আপেলের ১৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

 

পৃথিবীতে যতগুলো স্বাদে এবং পুষ্টিতে ভরপুর ফল আছে আপেল হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম । আপেল এমন একটি ফল যা শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই খেতে পছন্দ করে । যদিও এই ফলের উৎপত্তিস্থল মধ্য এশিয়া ধরা হয় কিন্তু এর চাষ প্রায় পুরো পৃথিবী জুড়েই হয়ে থাকে এবং এটি সারা পৃথিবী জুড়েই খাওয়া হয়ে থাকে । আপেলের পুষ্টি গুণাগুন হয়ত একটি পোস্টে লেখা সম্ভব নয় তাই আমরা এখানে আপেলের ১৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জানব । তাহলে চলুন শুরু করা যাক-

 

আপেলের পুষ্টি তত্ত্ব

আপেলে পাওয়া পুষ্টি গুণের সংখ্যা অনেক বেশি । আপেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার পাওয়া যায় ।

এছাড়াও ভিটামিন কে, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানীজ্, ইত্যাদির মতন উপকারী পুষ্টি পাওয়া যায় । আপেল

ফাইবারের এক অন্যতম উৎস । সব মিলিয়ে আপেলকে পুষ্টির এক অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস মানা হয়ে থাকে ।

 

এখন আমরা জানব আপেলের ১৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে

 

১। আপেল ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

গবেষনায় দেখা গেছে নিয়মিত আপেল খেলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে যায় । আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ এর গবেষকরা বলেছেন যে আপেল অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রায় ২৩% শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম । কর্নেল ইউনিভার্সিটি অনুসারে, আপেল ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয় । এছাড়াও আপেল কোলন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম করতে পারে । আপেলে থাকা ফাইবার আপনার পাচন (হজম)  শক্তিকে মজবুত করে যা থেকে কোলন ক্যান্সার রুখতে সাহায্য মেলে ।

.

২। আপেল পাচন ক্রিয়াতে (হজম) তে সাহায্য করে

আপেলে বহুমাত্রায় ফাইবার পাওয়া যায় যেটি আপনার পাচন ক্রিয়াতে সাহায্য করে । ফাইবার constipation, diarrhea এবং পাচন সম্বন্ধিত সমস্যা কে দূরে রাখতে সাহায্য করে । আপেল প্রাকৃতিক ফাইবারের এক অন্যতম উৎস । নিয়মিত আপেল খেলে আপনার হজম শক্তি এবং পাচন ক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে । ফাইবার আপনার হজমের জন্য দরকারি enzymes এর উৎপাদন করতে সাহায্য করে ।

 

৩।  আপেল যৌন চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করে

প্রতিদিন একটি আপেল আপনার লিঙ্গ সুস্থ ও নিরাপদ রাখবে। এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আপেল জননাঙ্গে রক্ত সরবরাহ  বাড়ায়

এবং যৌন চাহিদা তীব্র করে ।

আপেলে ভিটামিন ‘এ’ ও ভিটামিন ‘বি১’ আছে যা লিঙ্গের আশেপাশে টিউমার হওয়া প্রতিরোধকরে।

 

৪। আপেল আপনার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে

আপেলে মজুদ দ্রবণীয় ফাইবার শরীরের কোলেস্টেরল এর মাত্রা কম করতে বেশ কার্যকরী । আপেলে মজুদ ফাইবার আপনার শরীরের bad cholesterol এর মাত্রা কম করতে সাহায্য করে । এছাড়াও good cholesterol এর মাত্রা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । রিসার্চে দেখা গিয়েছে প্রত্যেকদিন আপেল খেলে bad cholesterol মাত্রা 23 শতাংশ কম হতে পারে ।

 

৫। আপেল স্ট্রোকের সম্ভাবনা কম করে

গবেষনায় পাওয়া গিয়েছে নিয়মিত আপেল খেলে thrombotic(জমাট বাঁধা) স্ট্রোকের সংখ্যা কম হয়ে থাকে । স্ট্রোকে প্রত্যেক বছর অনেক মাঝবয়সী এবং প্রাপ্ত বয়সী লোক মারা যান । স্ট্রোককে রুখতে ফল এবং ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়াটা উচিত । আর আপেল যতেষ্ঠ ফাইবারযুক্ত একটি ফল ।

 

৬। আপেল ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে

আপেলে মজুদ Polyphemus রক্তের sugar level নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে । Polyphenols শরীরের carbohydrate এর শোষণ কম করে । যেটি শরীরের blood sugar level এর ওঠানামা নিয়ন্ত্রিত রাখে । এছাড়াও polyphenols শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত করতে সাহায্য করে । ইনসুলিন আমাদের শরীরের গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে । Polyphenols শরীরে ইনসুলিন উৎপাদন করতে সাহায্য করে । নিয়মিত আপেল খেলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য মিলতে পারে । ডায়াবেটিস এক মহামারির আকার ধারণ করছে এবং তাকে দূরে রাখার উপায় খুবই কম । প্রত্যেকদিন আপেল খেলে অল্প হলেও ডায়াবেটিসের মতন রোগকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে ।

 

৭। আপেল রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে

আপেলে মজুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । এইজন্য আপেল কে

নিয়মিত খাবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ।

 

৮। আপেল পিত্ত পাথর প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে

আপেলের অন্যতম উপকার গলব্লাডার স্টোন হওয়ার ঝুঁকি কম করা । আপেলে মজুদ ফাইবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে । কোলেস্টরলের অধিক মাত্রা গলব্লাডার স্টোন এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে । গলব্লাডার স্টোন থেকে বাঁচতে হলে নিয়মিত আপেল খাওয়াটা এক উপকারী অভ্যেস ।

 

৯। আপেল আপনার দাঁতকে মজবুত এবং সাদা করে

আপেলে মজুদ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা আপনার দাঁত এবং মাড়ি কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । আপেল কামড়ানোর সময়

যে রস আপনার দাঁতে লাগে সেই রস আপনার দাঁতকে পরিষ্কার এবং সাদা রাখতে সাহায্য করে ।

 

১০। আপেল ওজন কম করতেও উপকারী

গবেষনায় পাওয়া গিয়েছে যে, আপেল ওজন কম করতে সাহায্য করে । আপেলে মজুদ ফাইবার এবং জল শরীরে ক্যালোরি এর দরকার কমিয়ে দেয় । শরীরে ক্যালরি কম হলে ফ্যাট সেল থেকে শরীর ক্যালরি নিতে থাকে । এর থেকে শরীরের ফ্যাট সেল ক্ষয় হয় এবং শরীরের সামগ্রিক চর্বি সঞ্চয় কম হয় । এছাড়া আপেলে মজুদ কিছু প্রাকৃতিক পদার্থও ওজন কম করতে সাহায্য করে ।

 

১১। আপেল অ্যাজমা চিকিৎসায় সাহায্য করে

আপেল হল এক প্রাকৃতিক Inflammation (প্রদাহ) রোধ করার অন্যতম খাদ্যদ্রব্য । অ্যাজমা (Asthma) এবং ফুসফুসের বিভিন্ন infection এ আপেলের জুস এবং আপেলে মজুদ কেরাটিন উপকারী । আপেলে অধিকমাত্রায় ভিটামিন সি থাকায় আপেল কফ এবং রক্তজমাট হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে ।

 

১২। আপেল হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে

আপেলে মজুদ থাকা অধিক ফাইবার দেহকোষে অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে বাধা প্রদান করে । এছাড়া আপেল কোলেস্টেরল এবং স্ট্রোক থেকেও আমাদের সুরক্ষিত রাখতে পারে । যার ফলে আমাদের হৃদ রোগের ঝুকি অনেক কমে যায় ।

 

১৩। আপেল আর্থারাইটিস থেকেও বাঁচাতে পারে

আপেলে মজুদ quercetin, kaempferol এবং myricetin আর্থ্রাইটিস এবং হাড়ের inflammation সম্বন্ধিত রোগে কার্যকারী ।

আপেলে অধিক মাত্রায় ক্যালসিয়াম মজুদ থাকে যেটি হাড় এবং দাঁতকে মজবুত করতে সাহায্য করে । ক্যালসিয়াম osteoporosis এবং

আর্থারাইটিস থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে । সেইজন্য, আপেলকে নিজের খাদ্যে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ।

 

১৪। আপেল দৃষ্টিশক্তি মজবুত করতে কার্যকারী

দেখা গিয়েছে আপেল ছানি এবং জটিল ছানি থেকে বাঁচাতে কার্যকারী । এছাড়া আপেল আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং রাতে দেখার  ক্ষমতাকে

বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । আপেলে মজুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস চোখের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি দিতে

সাহায্য করে ।

 

১৫। আপেল আপনার ত্বককে তরুণ এবং সুন্দর রাখতে সাহায্য করে

আপেলে মজুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার ত্বককে তরুণ এবং সতেজ রাখতে কার্যকারী । আপেলের পেস্টের সাথে দুধ এবং মধু

মিলিয়ে ত্বকে লাগালে ত্বকের জেল্লা বাড়ে । যা আমরা অনেকেই চাই । (রেসিপি জানতে চাইলে কমেন্টস করুন )

 

উপরের আলোচনা থেকে আশা করি এতটুকু বুঝতে পেরেছেন, আপেল সত্যিই মানব শরীরের জন্য ভীষণ জরুরী । তাই নিয়মিত

একটি করে হলেও আপেল খাওয়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন । আশা করি খুব ভাল ফল পাবেন ।

 

সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।