কিডনি ভাল রাখার ১০ টি উপায়/টিপ্স
মানব দেহের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলির মধ্যে কিডনি অন্যতম।একজন  মানুষের শরীরে সাধারণত দুইটি কিডনি থাকে যেগুলো
শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে। কিডনি রোগ একটি নীরব ঘাতক রোগ।প্রতিবছর
অনেক মানুষ এই রোগে মৃত্যুবরণ করে। এই ধরণের রোগের চিকিৎসাও বেশ ব্যয়বহুল এবং নিয়ম তান্ত্রিকও বটে।তাই আগে
থেকেই কিডনির যত্ন নেয়া উচিত। তাই আজ জেনে নিন কিডনি ভালো রাখার ১০টি টিপ্স।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুনঃ
 প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত একজন স্বাভাবিক মানুষের জন্য। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি
খাওয়ার পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে কিডনিতে পাথর হয়না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম
অব্যাহত থাকে।
  • লবণ কম খানঃ
খাবারে অতিরিক্ত লবন খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র এক চা চামচ লবণের চাহিদা
থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন।বিশেষত খাবারে(টোকা লবণ)অতিরিক্ত
লবণ খাওয়া পরিহার করুন।
  • অতিরিক্ত প্রাণীজ আমিষ খাওয়া থেকে বিরত থাকুনঃ
গরুর মাংস, শুকরের মাংস ইত্যাদি খেলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।এমনকি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার,
ইন্সট্যান্ট নুডুলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে।খাবার তালিকায় অতিরিক্ত
আমিষ থাকলে কিডনির উপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দূর্বল কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।তাই প্রাণীজ আমিষ
এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় আমিষ রাখুন খাবার তালিকায়।
  • রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুনঃ
রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময়
১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ও লবণ কম খাওয়া জরুরি। মোট কথা
কিডনি ভাল রাখতে হলে উচ্চ রক্তচাপ জনিত অসুখও নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।তাই নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করান।
সুগার বেশি থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।উচ্চ রক্ত চাপের মত ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রোজোয্য।
  • ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানঃ
কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথা নাশক ওষুধগুলো কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়।
তাই যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন।সব সময় নিজের ডাক্তার নিজেই হওয়ার চেষ্টা থেকে বিরত
থাকুন।
  • প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন সি খাবেন নাঃ
মেডিক্যাল সাইন্স বলে,মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের
চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম বা এর কম
ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।এটাই শ্রেয়।
  • কোমল পানীয় ত্যাগ করুনঃ
অনেকেই পানির বদলে কোমল পানীয় বা বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকেন। এ ধরণের পানীয়গুলো কিডনির জন্য
অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং যখনই তৃষ্ণা পায় সাধারণ পানি পান করার চেষ্টা করুন।
  • ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুনঃ
ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস
পায়। ফলে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি এক পর্যায়ে গিয়ে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়।শুধু তাই নয় বিড়ি,সিগারেট বা মদ শরীরের
সকল অংশের জন্যই মারাত্বক ক্ষতিকর।
  • কিডনীর পরীক্ষা করানঃ
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারো কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হবার ঝুঁকি বেশি থাকে।
তাই যাদের কিডনি রোগের ঝুকি আছে বা কিডনিতে সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হয় তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো
উচিত।
কিডনির স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য উপরে কিছু টিপস দেওয়া হল এগুলো মেনে চলার চেষ্টা করুন।তবে সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই
কিডনি পরিক্ষা এবং ডাক্তারের স্বরাণাপন্ন হোন।ধন্যবাদ।