আমাদের শরীরের জন্য মধুর উপকারিতা এতটাই বেশি যে- কুরআন এবং হাদীসেও মধুর অনেক গুনাগুন সম্পর্কে বলা হয়েছে ।পরবর্তিকালে বিজ্ঞানীদের দ্বারা তা সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে । অথচ আমাদের অনেকের কাছেই তা অজানা বলে মধুর উপকারিতা আমরা কাজে লাগাতে পারি না । আসুন আজ আমারা জেনে নেই মধু সেবনের ৩০টি আশ্চর্য উপকারিতা সম্পর্কে ।

 

মধুর পুষ্টি গুণাগুন 

মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ, ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ

ফ্রুক্টোজ, ০.৫ থেকে ৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ। আরো থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮

শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।

 

এখন জেনে নেব মধু আমাদের শরীরে কি কি উপকারে আসে

১. হৃদরোগ প্রতিরোধ করে। রক্তনালি প্রসারণের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে এবং হৃদপেশির কার্যক্রম বৃদ্ধি করে ।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।

৩. দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে ।

৪. দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে ।

৫. মধুর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে ।

৬. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ও কোষকে ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ।

৭. বার্ধক্য অনেক দেরিতে আসে ।

৮. মধুর ক্যালরি রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রক্তবর্ধক হয় ।

৯. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগে বিশেষ করে মহিলারা, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক ।

১০. গ্লাইকোজেনের লেভেল সুনিয়ন্ত্রিত করে ।

 

মধু সেবনের আরো কিছু অন্যন্য উপকারিতা

১১. আন্ত্রিক রোগে উপকারী। মধুকে এককভাবে ব্যবহার করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায় ।

১২. আলছার ও গ্যাস্ট্রিক রোগের জন্য উপকারী ।

১৩. দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘায়ের জন্য খুবই উপকারী ।

১৪. শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে ।

১৫. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ মধু স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের কলা সুদৃঢ় করে ।

১৬. মধুতে স্টার্চ ডাইজেস্টি এনজাইমস এবং মিনারেলস থাকায় চুল ও ত্বক ঠিক রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে ।

১৭. মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ।

১৮. ক্ষুধা, হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে ।

১৯. রক্ত পরিশোধন করে ।

২০. শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে ।

২১. জিহ্বার জড়তা দূর করে ।

২২. মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ।

২৩. বাতের ব্যথা উপশম করে ।

২৪. মাথা ব্যথা দূর করে ।

২৫. শিশুদের দৈহিক গড়ন ও ওজন বৃদ্ধি করে ।

২৬. গলা ব্যথা, কাশি-হাঁপানি এবং ঠাণ্ডা জনিত রোগে বিশেষ উপকার করে ।

২৭. শিশুদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস করলে তার ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজে হয় না ।

২৮. শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তি-সামর্থ্য দীর্ঘস্থায়ী করে ।

২৯. ব্যায়ামকারীদের শক্তি বাড়ায় ।

৩০. মধু খাওয়ার সাথে সাথে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, ফলে শরীর হয়ে উঠে সুস্থ, সতেজ এবং কর্মক্ষম।

 

খাটি মধু চেনার সহজ কিছু উপায়

মধু আমাদের অনেক উপকারে আসে। তবে খাটি মধু তো হতে হবে না।খাটি মধু না হলে আমাদের উপকারে নাও আসতে পারে।

তাই আমারা কিভাবে খাটি মধু সনাক্ত করতে পারব???এটা আমাদের অনেকের প্রশ্ন থাকে। আজ আমি আপনাদের কে এমন

কিছু কৌশল শিখিয়ে দেব। যা জানলে আপনি সহজেই খাটি মধু চিনতে পারবেন। আর সময় নষ্ট না করে জেনে নেই সেই কৌশল

গুলি-

 

১. বুড়ো আঙুলের পরীক্ষা সামান্য মধু নিন বুড়ো আঙুলে। দেখুন, এটি অন্যান্য তরলের মতো ছড়িয়ে পড়ে কি না। মধু খাঁটি না

হলে তা অন্য তরলের মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আসল মধু ঘন হয়ে আটকে থাকবে। সহজে ছড়াবে না। আবার একটু বেশি

পরিমাণ মধু নিয়ে বুড়ো আঙুল উল্টো করে ধরে রাখলে তা সহজে ফোঁটা আকারে পড়বে না।

 

২. পানির পরীক্ষা এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ মধু নিন। ভেজাল মধু শিগগিরই মিশে যাবে পানির সঙ্গে। কিন্তু আসল মধু মিশে

গেলেও এর কিছু অংশ ঘন হয়ে ভেসে বেড়াবে পানিতে। বিশেষ করে সামান্য অংশ তলানিতে পড়ে থাকবে। কিন্তু বাজে মানের

মধু একেবারে হাওয়া হয়ে যাবে।

 

৩. আগুনের পরীক্ষা হয়তো এ পদ্ধতির কথা এর আগে শোনেননি। খাঁটি মধু কিন্তু দাহ্য পদার্থ। তবে মধুতে আগুন জ্বালানোর

আগে সাবধান থাকবেন। নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিপূর্ণ করতে হবে। তবে পরীক্ষা অতি সাধারণ। ম্যাচের একটা কাঠি মধুতে চুবিয়ে

নিন। এবার এই কাঠি জ্বালাতে ম্যাচবক্সে আঘাত করুন। জ্বলে উঠলে মধু নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন। আর মধুতে ভেজাল

থাকলে আগুন জ্বলবে না।

 

৪. ভিনেগারের পরীক্ষা এক টেবিল চামচ মধু, সামান্য পানি আর সেই মিশ্রণে দুই-তিন ফোঁটা ভিনেগার দিন। যদি এই মিশ্রণ

ফোমের মতো ফেনিল হয়ে ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে মধুতে অন্য কিছু মেশানো রয়েছে।

 

৫. তাপমাত্রার পরীক্ষা খাঁটি মধুতে তাপ দিলে তা খুব দ্রুত কেরামেলের মতো হয়ে যাবে। এটা ফোমের মতো ফেনিল হবে না। কিন্তু

ভেজাল মধু কেরামেলের মতো ফেটে ফেটে যাবে না। এতে কেবল বুদবুদ উঠবে।

 

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ ।