গোমূত্র করোনা ভাইরাস সারাতে পারবে?

বিশ্বব্যাপি বর্তমান আতঙ্কের সব চেয়ে বড় নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস । এতে কোনো সন্দেহ নাই । এ নিয়ে এর আগেও আমি এই সাইটে আরো দুইটি পোস্ট দিয়েছি । সেখানে কিভাবে আপনি করোনা সংক্রমণ থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন সে নিয়েই আলোচনা করেছি । সেই সাথে এর প্রতিশেধক আবিষ্কার হয়েছে কি না অথবা এই ভাইরাসটি কেন কিভাবে কোথা থেকে আসলো এবং আমাদের মাছে ছড়ালো তা নিয়েও আলোচনা করেছি । এছাড়া বিজ্ঞান মহল এই বিষয়টি নিয়ে কি ভাবছে তা নিয়েও কিছু বলতে চেষ্টা করেছি । বলতে গেলে করোনা নিয়ে আর তেমন কোনো পোস্ট দেবার আমার প্রয়োজন ছিল না । যেহেতু আমার একমাত্র কাজ হচ্ছে স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে মানুষকে সঠিক বার্তা তুলে দেওয়া । তাই বলতে পারেন তাহলে আজ আবার নতুন আর কি লিখতে আসছি সেই একই বিষয় নিয়ে ? শুনে হয়ত খুবই অবাক হবেন, গোমূত্র করোনা ভাইরাস সারাতে পারবে? বা অনেকের সেরেও গেছে!

এই ধরনের কিছু নিউজ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় গত দু এক দিন যাবৎ বেশ ট্রেন্ড করছে । শুধু সোশ্যাল বিভিন্ন প্রথম শ্রেণীর পত্রিকা এবং টেলি মিডিয়াতেও এ নিয়ে হামেশাই খবর পাওয়া যাচ্ছে । আপনিও হয়ত এরই মাঝে এমন দু একটি খবর নিজেও দেখেছেন । এই ধরনের খবর দেখে অনেকেই হয়ত অবাক হয়েছেন । তবে এখানেই অবাক হওয়ার ঘটনা শেষ নয় । তাহলে হয়ত হুদাই আরেকটা পোস্ট আমি নিজেও করতে আসতাম না । তাহলে সেটা কি ?

 

করোনা তাড়াতে দিল্লিতে চলছে গোমূত্র পার্টি !

হ্যা, ঠিকই পড়েছেন । করোনা ভাইরাসের প্রতিশেধক হিসেবে তারা গোমূত্র এবং গরুর বিষ্ঠাকে ব্যবহার করছেন এবং অন্যকে করার পরামর্শ দিচ্ছেন !এখানে তারা যে যুক্তি দেখাচ্ছেন আমি তা হুবুহু কোট করছি,

হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় সভাপতি চক্রপাণি বলেছেন, করোনাভাইরাস আসলে অবতার। আমিষ ভোজীদের শাস্তি দিতে ও ক্ষুদ্র প্রাণিকুল রক্ষার জন্যই ভাইরাসের আদলে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। আমিষভোজীদের শাস্তি দিতেই তিনি এসেছেন। তাই আমিষভোজীদের উচিত অবতার করোনাভাইরাসের কাছে ক্ষমা চাওয়া।

এতটুকু বলেই থেমে যাননি চক্রপাণি, তিনি আমিষাশীদের আক্রমণ করে বলেন, অবতার করোনাভাইরাস আমিষাশীদের একটা বার্তা দিতে এসেছে। যারা এসব ক্ষুদ্র প্রাণিগুলোকে মেয়ে খেয়ে ফেলছে, তাদের চরম শাস্তি দিতেই অবতার করোনাভাইরাসের আগমন। এর থেকে আমিষাশী ও চীনাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।

রেফারেন্স-বাংলাদেশ টাইমস ডট কম 

 

এগুলো কেন ঘটছে? সত্যতা কতটুকু ?

আপনি যদি একটু ভাল করে খোজ খবর নিন তাহলে এর ভেতরের আসল ঘটনা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন ।

“এখানে একটি কথা বলে রাখি, আমি কোনো ধর্ম, জাতী বা দেশের বিপক্ষে অথবা তাদের নিচু করে দেখাতে চাই না বা সে উদ্দেশ্যে কিছু লিখছিও না ।”

যা হোক, খুব ভাল করে খেয়াল করলে দেখবেন, এই কাজ গুলির সাথে যুক্ত মানুষ গুলো রাজনীতির সাথে প্রায় সরাসরি যুক্ত । তারা তাদের রাজনৈতীক উদ্দেশ্য হাসিল করবার জন্য সাধারণ মানুষের চরম আবেগের জায়গা-ধর্মকে এরা ব্যবহার করছে । বর্তমানে ইন্ডিয়ায় কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের রাজত্ব । সেখানে তারা তাদের রাজনৈতীক প্রভাব আরো বেশি শক্ত করবার জন্য শুধু এটা নয় এর আগেও এমন অনেক কাজ করেছে । যেখানে বিজ্ঞানের সাথে এসবের কোনোও সম্পর্ক নেই । এটা হচ্ছে মূল কারণ ।

এরপর আসি এর সত্যতার প্রশ্নে । আগেই বলেছি এর সাথে বিজ্ঞানের বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই । কখনোই কোনো বিজ্ঞানি এমনটি দাবী করেননি । এমনকি ভারতেও না । কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তারা তাদের মুখ বন্ধ রাখতে বাদ্ধ হচ্ছেন । এগুলো স্রেফ প্রোপাগান্ডা বৈ আর কিছুই না ।

রেফারেন্স- ডয়েচে ভেলে/কানাডা

ডয়েচে ভেলের এই পুরো নিউজটি পড়লে আপনি খুব সহজেই আমার কথাগুলি যাচাই করে নিতে পারবেন । এগুলো শুধু মাত্র প্রোপাগান্ডা । তাই দয়া করে এসব গুজবে কান দিবেন না ।

 

গোমূত্র করোনা ভাইরাস সারাবে নাকি বাড়াবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে বিশ্বের সকল বড় বড় গণ মাধ্যম অথবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রা বার বার যে বিষয়টির উপর জোড় দিচ্ছেন তা হচ্ছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা । পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর এতটাই গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে যে, আপনি কারো সাথে করোমর্দন করা থেকে পর্যন্ত বিরত থাকুন এবং শুধু খাবার সময় নয় বাহির থেকে ঘরে ফিরে প্রথমেই ভাল করে সাবান অথবা এন্টি জার্ম হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর কোনো কিছু স্পর্শ করুন । তাহলে বুঝতেই পারছেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টা এখানে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে ।

সেখানে ইন্ডিয়ার এই ধর্মের ঠিকাদার দের দেখুন যারা কেবল রাজনৈতীক সিদ্ধি হাসিলের জন্য মানুষকে গোমূত্র পান করাচ্ছে এবং তাও পার্টি করে! শুধু এখানেই শেষ নয় সারা শরীরে গোবর মাখানো থেকে শুরু করে গোবর জলে প্রায় গোসল করবার ঘটনাও সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসছে । বিষয়টা কতটা ভয়ঙ্কর একবার ভেবে দেখেছেন ?

রেফারেন্স-এনডি টিভি,ইন্ডিয়া 

 

করোনা ভাইরাস এর প্রতিশেধক আবিষ্কার হয়েছে?

এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো সংস্থাই সম্পূর্ণরূপে করোনা ভাইরাস এর প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি । বিশেষজ্ঞদের ধারনা আরো প্রায় ৬ মাস থেকে ১ বছরের মত সময় লাগবে এর প্রতিশেধক আবিষ্কার করতে । সে লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বিজ্ঞানীরা কাজও করে চলেছেন । এর মাঝে বেশ কয়েকবার বেশ কিছু দেশ ও সংস্থা দাবি করেছিল তারা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর কোনোটিকেই সার্টিফাইড করেনি । তবে বিজ্ঞানিরা কাজ বেশ খানিকটা এরই মাঝে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এই যা ভাল খবর ।

রেফারেন্স-বিবিসি নিউজ

 

তাহলে আমাদের করণীয় কি?

যেহেতু এখন পর্যন্ত ভ্যাক্সিন আবিষ্কৃত হয়নি তাই আমাদের প্রথম করণীয় হচ্ছে সচেতন থাকা । বিশেষত ঐ ধরনের রাজনৈতীক নেতাদের থেকে । কারণ তারা অপেক্ষাতেই থাকে কোনো বিপর্যয়ের ! আর যখন তা তারা পেয়ে যায় তখন তারা সেটিকে ইচ্ছেমত ব্যবহার করতে থাকে । এতে মানুষের যতইক্ষতি হোক তাতে তাদের কিছুই আসে যায় না ।

আর এ সম্পর্কে আমি আরো দুটি পোস্ট দিয়েছি সেখানে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি ঠিক এই মুহূর্তে আপনাকে কি কি করতে হবে । নিচে দুটি পোস্টেরই লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি পড়ে নিতে পারেন ।