আমরা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হই ।

 

এখন আপনি নিজেকে একবার নিজে জিজ্ঞেস করুন তো,আপনার এলাকা বাদ দিন!নিজের বাড়ির চারপাশের ঝোপ-ঝাড়,জমে

থাকা পানি অথবা ড্রেনে আটকে থাকা পানি নিষ্কাসনের জন্য কোনোদিন কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন?

 

অথচ সেই আপনিই আজ সোশাল মিডিয়া তোলপার করে ফেলছেন সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে । কিন্তু আপনি নিজে নিজের এবং

নিজের বাড়ির মানুষের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল তা নিয়ে একবারও ভাবলেন না!

 

যা হোক।আমি এসব নীতি কথা নিয়ে লিখতে বসিনি তাই,মূল টপিকে ফিরে যাচ্ছি ।

 

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম!

এই কথাটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত । এই ডেঙ্গু বিষয়েও এই কথাটি খুব বেশি কার্যকর এবং মেনে চলা খুব বেশি

জরুরী । আমরা সকলেই জানি বর্ষা পরবর্বতী সময়ে বাংলাদেশে প্রতি বছরই কম বেশি ডেঙ্গু হানা দেয় । তাই এই বিষয়ে

আমাদের নতুন করে কোনো সচেতনেতা তোরী করবার কিছু নেই । এটি আমাদের জন্য খুব কমন একটি বিষয় ।

 

তাই আমাদের কি করা উচিৎ?খুব সহজ । বন্যার পানি বা লাগাতার বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে বাড়ির আশেপাশের

সকল ঝোপ ঝার থেকে শুরু করে ছোট ছোট নালা নর্দমা অথবা যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে সেসব জায়গা পরিষ্কার করা

এবং পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা করা । যাতে সেখানে মশা বা এডিস মশা তার প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারে । এরপর

সরকারী বা বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা,সিটি,পৌর বা ইউপি অফিসে গিয়ে দরখাস্ত বা একটু তাগাদা দেওয়া যেন আপনার এলাকায়

মশক নিধন ঔষধ প্রয়োগ করে ।

 

ব্যাক্তিগত প্রতিরোধ ব্যবস্থ্যা গ্রহন

  1. বাড়ির আশাপাশ পরিষ্কার রাখুন।
  2. নিজ উদ্যোগে বাড়ির আশেপাশে মশা মারার ঔষধ ছিটানোর ব্যবস্থা গ্রহন করুন ।
  3. ঘরের ভিতরে এন্টি মস্কিটো স্প্রে মজুদ রাখুন ।
  4. সন্ধার পর দরজা জানালা প্রয়োজন ব্যাতীত কম খুলবেন ।
  5. শোয়ার সময় মশারি ব্যবহার করুন ।

 

কেউ  রোগে আক্রান্ত হলে করোনীয়-ডেঙ্গু আতঙ্ক,পরামর্শ এবং বেচে থাকার উপায় !

লক্ষন

  1. বারবার বমি/মুখে তরল খাবার খেতে না পারা ।
  2. পেটে তীব্র ব্যথা ।
  3. শরীর মুখ বেশি দুর্বল অথবা নিস্তেজ হয়ে পড়া ।
  4. হঠাৎ করে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়া ।
  5. শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া
  6. শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ।

 

প্রাথমিক চিকিৎসা

  1. পর্যাপ্ত বিশ্রাম (জ্বর চলাকালীন এবং জ্বরের পর এক সপ্তাহ) ।
  2. স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার খাওয়া, যেমন খাবার স্যালাইন ।
  3. গ্লুকোজ, ভাতের মাড়, বার্লি, ডাবের পানি, দুধ/হরলিকস, বাসায় তৈরি ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি ।
  4. পূর্ণবয়স্কদের জন্য ২টি করে প্রতি ৬/৮ ঘণ্টা পর পর ।
  5. বাচ্চাদের জন্য বয়স ও ওজন অনুসারে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ।
  6. জ্বর থাকাকালীন রোগী দিনরাত সব সময় মশারির ভেতরে থাকবে ।

এছারাও একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ,ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে এমন কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো সেবন থেকে বিরত থাকা

আবশ্যক । যেমন, ব্যথানাশক ওষুধ-ডাইক্লোফেন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপারক্সেন, মেফেন,এসপিরিন,ওয়ারফারিন ইত্যাদি ।

এছাড়াও  এন্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যাতিরেকে সেবন করা যাবে না । এরপর কুসুম গরম পানি বা

নরমাল তাপমাত্রার পানি দ্বারা সারা শরীর মোছা যাবে না । এক্ষত্রে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে ।

 

সব শেষে একটি কথাই বলব, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে একে মোকাবিলা করার চেষ্টা করুন । নিজে সচেতন হোন এবং

অন্যকে সচেতন করুন । আক্রান্ত হয়ে গেলে অবশ্যই ডাক্তার বা হসপিটালে চলে যান । কারণ এতে মৃত্যু হওয়াটা খুব বেশি

কঠিন কিছু নয় ।

 

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।