বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ ।

 

ইংরেজীতে- Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University (BSMMU).

বাংলাদেশের প্রথম চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এটি । এখানে চিকিৎসা বিভাগ এবং একাডেমিক বিভাগ দুটোই চালু রয়েছে । সারা দেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য বিশ্বস্ত একটি নাম হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় । এর বর্তমান ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া,এবং এর প্রথম ভিসি ছিলেন ডা. এম. এ. কাদেরি । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নাম করন করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির । এখানে যে শুধু দেশিয় ছাত্র ছাত্রীরাই পড়াশোনা করে বা করতে পারে এমন না,বাহিরের দেশ থেকেও প্রচুর ছাত্র ছাত্রী এসে এখানে এমবিবিএস সহ বিভিন্ন উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করছে । সুতরাং বলাই যেতে পারে এটি একটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর মানও মোটামুটি কোনো আন্তর্জাতীক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম নয় । তাই আজ আমরা জানব,আমাদের গর্ব এবং চিকিৎসাপ্রার্থী মানুষদের বিশেষ করে ভর্তিচ্ছু ছাত্র ছাত্রীদের জন্য,আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে । তাহলে চলুন শুরু করা যাক-

 

ধরনঃ সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ এর ইতিহাস –

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর চেয়ে আমাদের কাছে এটি পিজি হসপিটাল নামেই অধিক পরিচিত ।

বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার আগে এর নাম ছিল ইন্সটিটিউট অফ পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন এন্ড রিসার্চ । ১৯৬৫ সালে ঢাকায়

ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করা হয়  চিকিৎসা শিক্ষায় স্নাতকোত্তর কোর্স

প্রদানের জন্য । স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্য্যক্রম পরিচালনা করতে পারলেও তখন এটির সেই ডিগ্রি প্রদানের

ক্ষমতা ছিল না । এই দায়িত্ব ন্যাস্ত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর । অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা সহ সকল কাজ করত

এখানে কিন্তু ডিগ্রি দিত অন্য কেউ বা ঢাবি । তখন (আই পি জি এম আর) কার্যক্রম সহ অনেকগুলি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের

এম.বি.বি.এস ডিগ্রি প্রদান করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । এটি কিছুটা অস্বস্থীকর এবং অগ্রহনযোগ্য হলেও তখন কিছু করার ছিল না ।

কারন তখন আমাদের যতেষ্ঠ সুযোগ সুবিধার দারুন অভাব ছিল ।

পরবর্তীকালে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সরকার এই সকল সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেন । এবং ৩০এপ্রিল এটিকে একটি সংসদীয়

অধ্যাদেশের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ  মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন ।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ননা-

ঢাকার প্রানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শাহবাগ,সেই শাহবাগেই অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি । এর ঠিক পাশেই রয়েছে দেশের  আরেকটি

নামকরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড

মেটাবোলিক ডিসঅর্ডারস । যাকে আমরা সংক্ষেপে বারডেম হিসেবেই বেশি চিনি ।

এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একটি সুবিশাল হাসপাল তো রয়েছেই । যেখানে প্রায় সকল রোগের উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় ।

এছাড়াও  শিক্ষা এবং গবেষণার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা আর পাচটি সুউচ্চ ভবন । যেখানে চিকিৎসা এবং লেখাপড়া চলে

সমান্তরাল ভাবে ।

 

পাঠ্য বিষয় সমূহ-

এখানে বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রায় সকল বিভাগই চালু রয়েছে । এর মাঝে উল্লেখ্য,মেডিসিন বিভাগ,

সার্জারি,নিউরোসার্জারি,গ্যাস্ট্রোএন্টারলজি, হেমাটোলজি, হেমাটোলজি, সাইকিয়াট্রি, পিডিয়াট্রিক সার্জারি ইত্যাদি । এছাড়াও

হসপিটাল বিভাগের বিভিন্ন শাখা যেমন ডিসপেন্সারি,বহির্বিভাগ ইত্যাদি তো রয়েছেই । এবং এগুলোর জন্য আলাদা কমপ্লেক্সে

পর্যন্ত রয়েছে ।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্য্যক্রমের পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন কো-কারিকুলাম এক্টিভিটিস এর সুযোগ

সুবিধা । বিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলির পাশাপাশি রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার । এছাড়াও এখান থেকে প্রতি মাসেই একটি ক্রোড়পত্র

বের করা হয় । যেখানে ছাত্র ছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষকমন্ডলি সকলেই অংশ গ্রহন করে থাকেন ।

 

সব শেষে বলব,এখানে পাঠরত প্রতিটি শিক্ষার্থীই পরম ভাগ্যবান/ভাগ্যবতী যে তারা এমন একটি প্রতিষ্ঠান থেকে লেখাপড়া

করবার সুযোগ পাচ্ছেন । সাথে থাকবার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।

 

আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য সকলের উদ্দেশ্যে নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক এবং উইকিপেডিয়া

লিঙ্ক দিয়ে দিলাম ।

 

ওয়েবসাইট লিংক

উইকিপেডি লিংক