বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি

অবশেষে বাংলাদেশে এসেই গেল করোনা ভাইরাস । আজ প্রাথমিক ভাবে তিন জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে এই ছোয়াচে ভাইরাসটি । তবে আমার অবজারভেশন বলে, এই তিন সংখ্যাটি আগামি কয়েকদিনের মাঝেই দুই বা তিন সংখ্যায় চলে যাবে । কারণ এ পর্যন্ত যতগুলো দেশে এই ভারাস শনাক্ত হয়েছে সব জায়াগাতেই প্রথমে দু এক জন এরপর কয়েকদিনের দিনের মাঝেই হু হু করে বেড়েছে এর সংক্রমণ । আর আমাদের দেশ, বিশেষত রাজধানী ঢাকা অতিরিক্ত জনবহুল একটি নগরী । তাই এর ঝুকিও ততধিকই বেশি । তাই এখন আর এই বিষয়টিকে হেলা ফেলা করে এড়িয়ে গেলে চলবে না । প্রত্যেককেই হতে হবে যতেষ্ঠ সতর্ক । তাই আজ আমরা বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করব । অবশ্যই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন-

 

করোনা ভাইরাস বর্তমান পরিসংখ্যান

প্রথমেই চলুন করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিসংখ্যান জেনে নেওয়া যাক । সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৬ হাজারের মত মানুষের দেহে শনাক্ত হয়েছে এই করোনা । এর মাঝে ৮০ হাজারের কিছু উপরে শুধু চায়নাতেই । এর আক্রমণে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ।

তবে এখানে একটি বিষয় মিডিয়াতে তেমন একটা দেখানো হচ্ছে না কেন জানি না, এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত দের মাঝে ৫০% অধিক, সংখ্যায় যা ৬০ হাজারেরও বেশি সংখ্যক মানুষ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন

 

করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন কি আবিষ্কৃত হয়েছে ?

না । এপর্যন্ত অনেক গুলো দেশের অনেক গুলো সংস্থা দাবী করেছে যে তারা করোনার প্রতিশেধক আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু সেগুলো একটাও আন্তর্জাতিক মান দন্ডে পার হতে পারেনি । তাই এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কোনো প্রতিশেধক আবিষ্কৃত হয়নি এটাই সত্যি ।

 

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা

 

তাহলে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আমাদের করণীয় কি ? 

একটা কথা আমি প্রায়ই বলি, প্রতিশেধক এর চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম । এখানে এই কথাটি একদম পার্ফেক্ট । উপরুন্ত এখন পর্যন্ত এর কোনো প্রতিশেধক আবিষ্কারই হয়নি । তাই এক মাত্র উপায় আমাদের সামনে খোলা আছে প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহন করা । আর এটি করতে হবে প্রতিটি পরিবারেই, প্রতিটি ব্যাক্তিকেই । নিচে ধাপে ধাপে কিছু প্রতিরোধ ব্যবস্থ্যা দেখানো হল-

একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্টরের লিঙ্ক দিলাম ক্লিক করে তার ভিডিওটি একবার দেখে আসতে পারেন।

.

কোন শ্রেণীর মানুষ এই ভাইরাসের প্রধান শিকার ?

সাধারণত যেসব মানুষ বৃদ্ধ তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকোপ মারাত্মক । এছাড়াও যাদের পূর্বে থেকেই বিভিন্ন ধরনের শ্বাস কষ্ট জনীত রোগ, নিওমোনিয়া অথবা হৃদ রোগে ভুগছেন এদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব খুবই মারাত্মক । তাই পরিবারের সিনিয়ারদের দিকে বিশেষ নজর দিন । বিশেষ প্রয়োজন না হলে তাদের বাহিরে যেতে দেবেন না ।

এখানে একটা বলে রাখি, আমরা যারা যুবক শ্রেনীর তাদের উপর কোরোনা ঠিক ততটাও প্রভাব ফেলতে পারে না । তাই আমরা চেষ্টা করব বড়দের কাজ গুলো নিজেরা করে দিতে ।

 

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ

করোনা ভাইরাসে কোনো ব্যাক্তি আক্রমনিত হলে বেশ কিছু লক্ষ্ণ তার মাঝে পরিলক্ষিত হয় । এবং যেগুলো না জানলেই নয় । যেমনঃ.

১। হঠাৎ করেই সর্দি লাগা ।
২। গলা ব্যথা হয়ে যাওয়া ।
৩। কাশি হওয়া ।
৪। মাথা ব্যাথা অনুভূত হওয়া ।
৫। জ্বর আসা ।
৬। অনবরত হাঁচি হতে পারে ।
৭। শরীর অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়া ।
৮। শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ।

সাধারণ কিছু সাবধানতা

১। সব সময় মাস্ক ব্যবহার করুন ।

২।  হাঁচি বা কাশির পরে হাত ধুয়ে নিন ।

৩। কাশি বা হাঁচির আগে মুখ ঢেকে নিন ।

৪। আপনার যদি মনে হয় যে আপনি সংক্রামিত, তাহলে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলুন ।

৫। রান্না না করা গোশত ও ডিম খাওয়া এড়ান ।

৬। নিজেকে সারাক্ষণ হাইড্রেট রাখুন ।

৭। লক্ষণগুলো দেখা দেয়া মাত্রই ওষুধ খান এবং পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে দেবেন না ।

৮। ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন ।

৯।  যথাযথ বিশ্রাম নিন ।

১০।  ভিড় থেকে দূরে থাকুন ।

 

খাবার গ্রহনের ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় সাবধানতা

খাবার গ্রহনের ক্ষেতে সাবধানতা অবলম্বনে কোনোই বিকল্প নেই । এতিমধ্যেই আপনারা জেনেছেন যে, বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী এবং জঙ্গলে বসবাসকারি প্রাণীদের মাধ্যমেই ছড়িয়েছে কোরোনা এর অন্তর্গত এই নোভেল কোরোনা বা কোভিড-১৯ এই রোগটি। তাই অবশ্যই এই খাবার গুলি আপাতত একদম বন্ধ করে দিন ।

এছারা আমাদের প্রচলিত যেসব আমিষ জাতীয় খাবার যেমন, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি খাবার ভুলেও আধা সেদ্ধ অবস্থায় খাবেন না । 

 

ব্যাক্তিগত সাবধানতা

আপনাকে অবশ্যই নিজের শরীরের প্রতি যথাযথ খেয়াল রাখতে হবে । উপরে উল্লেখিত কোনো লক্ষণ যদি আপনার মাঝে পরিলক্ষিত হয় তাহলে এক মুহূর্তের জন্যও দেড়ি করবেন না । দ্রুত চিকিৎসকের বা হসপিটালে চলে যান ।

আপনাদের সুবিধার জন্য এখানে আমি IEDCR এর কন্টাক্ট নম্বর এবং অফিসিয়াল ওয়েব সাইট লিঙ্ক দিয়ে দিলাম । প্রয়োজন পড়লেই যোগাযোগ করবেন ।

 

ওয়েব সাইট লিঙ্ক

কন্টাক্ট ইনফোঃ

  • Phone: +880-2-9898796, 9898691
  • Fax: +880-2-9880440
  • DIRECTOR
    Email: director@iedcr.gov.bd
    Mobile: +880-2-9898796Dr. M. Salimuzzaman
    Tell : +880-2-9898796 , 9898691
    Email : msalimuzzaman@hotmail.comFacebook Page:https://www.facebook.com/iedcr

 

সব শেষে দুটি কথা –

এপর্যন্ত বিশ্বে যত গুলো ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে তার মধ্যে কোরোনা অন্যতম । তবে যেটা আগেই বলেছি, এর আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বেশি, ঠিক তেমনি এ থেকে সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফেরা মানুষের সংখ্যাও অনেক বেশি । তাই মোটেই বিচলিত হয়ে পড়বেন না । মোটেই এমনটা ভাববেন না যে, কোরোনা হয়েছে মানে আমার ভব লীলা সাঙ্গ ! বিষয়টি মোটেই এমন নয় ।

কথাগুলো আমার না । একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের । নিচে তার ভিডিও লিঙ্কটি রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া হল । মোদ্দা কথা এ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখতে হবে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে । তবেই আপনি এই বাধা অতিক্রম করে নতুন একটি জীবন পেতে পারেন ।

রেফারেন্স

 

আশা করি আজকের এই লেখাটি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে । পরবর্তী আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন ।